
ছেলে জুজুর সঙ্গে অনিন্দ্য-মধুজা।
শেষ আপডেট: 18 August 2024 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনোদন জগতে ফের ভাঙছে বিয়ে। দুয়েক বছরের বিয়ে নয়, ভাঙছে রীতিমতো ১৪ বছরের সংসার। আজ, রবিবার বিচ্ছেদের খবর সামনে এল, দম্পতির মাধ্যমেই। চন্দ্রবিন্দু-খ্যাত গায়ক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী মধুজা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন মধুজা নিজেই।
গুঞ্জন অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই হাওয়ায় ভাসছিল। অনিন্দ্যর ঘরভাঙা নিয়ে চর্চা চলত ঘনিষ্ঠ মহলে। তবে অনিন্দ্য বা মধুজা নিজে কখনও প্রকাশ্যে এই নিয়ে কিছু বলেননি। যদিও তাঁরা একরকম আলাদাই থাকতেন বলা যায়। বছর চারেক ধরে মুম্বইয়ে ছেলে জুজুকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন মধুজা। মাঝে অবশ্য একসঙ্গে একবার ঘুরতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেষমেশ সত্যি হল সেই জল্পনাই। আইনি বিচ্ছেদের পথে এগোলেন দম্পতি।
আজ, রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনিন্দ্যর স্ত্রী, চিত্রশিল্পী মধুজা লেখেন, 'অনিন্দ্যর খুব ইচ্ছে ছিল ওর লেখা আর আমার ছবি দিয়ে জুজুর জন্য একটা ছোটোদের বই বের করবে। বিয়ের আগে থেকেই অনিন্দ্য আমার ছবি আঁকা পছন্দ করত। আমি লিখতেও খুব ভালোবাসতাম। চেয়েছিলাম লেখক বা শিল্পী হতে। কিন্তু ঘরে বাইরে সমান তালে দীর্ঘ চোদ্দ বছর লড়ে দেখলাম ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। একা হয়ে যাচ্ছি। তাই নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিতে ২০১৯ এ জুজুকে নিয়ে মুম্বই এলাম। আমার সঙ্গে কোভিডও এল। কোভিড ভয় দিল, দুঃখ দিল, হতাশা, অপমান দিল কিন্তু ফিরিয়ে দিল ছবি আঁকা। লেখালেখি ফিরিয়ে দিল, ফিরিয়ে দিল নিজের কথা বলার সাহস।'
মধুজা আরও লেখেন, 'এক সময় বুঝতে পারলাম— বিয়ে মানে ফুল, আলো , যদিদং হৃদয়ং- কিন্তু সর্বোপরি এক আইনি বন্ধন। তাই আইনি পথেই বিচ্ছেদ কাম্য। জানি, অনিন্দ্য খুব কষ্ট পেয়েছে। পেয়েছি আমিও। আবার সত্যটা মেনে নিয়ে কোথাও একটা নির্ভারও হয়েছি। অনিন্দ্য আর আমি তাই আইনি পথে বিচ্ছেদে পা বাড়িয়েছি। বিচ্ছেদ বিয়ের হয়েছে! জুজুর বাবা মায়ের হয়নি। দাম্পত্যের হয়েছে- বন্ধুত্বের হয়তো না। আজ সত্যিই তাই খেলা ভাঙার খেলা!'
মধুজা রবি ঠাকুরের গানকে আবারও কোট করেছেন, লিখেছেন, 'মিলনমালার আজ বাঁধন তো টুটবে ফাগুন দিনের আজ স্বপন তো ছুটবে, উধাও মনের আহা উধাও মনের পাখা মেলবি আয়।'