অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই ছবি তিন পি-র (P) ককটেল কিনা?— পাকিস্তান, প্রেট্রিয়টিজম আর প্রোপাগাণ্ডা। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য নিখাদ এক প্রোপাগাণ্ডা ছবি কিনা!

রনবীর সিং
শেষ আপডেট: 14 December 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের নতুন ছবি ধুরন্ধর (Dhurandhar) নিয়ে এখন দু’ধারার আলোচনা রয়েছে দেশজুড়ে। এক, অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna)- রনবীর সিংয়ের (Ranveer Singh) অভিনয়। রহমান ডাকাইত ও হামজা মাজারি দু’জনেই অনবদ্য। বালোচ নেতা রহমান ডাকাইতের চরিত্রটি যেন তৈরি হয়েছিল স্রেফ অক্ষয়ের জন্য। তাঁকে দেখার পর এখন আর কাউকে ভাবাই যাচ্ছে না। আর রনবীরের শার্প ফিচার ও মানানসই অভিব্যক্তির যেন কোনও তুলনাই হয় না। ছবিটি নিয়ে দ্বিতীয় আলোচনাটি ষোল আনা রাজনৈতিক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই ছবি তিন পি-র (P) ককটেল কিনা?— পাকিস্তান, প্রেট্রিয়টিজম আর প্রোপাগাণ্ডা। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য নিখাদ এক প্রোপাগাণ্ডা ছবি কিনা!
ভোটের মুখে ধুরন্ধর (Dhurandhar 2 release date)
বিতর্ক ও প্রশ্ন যখন এভাবে দানা পাকাচ্ছে, তখন প্রযোজক ঘোষণা করে দিয়েছিলেন ধুরন্ধরের সিক্যুয়েল তথা ধুরন্ধর টু- দ্য রিভেঞ্জ (Dhurandhar 2 The Revenge) মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর’। বক্স অফিসে এখনও রম রম করে চলছে। কলকাতায় নাইট শো প্রায় হাউজফুল চলছে। ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। ওটিটিতে আসতে এখনও সময় লাগবে। এর মধ্যেই তথা প্রথম পার্টের মুক্তির মাত্র সাড়ে ৩ মাসের ব্যবধানে পার্ট টু-র মুক্তির দিন ঘোষণা করে দেওয়া বেনজির বইকি। তাই কৌতূহলও তৈরি হয়েছে—এটা এমনিই নাকি কৌশলগত?
বাংলায় ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)
মার্চ মাসের গোড়ায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুডুচেরিতে ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা। কোনও অঘটন না ঘটলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে যাবে। তার ১০-১২ দিন আগে পাকিস্তানের মোল্লাতন্ত্র, গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে রিভেঞ্জ বা প্রতিশোধের চিত্রনাট্য নিয়ে তৈরি ধুরন্ধর পার্ট টু মুক্তির ঘোষণায় অনেকেই ভ্রুকুটি তুলেছেন। তাঁদের মনে পড়ে যাচ্ছে বালাকোটের কথা। জাতীয়তাবাদের মন্ত্রকে উচ্চস্বরে গেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার গৈরিক কৌশলের কথাও।
পরিচালক আদিত্য ধরের এই স্পাই থ্রিলারটি মুক্তির পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে সরকারি প্রোপাগান্ডা বলে দাগিয়ে দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধানের চরিত্রকে যেভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে, তা অনেকেরই নজর কেড়েছে। তাঁরা মনে করছেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধান তথা বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অনুপ্রেরণা নিয়ে ছবিতে গোয়েন্দা অজয় সান্যাল চরিত্রটি আঁকা হয়েছে। অজিত ডোভাল যেমন হকিশ (hawkish) বা যুদ্ধোন্মুখ নেতা, অবিকল তেমনই চরিত্র অজিত সান্যালের।
‘ধুরন্ধর’-এ রণবীর সিং অভিনয় করেছেন হামজা মাজাকি নামের এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়। পাকিস্তানের করাচিতে যাঁকে ভয়ংকর মিশনে পাঠিয়েছেন সেন্ট্রাল আইবি চিফ অজয় সান্যাল। ছবির কাহিনিতে রয়েছে করাচির গ্যাং-ওয়ার, অপরাধচক্র, পাকিস্তানি গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এবং ভারত-পাকিস্তান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এক বিস্ফোরক উপস্থাপন।
ছবিটিতে কন্দাহার বিমান হাইজ্যাকিং, ২০০১-এর সংসদে সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলা-সহ বাস্তব রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর পটভূমিকায় গোপন গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ১৯৯৯-এর প্লেন হাইজ্যাক, সংসদে হামলা এবং মুম্বই হামলার বাস্তব ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেমার গ্রাফিক দৃশ্য ও থ্রিল তথা উত্তেজনা অনেক দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে, তবে এটিকে হাইপার-ন্যাশনালিস্ট করে তোলা হয়েছে বলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মুক্তির আগে এক প্রয়াত সেনা কর্মকর্তার পরিবার অভিযোগ করেছিল, ছবির কিছু অংশ তাঁর জীবনী থেকে অনুমতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। যদিও পরিচালক তা অস্বীকার করেন এবং সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘ফিকশন’ হিসেবে ছাড়পত্র দেয়।
কেন্দ্রের সরকার অবশ্য বলছে সিনেমাটি কেবল সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা কার্যকলাপকে দেখিয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই। তা ছাড়া বিজেপি নেতা রোহন গুপ্তা বলেছেন, “সবকিছুকে ধর্মের সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়। ‘ধুরন্ধর’ একটি সত্য ঘটনাভিত্তিক সিনেমা এবং দর্শকদের নিজেদের বিচার করতে দেওয়া উচিত।” তবে বিরোধীরা তাঁদের মতেও অনড়। তাঁরা মনে করছেন, ছবিটি সরকারি বর্ণনার অংশ। এর মধ্যে রাজনৈতিক ভাষ্যও স্পষ্ট।