
গ্রাফিক: বৃষ্টিকণা সিরাজ
শেষ আপডেট: 18 October 2023 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সমানভাবে সাবলীল ছিলেন ভিন্নধারার ফিল্মেও। চরিত্রাভিনেতা হিসাবে বলিউডে তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। কিন্তু সেই তিনিই একসময় সংসার চালাতে চায়ের দোকানে কাজ করেছেন। এমনকী রেললাইন থেকে কয়লাও কুড়িয়েছেন। বুধবার, ১৮ অক্টোবর সেই প্রয়াত অভিনেতা ওম পুরীর জন্মদিন। বলিউড শুধু নয়, বিদেশি ছবিতেও যিনি ছিলেন পরিচালকদের অন্যতম পছন্দ। আজ, প্রয়াত অভিনেতার জন্মদিনে রইল এমনই কিছু অজানা তথ্য।
১৯৫০ সালে পাঞ্জাবের অম্বালায় এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম ওম পুরীর। কিশোর বয়সে স্কুলে ভর্তি করানোর সময় অভিনেতার কাকা তাঁর জন্মদিন হিসাবে ৯ মার্চ তারিখটি লিখে দিয়েছিলেন। পরে বড় হয়ে ওম পুরী নিজেই হিসাব করে ঠিক করেন, ১৯৫০ সালের ১৮ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। বাবা ছিলেন রেলকর্মী। এর পাশাপাশি কিছুদিন কাজ করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও। কিন্তু সিমেন্ট চুরির দায়ে ওম পুরীর বাবাকে জেলে পুড়ে দেওয়া হয়। এরপরই গৃহহীন হয়ে পড়ে তাঁর পরিবার।
সংসারের ভার এসে পড়ে ওম ও তাঁর দাদার কাঁধে। কুলির কাজ শুরু করেন দাদা আর চায়ের দোকানে লেগে পড়েন ওম পুরী। সেখানে কাপ, গ্লাস, প্লেট ধোয়ামোছার কাজ করতেন তিনি। এমনকী পরিবারকে সাহায্য করতে রেললাইন থেকে কয়লা কুড়ানোর কাজও করেছেন। তবে এত অভাব-অনটনের মধ্যেও নিজের পড়াশোনা বন্ধ করেননি ওম। ছোট থেকেই নাটকের প্রতি প্রচুর আগ্রহ ছিল তাঁর। তাই যেখানেই সুযোগ পেতেন, ছোটখাটো চরিত্র হলেও অভিনয় করতে চলে যেতেন।
পড়াশোনা শেষ করে ওম যোগ দেন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা বা এনএসডি-তে। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন বলিউডের আর এক বিখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনিই তাঁকে পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া বা এফটিআইআইয়ে যেতে পরামর্শ দেন। সেসময় প্রয়াত অভিনেতার এতটাই হতদরিদ্র অবস্থা ছিল যে, ক্লাসে পড়তে যাওয়ার জন্য একটা ভাল জামাও ছিল না। অনেক কষ্ট করে সেখানে পড়াশোনা শেষ করেন। আর সেখান থেকেই একসময় সুযোগ পান বলিউডে।
ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ওম পুরীর! তাঁর প্রথম ছবি ‘চোর চোর চুপ যা’। মূলধারায় তাঁর প্রথম ছবি ছিল ‘ঘাসিরাম কোতোয়াল’। ১৯৭৬ সালে মারাঠি ভাষায় ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর ‘সদগতি’, ‘আক্রোশ’, ‘দ্রোহকাল’, ‘হে রাম’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। আবার ‘মালামাল উইকলি’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘জানে ভি দো ইয়ারো’, ‘চাচি ৪২০’, ‘হেরা ফেরি’র মতো ছবিতে কমিক চরিত্রেও তাঁর অভিনয় পছন্দ করেছিলেন দর্শকরা। আবার ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর মতো ছবিতে স্বল্প সময়ের চরিত্রে তিনি ছিলেন অনবদ্য।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে ওম পুরী পছন্দের তালিকায় উপরের দিকেই ছিলেন। ‘গান্ধী’, ‘চার্লি উইলসনস ওয়ার’, ‘সিটি অব জয়’-এর মতো ছবিগুলিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। মুখে বসন্তের দাগ নিয়েও যে ক্যামেরার সামনে রুপোলি পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা যায়, তাঁর অন্যতম উদাহরণ ওম পুরী। সে অর্থে গ্ল্যামার কোনওদিনই ছিল না। হয়তো সেই কারণেই মূলধারার ছবিতে নায়ক হতে পারেননি কোনওদিন। কিন্তু চরিত্রাভিনেতা ওম পুরীকে অস্বীকার করার উপায় নেই বলিউডে।