রাজনীতির মঞ্চ দু'টি পথ বেঁধে দিয়েছিল আলাদা সুতোয়। ২০১০ সালে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগদান করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এর চার বছর পর অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নেন বিজেপি।

শেষ আপডেট: 25 August 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোলা মঞ্চ। চারপাশ আলোয় ভরা। গ্ল্যামারের ঝলকানি। সেই মঞ্চেই দাঁড়িয়ে অনন্যা—‘মিস ক্যালকাটা’র মুকুট মাথায়। বিচারকের আসনে বসা সুপুরুষ এক অভিনেতা—জয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Joy Banerjee)। চোখাচোখি হল দু’জনের। যেন সময় থমকে গেল। আর তারপর?
রাজনীতির মঞ্চ দু'টি পথ বেঁধে দিয়েছিল আলাদা সুতোয়। ২০১০ সালে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগদান করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এর চার বছর পর অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নেন বিজেপি। সুতো হয় আলগা, হয় বিচ্ছেদ। এ দিন অর্থাৎ সোমবার প্রয়াত হয়েছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অনন্যার মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা অতীত। শেষ সময়েও প্রাক্তন স্বামীর পাশেই আছেন তিনি।
তাঁদের প্রেমকাহিনীও তো কম রোমাঞ্চকর নয়। সুন্দরী অনন্যা খুব ছোট বয়সেই অংশ নিয়েছিলেন 'মিস ক্যালকাটা' বিউটি পেজেন্টে। ওই প্রতিযোগিতায় জয়ীও হন তিনি। আর সেখানেই বিচারকের আসনে ছিলেন জয়।

দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জয় বলেছিলেন, "মিস ক্যালকাটা নির্বাচনের বিচারকের আসনে আমি ছিলাম। সেখানে অনন্যা প্রতিযোগী ছিল। বেশিরভাগই বুড়ো জাজ থাকে। তাঁরা সবাই সুন্দরী মেয়েদের কার্ড দিচ্ছিলেন। আমি সেখানে তরুণ। আমি ওসব কার্ড দিই না। পাত্তা দিচ্ছিলাম না মেয়েদের। আমি মেয়েদের একটু এড়িয়ে চলি, এইজন্য মেয়েরা আমার প্রতি আকর্ষিত হয় বেশি। তো অনন্যা আমায় এসে বলল, 'আমি আপনার একটা কার্ড পেতে পারি?' আমি বললাম, 'আমার কোনও কার্ড নেই।"
সেদিন আবার তিনটে মেয়ের সঙ্গে ডেটে যাওয়ার কথা ছিল অনন্যার। কিন্তু অনন্যা সৌন্দর্যে বুঁদ হয়েছিলেন নিভৃতেই। বলেছিলেন, "সেদিন তিনটে মেয়ের সঙ্গে অ্যাপয়ন্টমেন্ট ছিল। তিনটে মেয়ের ডেটিং ক্যানসেল করে দিলাম আমার বাবার ভয় দেখিয়ে। কিন্তু মিস ক্যালকাটা অনন্যার প্রেমে পড়লাম সত্যিসত্যি। আমি তখন অনন্যার জন্য পাগল। আমার বাবা আমার মতো দুষ্টু ছেলেকে আটকাতে ছেলের অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেবার ব্যবস্থা শুরু করলেন। কিন্তু বাবা যেদিন শুনলেন অনন্যা সুন্দরী, গুণী মেয়ে, তখন চার দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে দিয়ে দিলেন। সালটা ২০০০।"

ধুমধাম করে হয়নি তাঁদের বিয়েটা। আমন্ত্রিতের সংখ্যা ছিল নেহাতই সামান্য। কিন্তু ভালবাসা ছিল ষোলোআনা। সময় বদলায়। বদলায় সম্পর্কের সমীকরণ। তাঁদের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। যদিও জয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁকে ব্রাত্য করে রাখেননি অনন্যা। হাজির হয়েছিলেন হাসপাতালে। ২০১৯ সালে ৩০ বছরের ছোট অঙ্কিতাকে বিয়ে করেছিলেন জয়। মান-অভিমান, ভালবাসা-না বাসার অধ্যায় আজ শেষ হল। চলে গেলেন সুখেন দাস, অঞ্জন চৌধুরীর নয়নের মণি জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।