দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে আচমকাই ছড়িয়েছিল পরিচালক নিশিকান্ত কামাটের মৃত্যুর গুজব। পরে হায়দরাবাদের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে পরিচালকের অবস্থা সঙ্কটজনক। তবে তিনি মারা যাননি।
সূত্রের খবর, পরিচালক মিলাপ জাভেরি প্রথম টুইট করে জানান যে মারা গিয়েছেন নিশিকান্ত কামাট। যদিও তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের টুইট করেন মিলাপ। জানান হায়দরাবাদের যে বেসরকারি হাসপাতালে নিশিকান্তের চিকিৎসা চলছে সেখানকার একজনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। নিশিকান্ত কামাট ভেন্টিলেশনে রয়েছে এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তবে তিনি মারা যাননি। নিশিকান্তের জন্য সকলকে প্রার্থনা করার আবেদন জানান তিনি।
ইতিমধ্যেই হাসপাতালের তরফেও একই কথা জানানো হয়েছে। টুইট করেছেন অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ। তিনিও জানিয়েছেন যে নিশিকান্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন পরিচালক। হায়দরাবাদে চিকিৎসা চলছে তাঁর। বিগত কয়েকদিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
জুলাই মাসের ৩১ তারিখ হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন নিশিকান্ত। গত ১২ অগস্ট হাসপাতালের তরফে একটি বুলেটিনে বলা হয় জন্ডিস এবং তলপেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পরিচালক। চিকিৎসকরা সেই সময় জানান পরিচালকের অবস্থা সঙ্কটজনক তবে স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা আরও জানান যে বছর পঞ্চাশের নিশিকান্ত অনেকদিন ধরেই লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর লিভারের চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু জন্ডিসের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল নিশিকান্তের ক্রনিক রোগ লিভার সিরোসিস।
বলিউডে অন্য ঘরানার ছবির জন্য জনপ্রিয় ছিলেন নিশিকান্ত কামাট। ২০০৮ সালে বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন 'মুম্বই মেরি যান' ছবির হাত ধরে। কাস্ট করেছিলেন দুই অসামান্য অভিনেতা ইরফান খান এবং আর মাধবনকে। এরপর একে একে অজয়-টাবু অভিনীত 'দৃশ্যম', জন আব্রাহামের 'ফোর্স' এবং 'রকি হ্যান্ডসাম'-এ নিজের পরিচালনার দক্ষতায় দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন নিশিকান্ত। 'রকি হ্যান্ডসাম' ছবিতে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। পরিচালকের সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতা হিসেবেও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন নিশিকান্ত কামাট। তাঁর পরিচালনায় মালয়ালম ছবির রিমেক 'দৃশ্যম' দাগ কেটেছিল দর্শকদের মনে। সম্প্রতি অনিল কাপুরের ছেলে হর্ষবর্ধন কাপুর অভিনীত বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানির 'ভবেশ যোশী সুপারহিরো' ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
ইরফান খান অভিনীত 'মাদারি' ছবির পরিচালকও ছিলেন নিশিকান্ত কামাট। মারাঠি ছবির জগতেও তাঁর অবদান প্রচুর। মারাঠি ছবি 'ডোম্বিভালি ফাস্ট' দিয়েই পরিচালক হিসেবে ডেবিউ হয় নিশিকান্ত কামাটের। এই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। 'লাই ভারি' নামের আর একটি মারাঠি ছবির পরিচালনাও করেছেন তিনি। ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল এই সিনেমাটিও।