
অমিতাভ বচ্চন-রাজেশ খান্না
শেষ আপডেট: 21 January 2025 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘সময় খুব নিঃশব্দে এবং দ্রুত চলে যায়,’ টুইটারে লিখলেন লেখক জাভেদ আখতার। আজ, সাতের দশকের ব্লকবাস্টার ছবি ‘দিওয়ার’ (Deewar 50)পা রাখল পঞ্চাশে। তার উদযাপনে দু’কলম লিখলেন জাভেদ আখতার। সেলিম খান এবং জাভেদ আখতার। সে সময়ের সেরা জুটি। দুই লেখকের বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে একটি গোটা ডকুমেন্টারি ফিল্মও তৈরি হয়েছে। ‘অ্যাংরি ইয়ং মেন’। ডকুমেন্টরি ফিল্মের পরতে-পরতে ছিল তাঁদের সম্পর্কের কাহন।
সে সময়ে, সেলিম-জাভেদ দু’জনই ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির বাইরের লোক। বহিরাগত হিসেবে বলিউডে প্রবেশ তাঁদের। মধ্যবিত্তদের দৈনন্দিন ক্ষোভ, রাগ, যন্ত্রণা এবং লড়াই ছিল তাঁদের জীবনেও। ‘জঞ্জির’ এবং ‘দিওয়ার’-এর মতো ছবির চরিত্রগুলোতে মিশে গিয়েছিল সেই অনুভূতিগুলো। প্রত্যেকটি ছবির গল্পে, তাঁরা সচেতনভাবে অমিতাভ বচ্চনকে প্রধান চরিত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। জানতেন সামাজিক অস্থিরতা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন একমাত্র ‘বিগ বি’। তবে, সে সময়ে অমিতাভ বচ্চনকে কাস্ট করা সহজ কাজ ছিল না। কারণ, প্রযোজকের প্রথম পছন্দ ছিল তৎকালীন সুপারস্টার রাজেশ খান্না।
‘সাতের দশক ছিল এমন এক সময়, যখন এমন একজন নায়কের প্রয়োজন ছিল যিনি সমাজ সংস্করণ করবেন, ঘুনে ধরা সিস্টেমকে পরিষ্কার করবেন,’—প্রয়াত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ‘অ্যাংরি ইয়ং মেন-এ বলেন। সেলিম-জাভেদের প্রয়োজন ছিল এমনই এক নায়ক খুঁজে পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চনকে। ‘ত্রিশুলের বিজয়, দিওয়ার, জঞ্জির, অথবা শক্তির চরিত্রগুলিকে ‘অ্যাংরি ইয়ং মেন’ বলা হতো। কিন্তু এই রাগ এলো কীভাবে? হয়তো এই রাগ এবং আঘাত আমাদের ভিতরে ভিতরেই ছিল,’ জাভেদ আখতার একই তথ্যচিত্রে এই কথাটি বলেন।
‘দিওয়ার’ যখন তৈরি হচ্ছে, সে সময়, অমিতাভের কেরিরিয়ার ছিল অনিশ্চিত। ব্যর্থতা তাঁকে গ্রাস করেছিল। তবুও, সেলিম-জাভেদ তাঁর মধ্যেই দেখেছিলেন সম্ভাবনা। ১৯৭৩ সালের হিট ‘জঞ্জির’ তাঁকে বিজয় চরিত্রটি উপহার দেয়। তার দু’বছর পরে, ‘দিওয়ার’ তাঁকে ফের বিজয় চরিত্রে ফিরিয়ে দেয়। অমিতাভ অভিনীত ‘দিওয়ার’ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে আজও। সেলিম-জাভেদের ক্ষেত্রে বচ্চনকে তাঁদের গল্পের মুখ্য চরিত্র হিসেবে আবিষ্কারের ঘটনা বেশ অপ্রত্যাশিতভাবেই হয়েছিল। তা কি জানেন? ‘বোম্বে টু গোয়া" ছবিটা দেখতে যান সেলিম-জাভেদ, এবং তখনই তাঁরা নিশ্চিত হন অমিতাভই সেই আদর্শ ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’।
সেলিম-জাভেদ জুটির ছবিগুলোতে, অমিতাভ বচ্চনকে বলিউডের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যিনি, তিনি আর কেউ নন রাজেশ খান্না।
লেহরেন পডকাস্টের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে, সেলিম খান, রাজেশ খান্নার পরিবর্তে অমিতাভ বচ্চনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আদর্শ এবং আপোষমূলক, এই দুই ভাবেই কাস্টিং হয়েছিল। আমরা এ বিষয়ে দৃঢ় ছিলাম, যে অমিতাভ বচ্চনই ছিলেন ‘দিওয়ার’-এর জন্য আদর্শ কাস্টিং। প্রযোজক গুলশান রাই. রাজেশ খান্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন কিন্তু আমরা জানতাম গল্পের সঠিক কাস্টিং অমিতাভই। আমরা বেশ জোর দিয়েই বলেছিলাম, যদি আপনি ছবিটি বানাতে চান তাহলে শুধুমাত্র অমিতাভকে নিয়েই কাজ করতে হবে। ছবিটি অন্য কারও সঙ্গেও হতে পারতো, করত কিন্তু আইডিয়াল কাস্টিং হতো না। আপোষ করা হতো।’
আরেকটি ইউটিউব চ্যানেলেের সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার বলেন যে, যদিও তাঁরা রাজেশ খান্নার সঙ্গে অতীতে ‘আন্দাজ’ এবং ‘হাতি মেরে সাথী’র মতো ছবিতে কাজ করেছিলেন, তবে পরের দিকে রাজেশ খান্নার সঙ্গে কাজ করা তাঁদের কাছে কঠিন হয়ে পড়েছিল।
‘একটা সময় আসে, যখন বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি এত লোককে নিয়ে চলতেন, তারা সারাক্ষণ চাটুকারিতা করতো। তাই, আমরা আলাদা হয়ে যাই,’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে ধরণের ছবি লিখছিলাম এবং আমাদের মনে যে ধরণের ছবি ছিল, তা অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan, Amitabh Bachchan actor)মতো অভিনেতার জন্য অনেক বেশি উপযুক্ত ছিল।’ মাত্র ১৮ দিনে ‘দিওয়ার’-এর চিত্রনাট্য সেলিম খান এবং জাভেদ আখতার।
মঙ্গলবারের ছবিটির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাভেদ আখতার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘দিওয়ার মুক্তি পেয়েছিল ২১শে জানুয়ারি ১৯৭৫। ঠিক ৫০ বছর আগে। সময় খুব নিঃশব্দে এবং দ্রুত চলে যায় । এটা সব সময় ঘটছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে!!’
‘জঞ্জির’-এর পর, ‘দিওয়ার’ বলিউডের 'অ্যাংরি ইয়ং ম্যান' এবং সাতের দশকের নতুন সুপারস্টার হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের ভাবমূর্তিকে আরও প্রকট করে। শশী কাপুর অভিনীত এই ছবিটি বছরের ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ছবি হিসেবে আজও জ্বলজ্বল করছে ‘দিওয়ার’।