
কাশ্মীর কি কলি
শেষ আপডেট: 24 April 2025 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশকের পর দশক ধরে, কাশ্মীরের অপার্থিব সৌন্দর্য বলিউডের চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থেকেছে—এক স্বপ্নময় প্রেক্ষাপট, যেখানে প্রেমের গল্পগুলো পর্দায় উঠে আসত অপূর্ব রূপে। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত, গুলমার্গের তুষারাবৃত শিখর, পাহেলগামের সবুজ উপত্যকা আর ডাল লেকের শান্ত জলরাশি শুধু দৃশ্যপট নয়, যেন চরিত্রে রূপ নিয়ে ছিল এই ছবিতে। ‘জঙ্গলি’ (১৯৬১)-তে “ইয়াহু!” গানে শাম্মি কাপুরের উচ্ছ্বাস আর ‘বেমিসাল’ (১৯৮২)-এ আনন্দ বক্সীর গানে কাশ্মীর যেন এক জীবন্ত কবিতা হয়ে উঠেছিল। এই সময়ে কাশ্মীর ছিল বলিউডের প্রেমের প্রতীক—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন আবেগের গল্পগুলোকে আরও মায়াময় করে তুলত। বিশেষত ‘কাশ্মীর কি কলি’ (১৯৬৪)-তে শাম্মি কাপুর ও শর্মিলা ঠাকুরের রোম্যান্স ডাল লেকের শিকারা আর পাহেলগামের ঘাসে ঘেরা প্রান্তরে যেন জাদু ছড়িয়েছিল। “ইয়ে চাঁদ সা রোশন চেহেরা” গানটি হয়ে উঠেছিল প্রেমের এক অমর সঙ্গীত।
কাশ্মীরে চিত্রায়িত তিনটি রোমান্টিক মিউজিক্যাল
কাশ্মীর কি কলি (১৯৬৪): শক্তি সামন্ত পরিচালিত এই ছবিতে শাম্মি কাপুর প্রেম নিবেদন করেন শর্মিলা ঠাকুরকে কাশ্মীরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপটে। আর.ডি. বর্মণের সুরে গানগুলো আজও মুগ্ধ করে।
জব জব ফুল খিলে (১৯৬৫): নন্দা ও শশি কাপুরের প্রেমের গল্প ফুটে ওঠে কাশ্মীরের হাউসবোট ও বাগানঘেরা পরিবেশে। “পরদেশিওঁ সে না আঁখিয়াঁ মিলানা” গানটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ববি (১৯৭৩): রাজ কাপুরের নির্মিত কিশোর প্রেমের গল্প যেখানে ঋষি কাপুর ও ডিম্পল কাপাডিয়ার রসায়ন গুলমার্গের তুষারে রোম্যান্স ছড়ায়। “ম্যায় শায়ার তো নাহি” গানটি এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
ফিকে হয়ে যাওয়া এক সিনেমাটিক স্বর্গ
কিন্তু ১৯৮০’র দশকের শেষ দিকে কাশ্মীরে সুরক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বলিউড তার নজর ঘুরিয়ে নেয়। সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশ দৃশ্যপটের বিকল্প হয়ে ওঠে, কিন্তু কাশ্মীরের মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া সৌন্দর্য আর কোথাও মেলেনি। কাশ্মীর আজও স্মৃতিতে, গান-গল্পে ও সিনেমার রিলে এক স্বপ্নের রাজ্য—যেখানে প্রেম মানেই ছিল শিকারা, স্নোফল, আর পাহাড়ি হাওয়ায় মিশে থাকা সুর।