
শেষ আপডেট: 9 September 2023 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহরুখ খানের (SRK) নতুন ছবি ‘জওয়ান’ নিয়ে উন্মাদনা বাঁধ ভেঙেছে। অ্যাকশন প্যাকড এই ছবির বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার মধ্যে অন্যতম ডক্তর ইরামের একটি দৃশ্য। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সান্য মালহোত্রা। দেখা যাচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকা বাচ্চাদের বাঁচাতে নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে সিলিন্ডার আনছেন ওই ডাক্তার। যে দৃশ্য দেখে অনেকেই মিল খুঁজে পেয়েছেন উত্তর প্রদেশের ডাক্তার কাফিল খানের (Dr Kafeel Khan) সঙ্গে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, কাফিল খানের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই অ্যাটলি এই দৃশ্যটি সিনেমায় রেখেছেন। এবার সেই নিয়েই পরিচালক অ্যাটলি (Atlee) ও ছবির প্রযোজক-অভিনেতা শাহরুখ খানকে ধন্যবাদ জানালেন কাফিল খান।
দেখা যাচ্ছে, একটি সরকারি হাসপাতাল। যেখানে শয়ে শয়ে বাচ্চা ভর্তি। তাদের প্রত্যেকেরই দরকার অক্সিজেন। কিন্তু হাসপাতালে সেটাই নেই। ডাক্তার ইরাম যখন স্বাস্থ্য কর্তাদের কাছে সাহায্য চাইছেন, তাঁকে নানারকম বাহানা দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু বাচ্চাদের বাঁচাতে নিজের কেরিয়ারের ঝুঁকি নিয়েই নিজের টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়া করে আনলেন সেই ডাক্তার। তবে বাচ্চাদের বাঁচানো গেল না। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হল বাচ্চাগুলির। আর প্রশাসন জেলে পুড়ল সেই ডাক্তারকেই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল যে, ডাক্তারের গাফিলতিতেই মারা গিয়েছে বাচ্চাগুলি। কেউ ফিরেও দেখল না, সেই ডাক্তারই শিশুগুলিকে বাঁচানোর জন্য নিজের কেরিয়ারকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।
এই দৃশ্যের সঙ্গেই কাফিল খানের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। কী সেই ঘটনা?
ডক্টর কাফিল খান একজন ডাক্তার এবং গোরক্ষপুরের বাবা রাঘব দাস (বিআরডি) মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন লেকচারার। ২০১৭ সালে সেই সরকারি হাসপাতালে বকেয়া পরিশোধ না করায় অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভের লাভ হয়নি। শেষে কাফিল খান একেবারে নিজের খরচে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন সেই হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয় ৬৩ জন শিশুর। আর গোটা বিষয়টির দায় গিয়ে পড়ে কাফিল খানের উপর। উত্তরপ্রদেশ সরকার অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং কাফিল খানের বিরুদ্ধে নিজের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনে তাঁকে জেলে ঢোকায়।
দু’টো ঘটনার কতখানি মিল, তা যে কেউ বলে দিতে পারবে। যদিও পরিচালক অ্যাটলি বা প্রযোজক শাহরুখ কোথাওই এ কথা বলেননি যে, তাঁরা সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় ছবিটি বানিয়েছেন। কিন্তু মুখে না বললেও এমন অনেক কিছু খালি চোখে দেখা যায়, যা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। তাই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ কাফিল খানও। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সঙ্গে লেখেন, “আমি এখনও ‘জওয়ান’ দেখিনি। তাই ছবিটি নিয়ে বেশি কিছু বলা উচিত হবে না। কিন্তু অনেকেই আমায় ফোন কিংবা মেসেজ করে একটি বিশেষ দৃশ্যের কথা জানাচ্ছে। তবে আমি বলব, সিনেমার সঙ্গে বাস্তব জীবনের অনেক পার্থক্য রয়েছে। ছবিতে আসল দোষীরা শাস্তি পায়। কিন্তু এখানে আমি এবং সেই শিশুদের পরিবারগুলি এখনও ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি। তবে সামাজিক বার্তাটির জন্য অ্যাটলি এবং শাহরুখকে অনেক ধন্যবাদ।”
‘জওয়ান’ পুরনো তামিল ছবি থেকে টোকা? অ্যাটলির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ