১৯৯৫ সালেই অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হয় রহমান (Rehman Dakait)। প্রায় আড়াই বছর জেলে থাকার পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সে পালিয়ে যায়।

রহমান ডাকাতের রক্তাক্ত জীবন!
শেষ আপডেট: 15 December 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমা হলে সবচেয়ে জোরাল হাততালি বা শিসটা নায়ককে ঘিরে নয়। ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) ছবিতে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যখন ফ্রেমে ঢোকেন অক্ষয় খান্না (Akshay Khanna)। তাঁর অভিনীত চরিত্র রেহমান ডাকাত পর্দায় আসতেই থমকে যায় সিনেমা হল। এই চরিত্র শুধু ভয় ধরায় না, কৌতূহলও তৈরি করে। তবে সিনেমার পর্দায় দেখা এই ভয়ঙ্কর খলনায়কের বাস্তব জীবনের গল্পও (Rehman Dakait real life story) অন্ধকার, আরও নিষ্ঠুর।
রহমান ডাকাতের (Rehman Dakait) আসল নাম ছিল আবদুল রহমান। ১৯৭৬ সালে পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি এলাকায় তাঁর জন্ম। লিয়ারি অপরাধ, গ্যাং যুদ্ধ এবং অপরাধী-প্রশাসনের আঁতাতের জন্য কুখ্যাত। রহমানের পরিবারও এই অপরাধজগতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। তাঁর বাবা দাদ মহম্মদ ও কাকারাই চালাত মাদক ও তোলাবাজির ব্যবসা। এলাকায় একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
ছোট থেকেই হিংসা ছিল রহমানের জীবনের অঙ্গ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাজি ফাটাতে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে মেরে জখম করে সে। ১৫ বছর বয়স থেকেই খুন করতে শুরু করেন। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৯৯৫ সালে। পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর কিছুদিন পরেই রহমান নিজের মাকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের কাছে তার দাবি ছিল, মা-ই নাকি তার সব খবর পুলিশের কাছে দিয়েছিল। যদিও অনেকের মতে, মায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের এক সদস্যের সম্পর্ক সন্দেহ করেই এই খুন করেছিল রহমান ডাকাত।
১৯৯৫ সালেই অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হয় রহমান (Rehman Dakait)। প্রায় আড়াই বছর জেলে থাকার পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সে পালিয়ে যায়। এরপর বালোচিস্তানে গিয়ে নতুন করে নিজের দল গড়ে তোলে। ২০০০ সালের শুরুর দিকেই লিয়ারির সবচেয়ে ক্ষমতাবান গ্যাংলিডার হয়ে ওঠে রহমান ডাকাত। মাদক পাচার, তোলাবাজি, অপহরণ- সব কিছুর সঙ্গেই তার নাম জড়িয়ে যায়। গ্যাং-যুদ্ধের জেরে লিয়ারিতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যায়।
ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়তে থাকে রহমানের (Rehman Dakait)। নিজের নাম বদলে রাখে সর্দার আবদুল রহমান বালোচ। এবং ‘পিপলস আমন কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তবে এই উত্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০০৬ সালে লিয়ারিতে গ্যাং দমনের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রহমান ডাকাত নিহত হয় বলে সরকারি সূত্রে দাবি। যদিও এই এনকাউন্টার ঘিরে আজও বিতর্ক রয়ে গেছে।
‘ধুরন্ধর’ ছবিতে রহমান ডাকাতের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অক্ষয় খান্নার অভিনয় (Akshaye Khanna's Dhurandhar Character) দর্শকদের মুগ্ধ করলেও বাস্তব রহমানের জীবনের হিংসা ও রক্তপাত যে কোনও সিনেমার থেকেও অনেক বেশি ভয়াবহ, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই।