দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে মুম্বই এবং বিহার পুলিশের দ্বন্দ্ব যেন থামছেই না। হাজার সমস্যার মধ্যে নতুন সংযোজন পাটনার আইপিএস অফিসারের কোয়ারেন্টাইনে থাকা।
গত ২ অগস্ট রবিবার, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত করতে পাটনা থেকে মুম্বই আসেন আইপিএস অফিসার বিনয় তিওয়ারি। কিন্তু তিনি আসার ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই তাঁকে কার্যত জোর করে একটি গেস্ট হাউসে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন হিসেবে আগামী ১৫ অগস্ট তাঁর কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হবে। তবে বিহার পুলিশের অভিযোগ তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্যই জেনেবুঝে এমনটা করেছে মুম্বই পুলিশ এবং বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন।
তবে বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে এ বার বলেছেন যে, আজকের মধ্যে যদি বিনয় তিওয়ারিকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া না হয় তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেবে বিহার পুলিশ। ডিজিপি সাফ জানিয়েছেন, বিএমসি এবং মুম্বই পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না।
প্রসঙ্গত এর আগে বিএমসি কর্তৃপক্ষকে বিহার পুলিশ জানিয়েছিল বিনয় তিওয়ারিকে যেন অন্তত কোয়ারেন্টাইন থেকে বের করে বিহারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিহার পুলিশ বলেছিল একজন আইপিএস অফিসারকে কার্যত 'জোর করে' কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ডিজিপি পাণ্ডে বলেন, "আমরা বিএমসিকে অনুরোধ করেছি যে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অফিসার বিনয় তিওয়ারিকে যেন ফেরত পাঠানো হয়। কারণ উনি একজন আইপিএস অফিসার। আর এটা পেশাদারের মতো আচরণ নয়। ওকে এমন ভাবে আটকে রাখা হয়েছে যেন উনি গ্রেফতার হয়েছেন।"
এই প্রসঙ্গে গত ৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টও জানায় যে, বিএমসি-র এ হেন আচরণ সর্বসমক্ষে মোটেও ভাল বার্তা দেয়নি। বরং তদন্তের গুরুত্ব বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল বিএমসি-র। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কথায়, “বিএমসি-র এ হেন আচরণ মোটেও সঠিক বার্তা দেয়নি। মুম্বই পুলিশের সম্মানের ক্ষেত্রে এটা মোটেও ঠিক হয়নি। পাটনার ওই আইপিএস অফিসার এখানে তদন্ত করতে এসেছিলেন। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের উচিত ছিল তাঁর ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করা।”
তবে ওই সমালোচনার মধ্যেও বিএমসি-র অ্যাডিশনাল মিউনিসিপাল কমিশনার পাটনার আইজিপি-কে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন যে তাঁরা কেবল কোয়ারেন্টাইন নিয়ে ভারত সরকারের গাইডলাইন মেনে চলছেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে আইপিএস বিনয় তিওয়ারিকে। বিএমসি কোনও নিয়ম ভাঙতে রাজি নয়। পাশাপাশি ওই অ্যাডিশনাল মিউনিসিপাল কমিশনার আরও বলেছেন যে, প্রয়োজনে জুম, গুগল মিট, জিও মিট—-এইসব প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে কাজ এগিয়ে নিতে পারেন ওই তদন্তকারী আধিকারিক। যেমনটা এই লকডাউনে বিএমসি-র কর্মী-আধিকারিকরাও করছেন।
এরপরই আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে। তিনি জানিয়েছেন, আজকের দিন শেষ হওয়ার মধ্যে বিনয় তিওয়ারিকে ছাড়া না হলে আদালতে যাবে বিহার পুলিশ।