
‘কোস্টাও’তে নওয়াজই ভাল, কিন্তু গল্প ‘ভাল নয়’
শেষ আপডেট: 1 May 2025 15:52
দ্য ওয়াল: ‘কোস্টাও’ছবিতে নওয়াজ সৎ। অর্থাৎ তাঁর অভিনীত চরিত্র। গোয়ার এক কাস্টমস অফিসার ‘কোস্টাও ফার্নান্ডেজের চরিত্রে তাঁর অভিনয়। চোরাচালান রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। অন্তর্দৃষ্টি এবং গুপ্তচরদের এক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তিনি অপরাধের আগেই খবর পেয়ে যান সব। কাহিনির গতি বাড়ে যখন কোস্টাও জানতে পারেন প্রায় ১৫০০ কেজি সোনার একটি বড় চোরাচালানের পরিকল্পনার কথা। তদন্ত করতে গিয়ে ঘটে এক দুঃখজনক দুর্ঘটনা—রাজনৈতিক নেতা ডি'মেলোর ভাই পিটার ডি'মেলোর মৃত্যু হয় কোস্টাওয়ের হাতে। ঘটনাটি রাজনীতিতে ঝড় তোলে, আর কোস্টাওয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে গোটা সিস্টেম। এরপর থেকেই শুরু হয় এক সৎ মানুষের বিরুদ্ধে গোটা ব্যবস্থার লড়াই—রাজনৈতিক প্রভাব, আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতা এবং ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে অপরাধ ও ক্ষমতার মেলবন্ধনের নগ্ন চিত্র।
তবে, এমন এক কনসেপ্ট থাকা সত্ত্বেও ছবি বেশ প্রেডিক্টেবল, পুলিশ এবং দুর্নীতির উপস্থাপনায় সেই একঘেয়ে পুরনো ছক। শেষ পর্যন্ত কোস্টাও যে নির্দোষ তা প্রমাণ করতে পারে? আদৌ কি ন্যায়বিচার হবে?
নওয়াজউদ্দিনের অভিনয়ই ফিল্মের জানপ্রাণ
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি সংযত অথচ গভীর অভিনয়েই ছবির মূল মন্ত্র। এক সৎ অফিসারের মানসিক দ্বন্দ্ব ও আত্মত্যাগ তিনি নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। কোর্টরুম দৃশ্য কিংবা টানটান সংঘর্ষের দৃশ্যগুলোয় তাঁর অভিনয় নজরকাড়া। বাস্তবের কোস্টাও ফার্নান্ডেজের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই কাহিনিতে তাঁর মেয়ের বর্ণনা এক আবেগঘন ছোঁয়া— যা দর্শকের সঙ্গে চরিত্রটির আরও গভীর সংযোগ গড়ে তোলে।
যা ঠিকমতো কাজ করেনি
মজবুত প্রেক্ষাপট থাকলেও গল্পের গভীরতা শিথিল। কোস্টাওর মানসিক টানাপড়েন, ত্যাগ বা দুর্নীতির মূল চক্র—সব কিছুই খুব হালকা করে দেখানো হয়েছে। ডি'মেলো এবং তার পরিবারের মতো খলচরিত্রদের উপস্থাপনাও ছিল বেশ দুর্বল, যা ছবির টানটান উত্তেজনা নষ্ট করে দেয়। গোয়ার পটভূমি থাকা সত্ত্বেও, তার সংস্কৃতি বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিতে উঠে আসেনি, যা আরও প্রাসঙ্গিকতা যোগ করতে পারত।
প্রযুক্তিগত দিক ও পরিচালনা
সিনেমাটোগ্রাফি ও সাউন্ড ডিজাইন গড়পড়তা, বিশেষ কোনও আবেগ বা মেজাজ সৃষ্টি করতে পারে না। এডিটিং খারাপ নয়, কিছু বেশ কিছু দৃশ্য কাটছাট করা যেত। পরিচালক সেজাল শাহ বাস্তব কাহিনি দেখাতে চাইলেও কাহিনির নাটকীয়তা বা আবেগে ধার আনতে পারেননি।
চিত্রনাট্য ও সংলাপ
চিত্রনাট্যে ভাল সম্ভাবনা থাকলেও সেটি পরিপূর্ণভাবে রূপ পায়নি। কারণ সেই গল্প। সংলাপগুলো সাধারণ, তবে মনে দাগ টানার মতো নয়। যা গল্পের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। গল্প আগেভাগেই আন্দাজ করা যায়—তবে তা একেবারেই কাম্য নয়, এমন এক বাস্তব কাহিনির ক্ষেত্রে।
অভিনয়
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ছবির প্রাণ। তাঁর অভিনয় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলে। প্রিয়া বাপাট কোস্টাওয়ের স্ত্রীর ভূমিকায় আবেগপ্রবণ এবং সহানুভূতিশীল অভিনয় করেছেন। খলচরিত্ররা দুর্বল ও একমাত্রিক, যা গল্পে ড্রামা ফ্যাক্টর কমিয়ে দেয়।
উপসংহার
'কোস্টাও' ডেয়ারিং এবং প্রাসঙ্গিক গল্প বলার চেষ্টা করে, যেখানে এক সাধারণ মানুষ সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ছে। ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ নিঃসন্দেহে নওয়াজউদ্দিনের দারুণ অভিনয়। তবে দুর্বল চিত্রনাট্য, গল্প এবং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি বেশ কিছু চরিত্র এবং গোয়ার আবহকে যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় ছবিটি আবেগ বা প্রভাবের দিক থেকে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।
পরিচালক: সেজাল শাহ
নির্মাতা: বিনোদ ভানুশালী, কমলেশ ভানুশালী, ভবেশ মান্ডালিয়া, সেজল শাহ শ্যাম সুন্দর, ফয়জুদ্দিন সিদ্দিকি
সময়সীমা: ২ ঘন্টা ৫ মিনিট
অভিনয়: নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, প্রিয়া বাপট, কিশোর কুমার হুলি, গগন দেব রিয়ার, হুসেন দালাল
প্লটলাইন: নয়ের দশকে গোয়ায় কর্মরত কাস্টমস অফিসার কোস্টাও ফার্নান্ডেজ (নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত) এর প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। আইন প্রয়োগে তাঁর অটল নিষ্ঠা তাঁকে একটি সোনার চোরাচালান চক্র উদঘাটনের পথে নিয়ে যায়। কাহিনীটি অনুসরণ করে কিভাবে তিনি ওই চোরাকারবারীদের উন্মোচনের চেষ্টা করেন এবং এর ফলে তাঁকে নানা ব্যক্তিগত ও পেশাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় তাঁর সঙ্গে চোরাচালান চক্রের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার জন্ম দেয়।