একবার প্রযোজক এসডি নারাং তাঁদের বাড়ি আসেন। কিশোর কুমার সম্পর্কে অনেক 'মিথ' শুনেই এসেছিলেন তিনি। এসেই নাকি বাড়ির ভিতর গুপ্ত দরজা খুঁজতে শুরু করে দেন সেই প্রযোজক।

শেষ আপডেট: 26 May 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাড়গোড়। বাড়িতে কেউ আসুন তাও পছন্দ ছিল না কিশোর কুমারের। মানুষজনের আনাগোনা কমাতেই কি বাড়ি ওভাবে সাজাতেন গায়ক? এ প্রশ্ন চিরকালীন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই যাবতীয় প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন ছেলে অমিত কুমার।
তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘর সাজানোর 'সরঞ্জাম' আদপে কেনা হয়েছিল পূর্ব আফ্রিকা থেকে। অমিত কুমারের কথায়, "ওগুলো আমরাই নিয়ে এসেছিলাম। শো করতে গিয়েছিলাম নৈরবীতে। বাবার দুষ্প্রাপ্য জিনিস সংগ্রহ করার শখ ছিল। তাই ওখান থেকে ফেরার সময় সেগুলো নিয়ে আসি। এখনও ওগুলো রয়েছে।"
একবার প্রযোজক এসডি নারাং তাঁদের বাড়ি আসেন। কিশোর কুমার সম্পর্কে অনেক 'মিথ' শুনেই এসেছিলেন তিনি। এসেই নাকি বাড়ির ভিতর গুপ্ত দরজা খুঁজতে শুরু করে দেন সেই প্রযোজক। যদিও বিফল হন। কিশোর কুমারের বাড়ির অন্দরমহল নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই ছড়িয়েছিল নানা রটনা। সে কথা জানতেন কিশোরও।
![]()
অমিত কুমারের কথায়, "নিজেই নিজেই নিয়ে মজা করতেন বাবা। তিনি বলতেন, দুনিয়া আমায় পাগল বলে। আমি দুনিয়াকে পাগল বলি। বলতে দাও...ভালই তো।"
নিজের মৃত্যু যে আসন্ন তা নাকি আগেই টের পেয়েছিলেন কিশোর কুমার। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর। আচমকাই খবর আসে প্রয়াত হয়েছেন কিশোর কুমার। হাসপাতালে যেতে হয়নি, দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাও হয়নি। ম্যাসিভ হৃদরোগ, ব্যস সব শেষ। অমিত কুমারের কথায়, "ওই দিন ভাই সুমিতকে সাঁতার কাটতে যেতে বারণ করেছিলেন বাবা। আমি ক্যানাডায় ছিলাম। ফিরছিলাম বারেবারে জিজ্ঞাসা করছিলেন ক্যানাডা থেকে ঠিক সময়ে তা দেশে এসে পৌঁছবে কিনা। মজা করে বলছিলেন, যদি ডাক্তার ডাকা হয় তবে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হবেন। খুব হাসছিলেন। হাসতে হাসতেই একসময় পড়ে যান। লীনা (কিশোর কুমারের চতুর্থ স্ত্রী) ভাবছিলেন, মজা করছেন বুঝি। কিন্তু আর উঠলেন না।" কিশোর কুমার নেই। তবে থেকে গিয়েছে তাঁর কাজ, থেকে গিয়েছে তাঁর সৃষ্টি।"