
শেষ আপডেট: 27 May 2023 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের অনেকের ইংরেজি গান শোনার হাতেখড়ি হয় তাঁর কণ্ঠেই (Celine Dion)। তাঁর সুর ও স্বরের জাদুতে মুগ্ধ হলিউড। 'টাইটানিক' ছবির জ্যাক ও রোজের মহাকাব্যিক প্রেমের মার্গসঙ্গীত 'মাই হার্ট উইল গো অন' আজও বিমোহিত করে রেখেছে আঠারো থেকে আশিকে। সেই সেলিন ডিওন (Celine Dion) এবার জানিয়ে দিলেন, তাঁর আসন্ন 'কারেজ ওয়ার্ল্ড ট্যুর' আর তাঁর পক্ষে শেষ করা সম্ভব হবে না। ট্যুরের বাকি সব শো বাতিল করা হচ্ছে। দর্শকরা যারা আগাম টিকিট কিনেছিলেন, সবাইকে মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়। সংবাদসংস্থা সিএনএন এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্ভবত আর কখনোই ট্যুর করতে পারবেন না সেলিন। কারণ? এক জটিল স্নায়ুর রোগ।
মাত্র চার মাস আগেই এই খবর শুনিয়েছিলেন ৫৫ বছরের এই কিংবদন্তী গায়িকা। পোশাকি নাম— এসপিএস বা 'স্টিফ পার্সন সিনড্রোম'। জনস হপকিন্স স্কুল অফ মেডিসিন বলছে, এসপিএস একরকমের বিরল 'অটোইমিউন' রোগ, যাতে পেশি আচমকা দৃঢ় হয়ে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যায়। পরে সাধারণত নিজে থেকেই তা স্বাভাবিক হয়ে আসে, কিন্তু যত দিন যায়, এই সিম্পটমস ক্রমশ খারাপের দিকে যায়। সাধারণত ৫০ বছরের পরেই এই রোগ হয়, খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে অল্পবয়সেও দেখা দিতে পারে।
জনস হপকিন্সের মতে, এর কোনও চিকিৎসা নেই। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে সিম্পটমস ধরে চিকিৎসা করা যায়।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ওয়েবসাইট বলছে, সাধারণত এই রোগে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। ঠিক কী থেকে এই রোগ হয় সেই নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন। 'অটোইমিউন' রোগ বলেই আপাতত তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, যাতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে সুস্থ কোষদেরই আক্রমণ করে।
এই অবস্থায় গান গাওয়া তাঁর পক্ষে একান্তই কঠিন বলে জানিয়েছেন সেলিন। এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, 'তোমাদের আরেকবার হতাশ করার জন্য আমি দুঃখিত। চেষ্টা করছি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ফিরে আসার। কিন্তু ১০০ শতাংশ সুস্থ না হয়ে সত্যিই ট্যুর করা সম্ভব নয়। বারবার এইভাবে আমি শো পিছিয়ে দিচ্ছি, এটা ঠিক নয়, আমি জানি। কিন্তু আপাতত আমি সেরে না ওঠা অবধি সবকিছু স্থগিত রাখাই ভাল মনে করছি।'

১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের 'টাইটানিক' ছবিতে তাঁর গাওয়া 'মাই হার্ট উইল গো অন' সঙ্গীতের ইতিহাসে প্রায় মাইলস্টোন হয়ে রয়ে গিয়েছে। জেমস ক্যামেরন বলেছিলেন, আর যাই হোক, তিনি ছবিতে কোনো গান রাখতেই চান না। সঙ্গীত পরিচালক জেমস হর্নার জোর করেন গানটির জন্য। বাকিটা ইতিহাস। তার আগে 'দ্য পাওয়ার অফ লাভ', 'বিকজ ইউ লাভড মি', 'ইটস অল কামিং ব্যাক টু মি নাও' ইত্যাদি একাধিক হিট দিলেও এই গানেই একধাক্কায় পাল্টে যায় সেলিনের কেরিয়ার।
ভক্তরা যদিও বলেছেন, তিনি সেরে ওঠা অবধিই তাঁরা অপেক্ষায় থাকবেন। ভেসে আসছে আরোগ্য কামনা করে শুভেচ্ছার বার্তা। তাঁর গানেই তো রয়েছে, 'নিয়ার… ফার… হোয়্যারএভার ইউ আর… আই বিলিভ দ্যাট দ্য হার্ট ডাজ গো অন…'
হাজার বছরের পুরনো পার্লামেন্টও আছে পৃথিবীতে, মাত্র ৯৬ বছরেই অবসর ভারতের সংসদ ভবনের