২০১৭ সালে রাজ্য সরকার এখানে ‘শোলে গ্রাম’ থিম পার্ক বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরিবেশবিদদের তীব্র আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়।
.jpeg.webp)
ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 14 August 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামনগরার শুকনো, ধূসর পাথুরে পাহাড়ি প্রান্তর, যেখানে একসময় গমগম করত বন্দুকের গর্জন, ঘোড়ার টগবগ আওয়াজ, আর প্রতিধ্বনিত হত গব্বর সিংয়ের ভয়ঙ্কর সংলাপ, আজ তা শান্ত, সবুজে মোড়া অভয়ারণ্য। ১৯৭৫ সালের কালজয়ী ছবি 'শোলে'র আইকনিক লোকেশন এখন রামদেবরা বেত্তা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যেখানে বসবাস বিপন্ন প্রজাতির শকুনের।
বেঙ্গালুরু থেকে মাত্র ৪০ কিমি দূরের এই জায়গাটি একসময় ‘সিপ্পি নগর’ নামে পরিচিত ছিল, কারণ শোলে-র শুটিং চলেছিল টানা কয়েক বছর। কিন্তু সেই সেট, কৃত্রিম গ্রাম, পাহাড়ি গুহা, সবই ভেঙে ফেলেছে বন দফতর। তার জায়গায় জন্ম নিয়েছে গাছপালা, ঘন সবুজ বন। প্রায় ৮০০ একরজুড়ে থাকা এই অভয়ারণ্যে এখন দীর্ঘঠোঁট, মিশরীয় এবং সাদা-রাম্পড শকুনের দেখা মেল, যদিও তারা সংখ্যায় মাত্র চার।
২০১৭ সালে রাজ্য সরকার এখানে ‘শোলে গ্রাম’ থিম পার্ক বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরিবেশবিদদের তীব্র আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়। তারা জানান, এতে শকুনের আবাসস্থল ধ্বংস হবে। শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিপ্রেমীরা জিতেছিলেন, সংরক্ষিত বন এলাকা আজও টিকে আছে।
প্রতিদিন প্রায় এক-দেড় হাজার মানুষ বেঙ্গালুরু-সহ নানা জায়গা থেকে এখানে আসেন। বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে যারা হিন্দি বোঝেন না, তারা শোলে-র ইতিহাস জানেন না। তবে কিছু হিন্দিভাষী দর্শক, যেমন বেঙ্গালুরুর অনসূ কিশোর ও সরাংশ, উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এই ভেবে যে, তারা দাঁড়িয়ে আছেন সেই পাহাড়ের পাদদেশে, যেখানে একসময় ‘ইয়ে দোস্তি’ গানের শুটিং হয়েছিল।
শোলে-র ‘ক্যারি ওয়েস্টার্ন’ ধাঁচের গল্প, গব্বর সিংয়ের ভয়াবহ চরিত্র, জয়-ভীরুর বন্ধুত্ব, সবই এখন সিনেমার ইতিহাস। ছবিটি মুম্বইয়ের মিনার্ভা থিয়েটারে টানা পাঁচ বছর চলেছিল। আজ, মুক্তির ৫০ বছর পূর্তিতে, ইতালিতে ছবির রিস্টোর করা প্রিন্ট প্রদর্শিত হচ্ছে, ইরানে বেরিয়েছে বিশেষ বিজ্ঞাপন।
কিন্তু রামদেবরা বেত্তায় আজ সেই স্মৃতি খুঁজে পাওয়া কঠিন। গাইডরা মাঝে মাঝে কিছু জায়গা দেখিয়ে বলেন, 'এখানেই শুটিং হয়েছিল' কিন্তু পরিচালক রমেশ সিপ্পিও হয়তো আজ এসে চিনতে পারবেন না ঠিক কোথায় তিনি কোন দৃশ্যের শ্যুট করেছিলেন। পাহাড়ের ধূসর পাথর এখন ঘন সবুজে ঢাকা।
তবু, আজও বাতাসে কোথাও যেন ভেসে আসে, 'ইন কুত্তো কে সামনে মত নাচনা, বাসন্তী!' কিংবা 'যো ডর গয়া, সমঝো মর গয়া।' সময় যতই পেরিয়ে যাক, পাহাড়ের আড়ালে গব্বরের হাসি হয়তো এখনও প্রতিধ্বনিত হয়, শুধু শোনার জন্য আর কেউ নেই।