পোর্শে-ফেরারির শখেই বিপদে দুলকার সলমন! ভুটান থেকে ভারতে বিলাসবহুল গাড়ি পাচারে শুল্ক বিভাগের তল্লাশিতে নাম জড়াল জনপ্রিয় অভিনেতার।

দুলকার সলমন
শেষ আপডেট: 24 September 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুটান থেকে ভারতে বিলাসবহুল গাড়ি পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছে শুল্ক বিভাগ (Customs Commissionerate)। ‘অপারেশন নামখোর’ নামে এই অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কেরালার ৩০টিরও বেশি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দুলকার সলমন এবং অভিনেতা অমিত চক্কালক্কালের বাড়ি থেকেও শুল্ক বিভাগ গাড়ি জব্দ করেছে।
শুল্ক বিভাগের প্রিভেন্টিভ কমিশনার টি. তিজু জানান, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৬টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। দুলকার সলমনের বাড়ি থেকে দুটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এবং অভিনেতা অমিত চক্কালক্কালের বাড়ি থেকে ছয়টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে অভিনেতা-পরিচালক পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও কোনও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।
তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারীরা কয়ম্বত্তূর-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভুটান থেকে অবৈধভাবে এই গাড়িগুলো ভারতে নিয়ে আসে। শুল্ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা গত পাঁচ-ছয় মাসের তদন্তে কেরালায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি এমন গাড়ি শনাক্ত করেছেন।
কীভাবে এই পাচার চক্র কাজ করে?
নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো গাড়ি ভারতে আমদানি করা যায় না, শুধু 'ট্রান্সফার অফ রেসিডেন্স' নিয়ম ছাড়া। এক্ষেত্রেও মালিককে তিন বছর বিদেশে গাড়ি ব্যবহার করতে হয় এবং ১৬০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।
শুল্ক কর্মকর্তাদের মতে, পাচারকারীরা এই নিয়ম লঙ্ঘন করে পর্যটকদের পরিচয়ে বা গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে কন্টেইনারে করে ভারতে গাড়ি প্রবেশ করায়। এরপর জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ও সিল ব্যবহার করা হত।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এমনকি পরিবহণ ওয়েবসাইটেও কারচুপি করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালে তৈরি একটি গাড়িকে ২০০৫ সালে প্রথমবার রেজিস্টার দেখানো হয়েছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি গুরুতর হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।
দুলকার সলমনের গাড়ির শখ
দুলকার সলমনের কাছে অনেক বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে। তার গাড়ির সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য কিছু গাড়ি হল:
ফেরারি ২৯৬ জিটিবি: এটি দুলকারের গ্যারেজে থাকা প্রথম হাইব্রিড ফেরারি, যার দাম ভারতে প্রায় ৫.৮৮ কোটি টাকা।
পোরশে ৯১১ জিটি৩: এই গাড়িটি দুলকারের কাছে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। তিনি এটিকে তার সংগ্রহের 'সবচেয়ে সেরা যন্ত্র' বলে অভিহিত করেছেন।
মার্সেডিজ-বেঞ্জ এসএলএস এএমজি: এই আইকনিক গাড়িটি গত আট বছর ধরে দুলকারের কাছে আছে।
বিএমডব্লিউ এম৩ ই৪৬: এই ম্যানুয়াল মডেলটিকে তিনি তার সংগ্রহের 'মুকুটমণি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শুল্ক বিভাগ জানিয়েছে, যদি গাড়িগুলোর কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হয়, তবে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তদন্তের জন্য মালিকদের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। এই পাচার চক্রের জাল ভারতের অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।