বৃহস্পতিবার। রাত প্রায় নটা। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কারস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া অফিসঘরে হাজির হচ্ছেন DAEI-এর ‘প্রাক্তন’ পরিচালকরা। সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। প্রাথমিকভাবে যা জানা, ফেডারেশন সভাপতি পরিচালকদের সঙ্গে এক নৈশ চা আড্ডায় মেতেছেন।

স্বরূপ বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 6 June 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার। রাত প্রায় নটা। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কারস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া অফিসঘরে হাজির হচ্ছেন DAEI-এর ‘প্রাক্তন’ পরিচালকরা। সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। প্রাথমিকভাবে যা জানা, ফেডারেশন সভাপতি পরিচালকদের সঙ্গে এক নৈশ চা আড্ডায় মেতেছেন।
পরিচালকদের ‘একাংশ’ যাঁরা এই আড্ডায় ছিলেন, তাঁরা সদ্য DAEI ছেড়েছেন। শুধু তাই নয়, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এই পরিচালকরাই। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে করা মামলা থেকেও সরে এসেছেন কিছু পরিচালক। এখানেই শেষ নয়, গত দু’দিন আগে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কারস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-র ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়।
ক্যাপশনে লেখা হয়—‘দেরিতে হলেও সম্মানীয় পরিচালকরা যে কলাকুশলীদের অধিকার রক্ষার জন্য ফেডারেশনের হার না মানা লড়াইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন, তাতে সত্যিই আমরা অত্যন্ত আপ্লুত। ফেডারেশনের প্রত্যেক কলাকুশলীর পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’
ভিডিওতে দেখা যায়, এই পরিচালকরাই বলেছেন, কিছু মানুষ, ‘ব্যক্তিগত কার্যসিদ্ধির জন্য তাঁদের এবং ফেডারেশনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে, ইন্ডাস্ট্রি ভেঙে দেওয়া ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য’, কেউ বলেছেন, ‘ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে,’ কেউ বলেছেন, ‘অনুমতি ছাড়াই মামলা করা হয়েছে’। এবং কেউ বলেছেন, ‘ফেডারেশনে ছিলাম, আছি থাকব’। কিন্তু কারা এই ‘দূরত্ব’, ‘ব্যক্তিগত কার্যসিদ্ধি’, ‘মিথ্যে মামলা’র জন্য কারা দায়ী, তা বলেননি ‘অভিযোগকারী’ পরিচালকরা।
‘অভিযোগের ভিডিও’ প্রকাশিত হওয়ার পর, সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নৈশ চা আড্ডায় ডাক পেলেন তাঁরা। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর, সেই আড্ডা চলল প্রায় দু’ঘন্টা। সূত্রের খবর, সেই আলোচনায় পরিচালকদের ‘টেকনিশিয়ান’ সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে শোনেন সভাপতি। এও বলেন, ‘সমস্যার সমাধান খুব শীঘ্রই মিলবে,’ এছাড়া এও বলা হয়ে, এই নৈশ চা আড্ডা নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে, এবং তাতেই পরিচালক এবং ফেডারেশনদের ‘দূরত্ব’ কমবে। আড্ডা শেষে সাংবাদিক বৈঠক হয়। স্বরূপ বলেন, ‘পরিচালকদের সঙ্গে ফেডারেশনের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, কারণ এক পর্দা ছিল। এক ‘পক্ষ’ তৈরি করা হয়েছিল। আমরা নিয়মিত একসঙ্গে বসব, কথা বলব, আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে।’ পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘আমাদের সমস্যাগুলো আজ আড্ডায় উঠে এসেছে। আগামীদিনে এই সমস্যার সমাধানও আলোচনার মাধ্যমেই হবে, ’। পরিচালক শ্রীজিৎ রায় বললেন, ‘সংসারের সমস্যা সংসারেই মিটবে, তা বাইরে যাবে না।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগে এক সংবাদমাধ্যমে DAEI সভাপতি সুব্রত সেন, সম্পাদক সুদেষ্ণা রায়ের বক্তব্যে ছিল এক—‘কী কারণে সদস্যরা গিল্ড ছাড়ছেন আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা গিল্ড ছাড়ছি না। একই ভাবে ১৫জন পরিচালক ফেডারেশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তাঁরাও পিছু হটছেন না। এর বাইরে কিছু বলার নেই।’ কিন্তু না, সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দু’জন পরিচালক সরে দাঁড়িয়েছেন মামলা থেকে। পরিচালক অমিত দাস এবং অয়ন সেনগুপ্ত। পরিচালক অয়নকে ফোনে ধরা না গেলও অমিত বলেন, ‘কী কারণে আমি মামলা প্রত্যাহার করেছি, তা আমি বিশদে ফেডারেশন সভাপতিকে জানিয়েছি, এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই,‘
সূত্রের খবর, ‘অমিত, স্বরূপবাবুর সঙ্গে কথা বলে মুগ্ধ। গতকাল যাঁরা এসেছিলেন আড্ডায়, তাঁরা প্রত্যেকে সভাপতির বক্তব্যে পূর্ণ আস্থা জানিয়েছেন, এবং তাঁরা উপলবদ্ধি করেছেন, এতদিন তাঁরা বিপথে চালিত হয়েছিলেন।’ অন্যদিকে, DAEI সম্পাদক সুদেষ্ণা রায়কে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’