1.webp)
শেষ আপডেট: 15 October 2023 20:29
শিকারপুর
অভিনয়ে: অঙ্কুশ, সন্দীপ্তা সেন, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস মণ্ডল
পরিচালনা: নির্ঝর মিত্র
সম্প্রচার: জি বাংলা সিনেমা
দ্য ওয়াল রেটিং - ৭/১০
সবুজ পাহাড়, কমলা সূর্যের আভায় আধো-অন্ধকার ‘শিকারপুর’। আর সেখানেই একের পর এক খুন হয়ে চলেছে। যাঁরা খুন হচ্ছেন তাঁদের সকলের পদবী আবার ঘোষ। দেবী চৌধুরাণীর মন্দিরের সামনেই হয় খুন। তাহলে কি দেবী চৌধুরাণীর অভিশাপের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে পরপর ঘটে চলা এই খুনগুলোর? মিথ কি তবে সত্যি হয়ে উঠছে!
সেই রহস্যের কিনারা করতে মাঠে নামে নবীন গোয়েন্দা কেষ্ট (অঙ্কুশ)। 'কেষ্ট গোয়েন্দা' হিসেবেই নিজের পরিচয় দেয় সে। সঙ্গে তার ‘ওস্তাদ’ দীনদয়াল বিশ্বাস (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়)। কেষ্টর প্রেমিকা চুমকির ভূমিকায় সন্দীপ্তা সেন। আর আছেন ‘মন্দার’ খ্যাত দেবাশিস মণ্ডল, যাঁকে দেখা গেছে পুলিশ ইনস্পেক্টর বিমানের ভূমিকায়। তাঁর আবার চুমকির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। বল্টুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কোরক সামন্ত। এছাড়াও একটি বিশেষ প্রতীকী চরিত্রে রয়েছেন সায়ন ঘোষ।
নির্ঝর মিত্রের 'শিকারপুর' আসলে রহস্যে ঘেরাএকটি থ্রিলার। যেখানে পরপর হওয়া খুনের কিনারা করতেই কেষ্ট গোয়েন্দা রূপে অঙ্কুশ আবির্ভূত হয়। অঙ্কুশের প্রথম ওয়েব সিরিজ শিকারপুর। সেটিই এখন ছবির আকারে পর্দায় এল। রবিবার সিনেমায় এই ছবির প্রিমিয়ার হয়েছে। চবিতে কেষ্ট এমন একজন গোয়েন্দা যে একদম পাশের বাড়ির ছেলের মতো। মজার ছলেই রহস্য উদ্ঘাটন করে সে।
বাঙালি গোয়েন্দা ফেলুদা কিংবা ব্যোমকেশের চেনা ছক ভাঙল 'কেষ্ট গোয়েন্দা'। অঙ্কুশ তাঁর প্রথম ওয়েব সিরিজে চমকে দিয়েছেন। শিকারপুর সিরিজটি চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়। ন'টি পর্বে বিভক্ত ছিল সিরিজটি। অন্যান্য সিরিজের থেকে এই সিরিজটি দৈর্ঘ্যে বেশ বড় ছিল, যেটিকে সরাসরি ফিল্মের আকার দিলে তা সুদীর্ঘ একটি ছবি হয়ে যেত। তাই জি বাংলা সিনেমা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, সিরিজটিকে ফিচার ফিল্ম আকারে এনে বড় পর্দা ও ছোট পর্দায় দেখানো হবে। নতুনভাবে এডিট করে সঠিক সময়ের মধ্যেই একটি টানটান রহস্য রোমাঞ্চ ছবি হয়ে উঠেছে শিকারপুর। এই প্রথম কোন ওয়েব সিরিজকে ফিল্মে রূপান্তরিত করা হল।
অঙ্কুশ নাচ বা কমেডি চরিত্রে বেশি জনপ্রিয় হলেও এই প্রথমবার গোয়েন্দাগিরিতে ছকভাঙা অভিনয় করেছেন। কেষ্ট গোয়েন্দাকে সবারই মনে ধরেছে। গুরুগম্ভীর গোয়েন্দা নয়, বরং যার কাছে যেতে ভয় করে না- তেমনই এক সত্যানুসন্ধানী এই কেষ্ট। ছবিতে কেষ্ট নিজেও এই প্রথম কোনও রহস্য সমাধান করতে নামে, তাও আবার হত্যা রহস্য। ছবিতে আগাগোড়া পাশের বাড়ির ছেলে লুকেই দেখা গেছে তাঁকে। সারা ছবিতে একবারও অঙ্কুশের অভিনয়ের সুর কাটেনি।
অঙ্কুশ ছাড়া যাঁর অভিনয়ের জন্য এ ছবি দেখা উচিত, তিনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। দীনদয়াল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ চরিত্রে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ছবির লাগাম নিজের হাতেই রেখেছেন। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। এই ছবির মেন্টর এবং সৃজনশীল নিবেদকও তিনি। দীনদয়াল বিশ্বাসের মেয়ে চুমকির চরিত্রে সন্দীপ্তা বেশ সপ্রতিভ পর্দায়। ধারাবাহিকের চেনা মুখ সন্দীপ্তা এই ছবিতে বেশ অন্যরকম। তাঁকে দেখতেও ভাল লেগেছে ছবিতে।
একের পর এক খুনের মাঝে সন্দীপ্তার দুর্গা প্রতিমার মতো স্নিগ্ধ মুখ, টলটলে চোখ মনকে শান্ত করে। থানার পুলিশের চরিত্রে লুক থেকে অভিনয়- সর্বত্রই মন্দার খ্যাত দেবাশিস মণ্ডল চমৎকার। কোরক সামন্ত বল্টুর চরিত্রে দর্শকদের প্রশংসা পাবেনই। নজর কেড়েছে জাদুকর সায়ন ঘোষের অভিনয়। আর একজনের অভিনয়ের কথা আলাদা করে বলতেই হয়, তিনি দেবেশ রায়চৌধুরী। গোটা ছবিতে সবচেয়ে সিনিয়র অভিনেতা তিনিই।
পরিচালক নির্ঝর মিত্রের 'শিকারপুর' বাংলা গোয়েন্দা থ্রিলার হিসাবে ভাল চেষ্টা বলতেই হয়। পরিচালকের সঙ্গে চিত্রনাট্য লিখেছেন সায়ক রায় এবং নীলাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁরাও নিজের কাজে বেশ সপ্রতিভ। ছোটখাটো খারাপ লাগাগুলো মাপ করে দেওয়াই যায়, কারণ এই ছবিতে চিরাচরিত গোয়েন্দা গল্পের ছক ভাঙা হয়েছে, যা অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নজর ঘুরিয়ে দেয়। নতুন এক গোয়েন্দা চরিত্রকে পর্দায় আনা, সেটাও আবার বাংলা মূলধারার ছবির ডান্সার হিরোকে দিয়ে, যা সত্যি বিরল প্রচেষ্টা। শিকারপুর দেখতে আরও ভাল লাগে চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফির জন্য।
আশা করা যায়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ভাল ভাল সিরিজগুলি এভাবে ফিল্মের আকারে আনা হবে। মূলস্রোতের দর্শকদের সবসময় সিরিজ দেখা হয়ে ওঠে না। সব শ্রেণির জন্য সিরিজকে ছবি বানালে ছবিগুলো আরও বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবে।