দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যুর পর বিভিন্ন বিষয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে বলিউড। একদল বলছেন, নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন সুশান্ত। কেউ বা বলছেন, বিটাউনের একদল লোকের আচরণ-ব্যবহারই সুশান্তকে এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন।
ইতিমধ্যেই বলিউডের 'এলিট ক্লাস'-এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে খোদ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকে। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে করণ জোহর, সলমন খান ও আরও অনেককে। এবার সলমনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আরও একজন। অভিনেত্রী জিয়া খানের মা। ২০১৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন জিয়া। মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল অভিনেত্রীর নিথর দেহ।
তদন্তের পর পুলিশের অনুমান ছিল ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন জিয়া। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নাম জড়ায় অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলির। শোনা যায়, আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজের সঙ্গে নাকি সম্পর্ক ছিল জিয়ার। তখনও বলিউডে ডেবিউ হয়নি সুরজের।
সম্প্রতি জিয়ার মা রাবিয়া আমিন অভিযোগ করেছেন যে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে জিয়ার মৃত্যুর তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন সলমন খান। এমনকি প্রাথমিক ভাবে সুরজ গ্রেফতার হলেও পরে সলমনের প্রভাবেই তিনি ছাড়া পান বলেও অভিযোগ করেছেন রাবিয়া।
সুশান্তের মৃত্যুয়ে শোকপ্রকাশ করে জিয়ার মা বলেন, "অনেক সময় নিছক মজা অনেকের মনে খুব যন্ত্রণা দেয়। বলিউডের এবার একটু ভাবে দরকার। এই বিষাক্ত মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। সুশান্তের মৃত্যু আমায় বারবার জিয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।"
রাবিয়া আরও বলেন যে, "জিয়ার মৃত্যুর পর এক সিবিআই অফিসার আমায় লন্ডন থেকে ডেকে পাঠান। জিয়ার মৃত্যুর তদন্ত করছিলেন ওই আধিকারিক। উনিই আমায় বলেন সলমন খান ওঁকে রোজ ফোন করছেন এবং বলছেন সুরজকে যাতে জেরা করা না হয়। কারণ সুরজকে সিনেমায় প্রোমোট করছেন সলমন। অনেক টাকা ঢেলেছেন। তাই ওর কিছু হলে সলমনের ক্ষতি হবে।"
প্রসঙ্গত, জিয়া খানের আত্মহত্যার ঘটনায় জামিনে মুক্তি পান সুরজ। তারপর নিজের ডেবিউ ফিল্মের শ্যুটিং করেন তিনি। আর এই ছবির প্রযোজক ছিলেন সলমন খান।
সুশান্তের মৃত্যুর পর সলমন খান এবং তাঁর আরও দুই ভাই আরবাজ এবং সোহেলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দাবাং ছবির পরিচালক অভিনব কাশ্যপ। খান ভাইয়েরা তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিনব।