তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড ও টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত কাজ করলেও রবি কিষানকে প্রকৃত অর্থে অভিনেতা হিসেবে চিনতে শুরু করেছে হিন্দি দর্শক সম্প্রতি।

রবি কিষান
শেষ আপডেট: 23 July 2025 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড ও টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত কাজ করলেও রবি কিষানকে প্রকৃত অর্থে অভিনেতা হিসেবে চিনতে শুরু করেছে হিন্দি দর্শক সম্প্রতি। পরিচালক কিরণ রাওয়ের ২০২৩ সালের কমেডি-ড্রামা 'লাপাতা লেডিজ' ছবির পর থেকে তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ভোজপুরি ইন্ডাস্ট্রিতে সুপারস্টার হলেও হিন্দি ছবিতে তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে একটি ‘ছোট ছবি, নিজের কথায় যেটা ছিল একেবারে “ক্ষুদ্র”। অথচ তাতেই যেন খুলে গেল তাঁর অভিনয়ের রেঞ্জের নতুন দিক।
১৯৯২ সালে মিঠুন চক্রবর্তীর 'পিতাম্বর' ছবির হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন রবি কিষান। কিন্তু চেনা মুখ হয়ে উঠতে তাঁকে পেরোতে হয়েছে অনেক সংগ্রাম। সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে তিনি বলেন, “যারা জীবনে কঠিন সময় পার করেছে, তারা আমায় দেখে অনুপ্রাণিত হয়। কারণ আমি ওদের প্রতিনিধি।”
জীবনের শুরুর সেই কঠিন দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে রবি বলেন, “একসময় এতটাই গরিব ছিলাম যে এক পাত খিচুড়িতে ১২ জন খেতাম। খিচুড়ির মধ্যে থাকত সামান্য চাল, আর অনেক জল। ১০ বাই ১২ ফুটের ঘরে গাদাগাদি করে একে অপরের উপর শুতাম। বাইরে ছিল শৌচাগার। ওই দারিদ্র্য আমাকে ক্লান্ত করে তুলেছিল।”
কাস্টিজম বা জাতপাত তাঁর জীবনের অগ্রগতিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে রবি কিষান স্পষ্ট জানান, “আমি কোন জাতির, সেটা বড় কথা নয়। আমি ঠিক করেছিলাম, অজানাই মরতে চাই না। রবি কিষান হতেই হবে। আর তার আশীর্বাদ দিয়েছেন মহাদেব।”
কীভাবে নিজেকে তৈরি করবেন একজন? উত্তরে রবি বলেন, “প্রতিদিন জিম যাও। জিমের পয়সা না থাকলে রাস্তায় দৌড়ো। ৩–৫ কিমি দৌড়ো প্রতিদিন। ২০০টা পুশ-আপ মারো। রাতে ছানা ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল খাও, ছানা খাও। এই জিনিসগুলো সরকারও দেয় ফ্রিতে—ব্যবহার করো। সূর্যোদয়ের আগে উঠে পড়ো। সূর্যোদয় দেখো। সব বদলে যাবে।”
রবি বলেন, “আজ যেখানে যাই, কেউ না কেউ আমায় চিনে। ৭৫০টা সিনেমা করেছি। মঞ্চে, টিভিতে, বিভিন্ন ভাষায় কাজ করেছি। এটা কি কম কিছু? আমি ধন্য, এটা মহাদেবের দয়া।”
রবি কিষানকে এবার দেখা যাবে পরিচালক বিজয় কুমার অরোরার 'Son of Sardaar 2' ছবিতে। যেখানে তিনি অভিনয় করবেন অজয় দেবগণ ও ম্রুণাল ঠাকুরের সঙ্গে। এই ছবিতে রবি কিষান করবেন সেই চরিত্রটি, যা মূলত সঞ্জয় দত্তের জন্য ভেবে রাখা হয়েছিল।