
শেষ আপডেট: 27 August 2021 13:44
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে বিষয়টা কল্পনাই করা যায়না। তালিবান সাম্রাজ্যের অধীন কাবুল সহ সমগ্র আফগানিস্তান এখন অগ্নিগর্ভ। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে সন্ত্রস্ত খবর এখন আফগানিস্তান নিয়ে। সেলেব-মহল থেকে রাজনৈতিক মহল সকলেই লিখছেন আফগানিস্তান নিয়ে। আফগানিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত গোটা পৃথিবীর মানুষ। ভারতবর্ষ থেকে কর্মসূত্রে আফগানিস্তান যাওয়া ভারতীয়রা, বাঙালিরা প্রাণ হাতে নিয়ে ফিরে আসছেন নিজের দেশে। 'তালিবান' নামটা শুনলেই আমরা ভয় পাই। অথচ সত্তরের দশকে এই আফগানিস্তানের নাগরিক ও সরকার একটি ভারতীয় ছবির শ্যুটিং করতে সাহায্য করেছিলেন।
হেমা মালিনীকে 'বেবি' বলে ডাকার একমাত্র অধিকার ছিল ফিরোজ খানের। তিনি প্রথম ও শেষজন যিনি হেমাকে 'বেবি' বলে সম্বোধন করেন প্রথম পরিচয়ে। ছবি সাইন করাতে এসে হেমাকে 'বেবি' ডেকে বসেন ফিরোজ। যা শুনে হতভম্ব হয়ে যান হেমা। সবচেয়ে বেশি চমকে গেছিলেন হেমার মা জয়া চক্রবর্তী। কারণ ইন্ডাস্ট্রির সবাই হেমাজী বলেই ডাকত তাঁকে। এমন অদ্ভুত দুঃসাহসী ডাকে হেমা বেশ অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু পরে ফিরোজ খানের সেন্স অফ হিউমার দেখে হেমা বেশ পুলকিত হন।
ফিরোজ খান কিন্তু হেমার উপর বেশ অধিকারবোধ ফলিয়েছিলেন 'ধর্মাত্মা'র জন্য চুক্তি সাইন করাতে এসে। ফিরোজ খান হেমাকে প্রথমেই পরিস্কার করে বলে দিয়েছিলেন ছবির প্রথম ভাগ জুড়েই শুধু হেমা থাকবেন এবং এই রেশমার রোল হেমাকেই করতে হবে। দ্বিতীয় ভাগে ফিরোজ খানের সঙ্গে অভিনয় করেন রেখা।
ফিরোজ হেমাকে বলেন "তুমি না বলতে পারবেনা বেবি। আর এই রেশমা তোমাকে আইকনিক বানিয়ে দেবে।"
ফিরোজ খানকে 'না' বলেননি হেমা। ভালো চিত্রনাট্য আর অমন কাবুল সুন্দরীর গ্ল্যামারাস রোল হেমার পছন্দ হয়েছিল। হেমাকে সারাজীবন ফিরোজ 'বেবি' বলেই ডেকে এসেছিলেন। ফিরোজ খানের প্রয়াণে অকপটে সে কথা বলেছিলেন হেমা মালিনী।
https://youtu.be/NexdGIGHtqM
রেখা তখন বেশ নবাগতা। উঁচু কপাল বেশ শ্যামবর্ণা। বরং তখন হেমা অনেক বেশি গ্ল্যামারাস, স্টার হিসেবেও বড়। আর 'ধর্মাত্মা'র মতো এত চোখ ঝলসানো সুন্দরী হেমাকে খুব কম ছবিতেই লেগেছে। রেখা নতুন হলেও যৌন আবেদনে হেমার উচ্চকিত রূপের সঙ্গে টক্কর দিয়েছিলেন। বিশেষত রেখার ঠোঁটের উপর তিল আর হলুদ শিফন।
আর দুই নায়িকার যৌবন এসে পড়েছিল ফিরোজ খানের পুরুষালি বুকে। এছাড়াও ছবিতে ছিলেন হেলেন ও ড্যানি ডেনজংপা। ড্যানি ডেনজংপার ক্যারিয়ারেও এ ছবি স্মরণীয়।
https://youtu.be/Fn8p0H6o5YU
সত্তর দশকের মাঝামাঝি আফগানিস্তান তখন অনেক বেশি শান্ত ছিল। তবু একেবারেই যে নির্বিবাদী স্থান ছিল তা তো নয়। 'ধর্মাত্মা'-ই আফগানিস্তানে শ্যুটিং হওয়া প্রথম হিন্দি ছবি।
কাবুল বিমানবন্দরে হেমা, ফিরোজ সহ 'ধর্মাত্মা' ইউনিট প্রথম ল্যান্ড করেন। কাবুল বিমানবন্দর তখন অনেক ছোট্ট, সাদামাটা। কাছাকাছি হোটেলেই উঠল শ্যুটিং পার্টি। নির্বিঘ্নেই হয়েছিল ছবির শ্যুটিং।
https://youtu.be/QsrB3hX5QIg
শ্যুটিং এর আগে কিছু সময় তাবুর ভিতর থাকতে হত অভিনেতা অভিনেত্রীদের। বেশি ঠান্ডা হওয়ায় শ্যুটিং করতে খুব একটা ক্লান্তিও আসেনি। গরমের রেশ কাবুলে তখন কমই ছিল। সেরকম সময় দেখেই শ্যুটিং ঠিক করেন ফিরোজ খান এবং পুরো ট্রিপটাই খুব সুন্দর ব্যবস্থা করে পরিচালনা করেন ফিরোজ খান।
হেমার বাবা মা দুজনেই গেছিলেন মেয়ের সঙ্গে। আফগানিস্তানের মতো জায়গায় তাঁরা মেয়েকে একা ছাড়েননি। যদিও হেমার মা জয়া চক্রবর্তী সব ছবিতেই মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তিনি অনেক ছবিও প্রযোজনা করেছেন।
হেমারা নিরামিষভোজী হওয়ায় চাপাটি কিনে খেতেন। সন্ধ্যের দিকে ক্যাম্প-ফায়ার করে সকলে যখন গল্প করতেন তখন হেমাও নিজের মাকে ডেকে নিতেন গল্প আসরে।
হেমা মালিনীর বাবার আরও ভালো লেগেছিল যখন তাঁদের বাস খাইবার পাস দিয়ে যাচ্ছিল। হেমার বাবা স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েছিলেন, কারণ খাইবার পাসের কথা তিনি ইতিহাস বইতে পড়েছিলেন। সেটার উপর দিয়ে যাচ্ছেন যা তাঁর কাছে ছিল স্বপ্ন সত্যি হবার মতো আনন্দঘন মুহূর্ত।
হেমা যদিও কিছু লঙ কুর্তা আর দাড়িওয়ালা লোক দেখে তালিবান বলে বেশ ভয় পেয়েছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে কিছু সজ্জন কাবুলিওয়ালারও সন্ধান পাওয়া যায়।
আফগানিস্তানের মরু প্রান্তর আর পর্বতের মাঝে শ্যুট হওয়া গান 'ক্যায়া খুব লাগতি হো' আজও আইকনিক। ফিরোজ লিপে মুকেশ আর হেমা লিপে এক অনালোচিত শিল্পী কাঞ্চন গেয়েছিলেন। কাঞ্চন ফিরোজ খানের ছবির হাত ধরেই তখন স্টার হয়ে যান। কাবুলের ধূ ধূ প্রান্তর আর রোদের ঝলকানিতে হেমার উজ্জ্বল গাত্রবর্ণ যেন আরও বেশি গ্ল্যামারাস লেগেছিল।
'ধর্মাত্মা' ছবির টাইটেল কার্ডের শুরুতেই আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট, গর্ভমেন্ট ও ঐ দেশের নাগরিকদের প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ফিরোজ খান। যাদের সাহায্য ছাড়া ভারত এমন একটি কালজয়ী ছবির দুর্দান্ত আউটডোর দৃশ্য কখনও পেতইনা।