আজ Rani Mukerji-র জন্মদিন। ৩০ বছরের এই দীর্ঘ কেরিয়ারের দিকে তাকালে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট—এই যাত্রা কখনও সহজ ছিল না, কিন্তু একেবারেই নিজের মতো করে তৈরি।

শেষ আপডেট: 21 March 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ Rani Mukerji-র জন্মদিন। ৩০ বছরের এই দীর্ঘ কেরিয়ারের দিকে তাকালে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট—এই যাত্রা কখনও সহজ ছিল না, কিন্তু একেবারেই নিজের মতো করে তৈরি।
রানির জন্ম একেবারে ফিল্মি পরিবারে। বাবা রাম মুখার্জি ছিলেন ফিল্মালয়া স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মা গায়িকা, আর আত্মীয়দের মধ্যে একাধিক নামী মানুষ। কিন্তু এই ব্যাকগ্রাউন্ড তাঁকে শর্টকাট দেয়নি। বরং শুরু থেকেই তাঁকে নিজের জায়গা নিজেকেই বানাতে হয়েছে।
অদ্ভুত ব্যাপার হল, ছোটবেলায় অভিনয়ই তাঁর লক্ষ্য ছিল না। হোম সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন করার পর তিনি জুয়েলারি বা ইন্টিরিয়র ডিজাইনার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কোর্সের তিন লাখ টাকার ফি তখন তাঁর নাগালের বাইরে ছিল। আর সেই বাধাই তাঁর জীবন ঘুরিয়ে দেয়—তিনি ঢুকে পড়েন অভিনয়ের জগতে, যেটা পরে তাঁর আসল জায়গা হয়ে ওঠে।
অনেকেই জানেন না, তাঁর শুরুটা হিন্দি সিনেমা দিয়ে নয়। ১৯৯৬ সালে বাবার পরিচালনায় বাংলা ছবি বিয়ের ফুল-এ অভিনয়ের মাধ্যমেই প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। তারপরই ধীরে ধীরে বলিউডে প্রবেশ। খুব বড়সড় ডেবিউ নয়, কিন্তু সেই শুরুটাই তাঁকে তৈরি করে দেয়।
এই সময়েই তাঁর আরেকটা বড় ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল—ওডিশি নাচ। দশম শ্রেণি থেকে প্রায় দশ বছর গুরু রবীন্দ্র অতিবুদ্ধির কাছে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এই ক্লাসিকাল ট্রেনিং তাঁর অভিনয়ে আলাদা মাত্রা এনে দেয়—চোখের অভিব্যক্তি, শরীরের ভাষা, সবকিছুতেই একটা নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।
কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে নিয়ে সন্দেহও কম ছিল না। তাঁর কণ্ঠস্বর নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কণ্ঠই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়। অন্যদের মতো নিজেকে বদলানোর চেষ্টা না করে, তিনি নিজের স্বর, নিজের স্টাইল নিয়েই এগিয়েছেন।
ধীরে ধীরে তিনি শুধু জনপ্রিয় নায়িকা নন, একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে জায়গা করে নেন। এমন চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যেগুলো সহজ নয়। গ্ল্যামারের বাইরে গিয়ে গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়ার একটা প্রবণতা সবসময়ই ছিল তাঁর মধ্যে।
এই যাত্রায় সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনই কিছু বড় সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি। অনেক বড় ছবির অফার ফিরিয়েছেন, আবার কখনও নিজের ওপর ভরসা না থাকায় কোনও চরিত্র প্রথমে করতে চাননি। কিন্তু পরে সেই চ্যালেঞ্জই নিয়েছেন। এই দ্বিধা আর সাহস—দুটোই তাঁর কেরিয়ারের অংশ।
একটা সময় তিনি একসঙ্গে সেরা অভিনেত্রী এবং সাপোর্টিং অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে ইতিহাস তৈরি করেন। আবার বহু বছর পর, ২০২৫ সালে Mrs. Chatterjee vs Norway ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতে যেন তাঁর তিন দশকের লড়াইকে একরকম স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শুধু মূলধারার সিনেমাতেই তিনি থেমে থাকেননি। আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি Gambling, Gods and LSD-এর মতো পরীক্ষামূলক কাজেও যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তিনি শুধু স্টারডমে আগ্রহী নন—গল্প আর বিষয়বস্তুর দিকেও তাঁর আলাদা টান রয়েছে।
সব মিলিয়ে, রানি মুখার্জির এই ৩০ বছরের পথচলা আসলে একটাই কথা বলে—তিনি পরিকল্পনা করে আসেননি, কিন্তু থেকে গেছেন নিজের জেদে। কোনও নির্দিষ্ট ইমেজে আটকে থাকেননি, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছেন, কিন্তু নিজের ভিতটা একই রেখেছেন।
আজ যখন নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা আসছেন, তখনও রানির নাম আলাদা করে উচ্চারিত হয়। কারণ তিনি শুধু হিট ছবির নায়িকা নন—তিনি এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি নিজের সীমা বারবার ভেঙেছেন।
জন্মদিনে তাঁকে দেখলে তাই মনে হয়, কিছু কেরিয়ার শুধু লম্বা হয় না—তারা গভীরও হয়। আর সেই গভীরতার নামই রানি মুখার্জি।