দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই নাকি মেটানো হত অভিনেতার প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডের ফ্ল্যাটের ইএমআই। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর সূত্রে নাকি এমন খবর পাওয়া গিয়েছে। সুশান্তের প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতার বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ নাকি এনেছেন ইডির এক তদন্তকারী আধিকারিক।
গতকাল ওই প্রতিবেদনে প্রকাশের পর থেকেই বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন অঙ্কিতা। গতকাল রাতেই টুইট করে অঙ্কিতা তাঁর ফ্ল্যাটের বেশ কিছু কাগজপত্রের ছবি শেয়ার করেন। ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র ছাড়াও সেখানে ছিল ইএমআই দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বিবরণ।
https://twitter.com/anky1912/status/1294341497513365506?s=19
এইসব ছবি শেয়ার করে অঙ্কিতা টুইটে লিখেছেন, "সমস্ত অভিযোগের জবাব দিচ্ছি। আমার পক্ষে যতটা স্বচ্ছ হওয়া সম্ভব ততটাই হলাম। আমার ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র ছাড়াও ২০১৯-এর পয়লা জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ রয়েছে। যেখান থেকে দেখা যাচ্ছে প্রতি মাসে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই ইএমআই-এর টাকা কাটা হয়েছে। ওর বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।"
গতকালের ওই নির্দিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল মুম্বইয়ের মালাড অঞ্চলের একটি ফ্ল্যাটে নাকি থাকেন অঙ্কিতা লোখান্ডে। এই ফ্ল্যাটের দাম নাকি সাড়ে চার কোটি টাকা। আর এই টাকা সুশান্তই নাকি বিভিন্ন কিস্তিতে মিটিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় হইচই। যদিও প্রতিবেদন প্রকাশের খানিকক্ষণের মধ্যেই টুইট করে নিজের তরফের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছেন অঙ্কিতা।
অন্যদিকে গতকাল ইডির তরফে জানানো হয়েছে যে সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে রিয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও রহস্যজনক লেনদেন হয়নি। তদন্তের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁদের তদন্তে এমন কোনও সূত্র তাঁরা খুঁজে পাননি।
প্রসঙ্গত রিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এনে পাটনায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন সুশান্তের বাবা কে কে সিং। সেই এফআইআর-এর ভিত্তিতে আর্থিক তছরুপের মামলাও দায়ের করে ইডি। রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর ভাই-মা-বাবা ছাড়াও সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদী, হাউস ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা, সুশান্তের বন্ধু ও ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানি এবং সুশান্তের দিদি মিতু সিংকে জেরা করেছিলেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। রিয়াকে মোট তিনবার এবং তাঁর ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে দু'বার জেরা করা হয়।