
শেষ আপডেট: 5 July 2023 10:34
রবিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর প্রধান গেট বন্ধই ছিল। অগত্যা পাশের ছোট গেট খুলে ঢুকতে হল। সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল ভূমি'স টিম লেখা সাদা ভ্যানিটি ভ্যান। ফ্লোরে তখন চলছে 'দম লাগা কে হাইশা' খ্যাত অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরের বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং। ফ্লোরের দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি মারতেই বেশ খানিকটা অন্ধকার, তারপরেই চোখে পড়ল কাঁচা হলুদ রঙের সালোয়ার স্যুটে তিনি বেশ খোশমেজাজে শট দিচ্ছেন।

বলিউডের নায়িকা হিসেবে তাঁর হাতেখড়ি আর পাঁচজন অভিনেত্রীর মত নয়। যশরাজ ফিল্মসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে ভূমির সফর শুরু হয়। তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি 'দম লাগা কে হাইশা 'র জন্য যে নায়িকাকে নির্বাচন প্রথমে করা হয় পরবর্তী সময়ে তিনি নাকচ করলে যশরাজ ফিল্মসের চেয়ারম্যান তথা প্রযোজক পরিচালক আদিত্য চোপড়া ভূমিকে এই ছবির অফার দেন। ততদিনে আয়ুষ্মান খুরানা বলিউডের একজন জনপ্রিয় নায়ক। তাঁর বিপরীতে ভূমি এই ছবিতে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে স্থুলকায়া শিক্ষিত এক গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এই ছবির হাত ধরেই তিনি পেয়েছিলেন সেরা ডেবিউ অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। এরপর একে একে অভিনেত্রী 'লাস্ট স্টোরি'স', 'বাধাই দো', 'বালা', 'টয়লেট:এক প্রেম কথা’,-এর মতো ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেন। এই প্রতিটি ছবিতেই কোনও না কোনও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। শুধু তাই নয় 'সোনচিড়িয়া,' 'ভিড়', 'আফওয়া’-এর মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছেন। 'বাধাই দো' সিনেমায় সমকামী চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন।


গত শনিবার রাতেই বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলে বিজ্ঞাপনে শ্যুটিংয়ের জন্য তিনি কলকাতায় আসেন। রবিবার সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওর শ্যুটিং ফ্লোরে তিনি ছিলেন। দুপুর বারোটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তিনি এখানে শ্যুটিং করেন। ভূমির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিকরা বেশ কিছু সময় ধরেই স্টুডিও চত্বরে ছিলেন। সাংবাদিকরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন জেনে দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের আগেই মিষ্টি হেসে তিনি হাতজোড় করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন। এরপরে তিনি সাংবাদিকদের টেপ রেকর্ডারের সামনে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মুখোমুখি হন।
যশরাজ ফিল্মসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কেরিয়ার শুরু। সেই প্রযোজক সংস্থার ছবিতেই প্রথম অভিনয় করে বলিউডে এখন তিনি প্রথম সারির একজন নায়িকা। পুরো এই জার্নিটা তাঁর কেমন ছিল?
'একটা সময় আমি প্রচুর অডিশন দিয়েছি। সেই সময় পুরো ব্যাপারটা নিয়ে ঘেঁটে গেছিলাম। এই আট বছরে এইটুকু বুঝেছি যাঁরা নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে আসছেন সিনিয়রদের উচিৎ তাদের প্রতি সহমর্মী হওয়া। তাঁদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে সাহায্য করা। সব সময় নতুন কিছু শেখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে নিজের পারফরমেন্স আরও ভাল হয়।'


আপনার ছক ভাঙা চরিত্রে অভিনয় করতে অসুবিধা হয় না?
'আমার প্রথম ছবি দেখে সকলের ধারণা হয়েছিল যে আমি একটু অন্য ধরনের কাজ করতে চাই। সৌভাগ্যক্রমে তারপর থেকেই আমার কাছে সেই রকমই কাজের অফার আসে। আর মননশীল মানুষের সান্নিধ্যে কাজ করতে পারা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।'
এই প্রথম কলকাতা এলেন তাও প্রচারে নয়, বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই ভূমি হেসে জানান, 'দীর্ঘদিন কলকাতায় আসার আমার ইচ্ছে ছিল। এই শহরের মানুষ এত গুণী যাঁরা সিনেমা, সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেরার সেরা শিল্পীরা এই বাংলার। আমিও একজন শিল্পী হিসেবে কলকাতায় আসার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। তবে দুঃখের ব্যাপার খুব ব্যস্ত কর্মসূচি নিয়ে এসেছি তাই কলকাতা ঘুরে দেখার সময় হল না। বাড়ি থেকে আমাকে লম্বা ফর্দ দিয়েছে সেটাও কেনা সম্ভব হবে না। আমি তো এখানে এসে চুড়ি কিনতে বড় বাজারে যেতে চেয়েছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ঝাল মুড়ি, মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরব।'

গত ৮ বছরে নিজের জার্নির দিকে তাকালে আপনার কি মনে হয় ?
প্রশ্ন শুনেই ভূমির উত্তর, 'আমি এত গুণী মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি যে নিজে ঋদ্ধ হয়েছি। আমার অভিনীত সব চরিত্রই আমাকে কোনও না কোনও ভাবে প্রভাবিত করেছে। কম বেশি অনেক কিছুই শিখেছি। শুধু সিনেমার মাধ্যমে নয়, আমি ব্যক্তিগত জীবনেও আরও সমৃদ্ধ হতে চাই। আমি মুম্বইতে বড় হয়ে উঠলেও আমার পরিবারের বলিউডের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। বলা যেতে পারে আমি একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছি।'
বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীর সঙ্গে শ্যুটিং করার অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রশ্ন করতেই এই বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং-এর পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল হেসে ফেলে বলেন, 'এটি তো আমার বলিউড নায়িকার সঙ্গে প্রথম কাজ। ভূমি ভীষণ পেশাদার। আগে থেকে পরিচয় ছিল না। চিত্রনাট্য এবং শ্যুটিং-এর ফাইনাল ডেট সব কিছু নিয়ে ভূমির সঙ্গে ফোনেই কথা হয়েছিল । সরাসরি দেখা হল এই প্রথম। প্রচুর সময় পেয়েছি শ্যুট করবার জন্য। খুবই পেশাদার একজন মানুষ। গল্প গুজব করার সময় পাইনি। ওঁর বাঙালি খাবার নিয়ে খুবই আগ্রহ ছিল। কোথায় কী বাঙালি খাবার পাওয়া যায়, কোন বাঙালি থালি কোথায় ভাল সবই ভূমিকে বলেছি। ভূমি নিজস্ব রাঁধুনি, স্পট বয়, হেয়ার স্টাইলিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট, নিরাপত্তা রক্ষী সবাই সঙ্গে এসেছেন। ওঁর টিমে মোট নয়জন। দুপুরবেলা ওঁর নিজস্ব রাঁধুনি ডায়েট অনুযায়ী রান্না করেছেন। এই বিজ্ঞাপনে থিম অনুযায়ী ভূমিকে ডাবল রোলে দেখা যাবে। মূলত এটি 'ডিশ ওয়াশার বার'-এর বিজ্ঞাপন। একটা অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল। সেজন্য চেন্নাই থেকে অ্যাকশন মাস্টার রাজেশ ক্যানন আসেন। যিনি 'চেন্নাই এক্সপ্রেস', 'দাবাং' ইত্যাদি ছবির স্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। ফাইট সিকোয়েন্স পুরোই ওঁনার ডিজাইন করা। একটা সবুজ আরেকটা হলুদ রঙের জামাতে দেখা যাবে ভূমিকে। ভূমি ছাড়াও পুরো টিমকে আমাদের প্রোডাকশন থেকে শাড়ি, কলকাতার রসগোল্লা, সন্দেশ, মিষ্টি দইয়ের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে।' এই বিজ্ঞাপনের প্রযোজনার দায়িত্বে ছিল ফলো ফোকাস ফিল্মস প্রোডাকশন হাউস।
তিরুপতি মন্দিরে চুল দান ধনুষের, মুণ্ডিত মস্তকে অভিনেতার ছবি ভাইরাল