
শেষ আপডেট: 28 October 2023 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে, আমারই ঘরে থাকো আলো করে।' দুর্গা পুজোর ঠিক চার দিন পরেই ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে বঙ্গবাসী। বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো করেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক তারকারাও। ঠিক যেমন মুম্বইতে তারকাদের মধ্যে দেখা যায় গণেশ পুজোর প্রবণতা তেমনই কলকাতার চিত্র তারকারা অনেকেই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা করেন। আসলে গণেশ এবং লক্ষ্মী দুইই সম্পদের দেবতা। সেই কারণে ধনসম্পদের দেবীকে আরাধনা করতে পিছিয়ে নেই অভিনেত্রীরাও।
অভিনেত্রী দেবলীনা কুমারের বিয়ের পর এটিই প্রথম বছর। প্রতি বছর লক্ষ্মী পুজোয় খুব ধুমধাম করে পুজো হয় উত্তমকুমারের বাড়িতে। গৌরীদেবী যত দিন বেঁচে ছিলেন এই দায়িত্ব তিনি নিজেই পালন করতেন। এখন সেই ভার তুলে নিয়েছেন গৌরব এবং দেবলীনা। প্রসঙ্গত, দেবলীনার বাপের বাড়ি অর্থাৎ দেবাশিস কুমারের বাড়িতেও লক্ষ্মী পুজো হয়। ফলে বাপের বাড়ি না শ্বশুরবাড়ি কোনদিকটা সামলাবেন তা ভেবে খানিক চিন্তিতই ছিলেন দেবলীনা। তবে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে শ্বশুরবাড়ির পুজো ভাল ভাবেই উতরে গেছে। নিজে হাতে পায়েস বানিয়েছেন দেবলীনা।
লক্ষ্মীপুজো মানেই সেদিন লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের জগতে খুঁজে পাওয়া যাবে না অপরাজিতা আঢ্যকে। বরং সেদিন তিনি ব্যস্ত নাড়ু বানাতে, লক্ষ্মী প্রতিমাকে সাজাতে, অথবা ভোগ বানাতে। সকাল থেকেই অবশ্য সেদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় লেগে থাকে সাংবাদিকদের। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও সকলকে সমান ভাবে অভ্যর্থনা জানান অপরাজিতা। গা ভর্তি গয়নায় সকলের প্রিয় 'অপা-দি' যেন সাক্ষাৎ লক্ষ্মী প্রতিমা। একজন জিজ্ঞেস করলেন 'গয়নাগুলো কি সোনার?' অপরাজিতার সহাস্য উত্তর 'না না একেবারেই নয়, গয়না গয়নাই। সোনার হোক বা তামার কী আসে যায়।'
টলিউডের ফার্স্ট লেডি বলা হয় অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়কে। ইদানীং শ্যুটিংয়ের কাজে বেশিরভাগ সময়ে কলকাতার বাইরেই থাকেন। তবে লক্ষ্মী পুজোর দিনটাতে কলকাতাতেই কাটান অর্পিতা। নিজে হাতে খিচুড়ি ভোগ বানান। হাত লাগান 'ইন্ডাস্ট্রি'ও। রীতিমতো কোমর বেঁধে সিন্নি মাখেন প্রসেনজিত। লক্ষ্মী পুজোর আগে কলকাতায় আসে তৃষাণজিতও। সব মিলিয়ে লক্ষ্মী পুজোর অজুহাতে গোটা পরিবারের একসঙ্গে যেন একটা রিইউনিয়ন হয়ে যায়।
এ বছরের পুজোয় সদ্য মনের মানুষকে খুঁজে পেয়েছেন দেবাদৃতা। অভিনেতা রাহুল দেব বোসের সঙ্গেই গোটা পুজো কেটেছে তাঁর। দশমীর দিন দু'জনে স্বীকার করে নিয়েছেন সম্পর্কের কথা। লক্ষ্মী পুজোর দিনটাতেও দেবাদৃতার বাড়িতেই কাটালেন রাহুল। দু'জনে হাতে হাত মিলিয়ে পুজোর জোগাড় করলেন। শাড়ি পরে পাকা গৃহিণীর মতোই সব দিকটা সামাল দিলেন দেবাদৃতা। আর রাহুল মুগ্ধ নয়নে চেয়ে রইলেন প্রেয়সীর দিকে।
লক্ষ্মী পুজোর দিনটা 'বাবি' আর মা মিলে হাতে হাতেই সমস্ত কাজ করেন। বাবি মানে অভিনেতা অমর্ত্য এবং তাঁর মা টলিউডের এভারগ্রীন চৈতি ঘোষালের কথা বলা হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাটে প্রতি বছরই নিয়ম করে লক্ষ্মী পুজো করেন চৈতি। মা-কে একা কোনও কাজ করতে দিতে রাজি নন অমর্ত্য, সেই কারণে তিনি নিজেও খুব উৎসাহের সঙ্গে হাত লাগান পুজোর কাজে। কাছের বন্ধুবান্ধব অথবা পরিজনদের নিয়ে ঘরোয়া ভাবে পুজো করেন চৈতি এবং অমর্ত্য।