
সেলিন ডিওন
শেষ আপডেট: 10 July 2024 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'মাই হার্ট উইল গো অন...'
এই গান গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া টাইটানিক ছবির এই গান আজ, ২০২৪ সালেও সমান জনপ্রিয়। গানটি যেখানেই বাজুক না কেন, পুরোটা না শুনলে যেন ভাল লাগে না। এই বিখ্যাত গানের কন্ঠ যার, সেই সেলিন ডিওন এখন ভুগছেন বিরল এক স্নায়ুর রোগে। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যা দেখে ভক্তদের চোখে জল আসতে বাধ্য।
বিরল স্নায়ুর রোগ 'স্টিফ পার্সন সিনড্রোম'-এ ভুগছেন গায়িকা। ২০২২ সাল থেকে এই কারণেই কার্যত গানের জগত থেকে দূরে সরে গেছেন তিনি। ক্রমাগত চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। এই রোগের জন্য সেভাবে কোনও ওষুধ নেই বা এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়া সম্ভব নয়। বিরল রোগে মাঝেমাঝেই কেঁপে ওঠে সারা শরীর। কষ্ট হয় প্রচণ্ড। এক কথায়, লাগামছাড়া যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় রোগীকে।
বিগত প্রায় এক বছর ধরে টানা চিকিৎসার মধ্যে আছেন সেলিন ডিওন। কতটা যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয় সেটাই ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিছানায় শুয়ে আছেন গায়িকা, তাঁকে দু-পাশ দিয়ে ধরে রয়েছেন চিকিৎসকরা। আর মাঝে মাঝে ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে উঠছেন তিনি। তাঁর খিঁচুনি আসছে, ঠোঁট বেঁকে যাচ্ছে। সারা শরীর কাঁপতে শুরু করছে। এই খিঁচুনি ১০ মিনিট ধরে হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেই সময়ে কোনও কথা বলতে পারেন না রোগী। শুধু প্রচণ্ড যন্ত্রণায় গোঙানির শব্দ আসে।
????????DEVELOPING: Grammy award and Billboard Icon winning singer Celine Dion released this heartbreaking footage of her going through an intense seizure in her new documentary “I Am Celine Dion.”
— Dom Lucre | Breaker of Narratives (@dom_lucre) July 8, 2024
On December 8, 2022, Celine Dion announced she had been diagnosed with stiff-person… pic.twitter.com/CjQs4p0pfs
'স্টিফ পার্সন সিনড্রোম' আদতে কী রোগ?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই রোগে এমন খিঁচুনি আসে যে মিনিট খানেকের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় গোটা শরীর। মাংসপেশিতে টান পড়ায় স্নায়ুর উপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন রোগী। তবে কেন এমন রোগ হয় তার সঠিক ধারণা এখনও মেলেনি। কিন্তু এটুকু জানা গেছে, এই বিরল স্নায়ুর রোগ হলে আরও একাধিক জটিল রোগ শরীরে দানা বাঁধে। যেমন ডায়াবেটিস, পার্কিনসন্স।
মূলত ফিজিয়োথেরাপি এই রোগের যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সেটাও ডাক্তারের পরামর্শ মতো একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর করে যেতে হয়। বর্তমানে হাইড্রোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপিরও সাহায্য নেন চিকিৎসকরা। এই রোগে ধীরে ধীরে হাঁটাচলার ক্ষমতায় হারিয়ে ফেলতে পারেন রোগী।