
ফিরোজ খান -মুমতাজ
শেষ আপডেট: 27 April 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোম্যান্টিক হিরো নয়, হিন্দি ছবির জগতে পুরুষ সিংহ নায়কদের অন্যতম হলেন ফিরোজ খান। অভিনয়ের থেকেও পুরুষালি চেহারার জন্য ফিরোজ খান তাঁর সময়ে চর্চায় শীর্ষে ছিলেন। তাঁর প্রেমে পড়েননি এমন নায়িকার সংখ্যা বিরল। স্বর্ণযুগের বলিউড নায়িকা মুমতাজের সঙ্গে ফিরোজ খানের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যেত। একাধিক ছবিও হিরো-হিরোইন রূপে তাঁরা একসঙ্গে করেছিলেন। পর্দার প্রেম কি বাস্তবেও জমেছিল এই জুটির?
ফিরোজ খান বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ছিলেন পারস্য বংশোদ্ভূত আর বাবা ছিলেন আফগান।
যে কারণে পশ্চিমী চেহারার ফিরোজ খান ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেই সবার নজর কেড়ে নেন। আসল নাম ছিল জুলফিকার আলি শাহ খান। ছায়াছবির জগতে এসে, সেই নাম বদলে তিনি হন ফিরোজ খান।

নিজের সুপুরুষ চেহারা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন তিনি। মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর বেঙ্গালুরু থেকে বম্বে চলে আসা। তিনি ১৯৬৫ সালে 'আরজু' ছবি দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। যে ছবি তাঁকে তারকা খ্যাতি এনে দেয়। মুমতাজ, হেমা মালিনী, রেখা, জিনাত আমন একাধিক অভিনেত্রী তাঁর নায়িকা হয়েছেন। 'ধর্মাত্মা', 'কোরবানি', 'জানবাজ', 'মেলা' এবং 'ওয়েলকাম'-এর মতো সুপারহিট ছবি করেছেন তিনি।
ফিরোজ খান আর মুমতাজের অনস্ক্রিন জুটি পর্দায় রীতিমতো ঝড় তুলত। সেসময় প্রেমের সম্পর্ক শোনা যেত তাঁদের। ফিরোজ কিন্তু মুমতাজকে মন দিয়েছিলেন। দু'জনের ধর্ম এক হওয়াতে সম্পর্ক এগোতে সময় লাগেনি।

কিন্তু মুমতাজ ছিলেন প্রেমে ঘা খাওয়া মেয়ে। এরআগে শাম্মি কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে ছিল মুমতাজের। শাম্মি মুমতাজকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেও তাঁর পেছনে ছিল একটি শর্ত। এই বিয়ে করলে মুমতাজকে অভিনয় ছেড়ে কাপুর পরিবারের স্ত্রী হয়েই থাকতে হত। রাজি হননি মুমতাজ।
ফিরোজের ভালবাসাকে মুমতাজ বলেছিলেন 'হ্রদের জলে ঝাঁপ দেওয়া'। কোনও ভাবেই ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্ককে বিয়েতে পরিণতি দিতে চাননি মুমতাজ। কিন্তু দুজনের বন্ধুত্ব আজীবন ছিল। ফিরোজের ভালবাসা কিন্তু মুমতাজের জন্য রয়ে গিয়েছিল।
আসলে মুমতাজ জানতেন ফিরোজ বহুগামী পুরুষ। সুন্দরী স্ত্রী ও তিন সন্তান থাকা সত্ত্বেও এয়ারহোস্টেস জ্যোতিকা ধনরাজগীরের প্রেমে পড়েছিলেন ফিরোজ।
জ্যোতিকা ফিরোজকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও ফিরোজ তাঁর প্রথম বিবাহ থেকে বেরোতে চাননি। অথচ স্ত্রীর কাছে গোপন রাখেন এই পরকীয়া। স্ত্রী জানার পর তীব্র অশান্তি চলেছিল এক বছর। যদিও সংসার ভাঙেনি।

অপর প্রান্তে মুমতাজ ১৯৭৪ সালে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবনীকে। কিন্তু ললাট লিখন বদলাবে কে? স্বামী-স্ত্রী ফিরোজ-মুমতাজ হননি ঠিকই। কিন্তু পরবর্তী কালে তাঁদের ছেলে-মেয়ে মন দিল দু'জন দু'জনকে। ২০০৫ সালে ফিরোজ খান পুত্র ফারদিন খান বিয়ে করেন মুমতাজ কন্যা নাতাশা মাধবনীকে। সম্পর্কের টুইস্ট বোধহয় একেই বলে। ফিরোজ-মুমতাজের বন্ধুত্ব প্রেম বদলে গেল পারিবারিক সম্পর্কে। প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে তাঁরা হয়ে গেলেন বেয়াই-বেয়ান।