
শেষ আপডেট: 6 September 2021 08:05
ছবির গল্প নিয়ে পরিচালক রোহন জানালেন, "বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই গল্প। কাহিনি যত এগিয়ে চলে, তত ঘনীভূত হয় সম্পর্কের জটিলতা।" পরিচালকের কথাতেই জানা যায়, অপরাজিতা একজন স্বাধীনচেতা মহিলা। সে কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করে। বাড়িতে তার বাবা রয়েছেন। মা আগেই মারা গেছেন। দিদি বিদেশে থাকে। কিন্তু এক বাড়িতে বাবা ও মেয়ে থাকলেও তাঁদের মধ্যে কোনও বাক্যালাপ নেই। তাঁদের দুজনের মধ্যে যোগসূত্র বলতে শুধুমাত্র একটি ডায়েরি।
অতীতের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপরাজিতার মনে বাবার প্রতি অনেক ক্ষোভ, দুঃখ, অভিমান জমাট বেঁধে আছে। সেই কারণে সে বাবাকে একেবারেই পছন্দ করে না। অপরাজিতার সুখদুঃখের সঙ্গী তার বয়ফ্রেন্ড সাহেব। সে নিজের যাবতীয় মনের কথা নির্দ্বিধায় সাহেবকে প্রকাশ করতে পারে। এদিকে বাবা ও মেয়ের দূরত্ব দূর করতে এগিয়ে আসেন পারিবারিক চিকিৎসক। আদৌ কি বাবা মেয়ের এই দূরত্ব দূরীকরণ হবে? বদলে যাবে কী সম্পর্কের সমীকরণ? তার জন্য দর্শকদের ছবি-মুক্তি পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। বাবা ও মেয়ের ভূমিকায় যথাক্রমে অভিনয় করেছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ও তুহিনা দাস।
ছবিতে নিজের চরিত্র সম্পর্কে অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানালেন, "পরিচালক রোহনের প্রথম ছবি 'এভাবেই গল্প হোক'-এ আমি অভিনয় করেছি। যদিও সেই চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু এই ছবির গল্পের বিশেষত্ব হল বাবা ও মেয়ের একান্ত জীবনযাপন ও তাদের সম্পর্ক নিয়ে কাহিনির বিন্যাস। বাবার চরিত্রে অভিনয় করলেও এই ধরনের বাবার চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করিনি।
অতীতের কিছু ঘটনার কারণে দুই বিপরীতধর্মী মানুষ একই ছাদের নীচে বসবাস করে, যাদের সম্পর্ক আবার বাবা ও মেয়ের। একেবারে ভিন্ন স্বাদের এই গল্প। এই প্রজন্মের একজন তরুণ পরিচালক রোহনের ভাবনা এবং ছবির গল্পে তার প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে ওঁর ধারণা আগের থেকেও সুস্পষ্ট। তা সে চরিত্রগত ভাবনা হোক বা বিভিন্ন শটের পেছনের ব্যাকরণ- ওর ধারণা খুব স্বচ্ছ।
ফলে ওর সঙ্গে কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয় না। অল্পবয়সীদের সঙ্গে কাজ করতে আমার বেশ ভালই লাগে। কারণ ওদের থেকেও অনেক কিছু শেখা এবং জানা যায়। ওরা সব কিছু অন্য ভাবে দেখে এবং দেখার ধরনও আলাদা। বয়সের কারণে অনেক কিছুই ওদের অত অভিজ্ঞতা না থাকলেও আমি দেখেছি ওরা মুক্ত মনের মানুষ হয়। অগ্রজদের কোনও উপদেশ সাদরে গ্রহণ করার অদ্ভুত মানসিকতা রয়েছে। রোহনও তার ব্যতিক্রম নয়। একজন শিল্পী এবং পরিচালকের এই আদান-প্রদান খুবই জরুরি।"
ছবিতে অভিনয়ে আছেন দেবতনু (সাহেব), রানা বসুঠাকুর (পারিবারিক চিকিৎসক), অমৃতা (দিদি)। ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক রোহন স্বয়ং। ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফার রিপন হোসেন। কৃষ্ণেন্দু রাজ আচার্যের সুরে ছবিতে গান গেয়েছেন অনুপম রায় আর অমৃতা। 'কিছুক্ষণ এন্টারটেইনমেন্ট' প্রযোজিত এই ছবির প্রযোজক অমৃতা দে।
পরিচালক রোহনের থেকে আরও জানা গেল যে পরিস্থিতি ঠিকঠাক ও স্বাভাবিক থাকলে ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পাবে। অন্যথায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।