
শেষ আপডেট: 21 May 2022 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ বছর আগে থেমেছিল ভৌতিক হাভেলির যাবতীয় রহস্যের মোচড়। রাজবাড়ির তেতলার ঘরে আটকে থাকা মঞ্জুলিকার আত্মা ফের পুরনো নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনল ‘ভুলভুলাইয়া ২’তে (Bhool Bhulaiyaa 2)। আর প্রথম দিনেই বক্স অফিসেও রেকর্ড গড়ে ফেললেন কার্তিক আরিয়ান, তাব্বু, কিয়ারা আদবানিরা।

‘ভুলভুলাইয়া ২’-র (Bhool Bhulaiyaa 2) প্রথম দিনের বক্স অফিস কালেকশন ১৪.১১ কোটি টাকা। এবছর বলিউডের ডে ওয়ান কালেকশনে ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ কিংবা ‘বচ্চন পাণ্ডে’কে পিছনে ফেলে প্রথমে উঠে এসেছে এই ছবি। আর সমালোচকরা বলছেন, ‘ভুলভুলাইয়া ২’র সবচেয়ে বড় পাওনা তাব্বুর অভিনয়।
আরও পড়ুন: অনীকের আবিষ্কার হরকুমার! ‘অপরাজিত’র ইন্দির ঠাকরুন ফেরালেন চুনিবালার নস্টালজিয়া
১৫ বছর আগের ‘ভুলভুলাইয়া’ ছবির সঙ্গে তার এই সিক্যুয়েলের মিল অনেক আছে। আবার অমিলও রয়েছে ভূরিভূরি। সেই পুরনো হাভেলি, তেতলার ভূতুরে ঘর, সে ঘরে বন্দি বাঙালিনী মঞ্জুলিকার অন্তহীন অপেক্ষা- সবই ফিরিয়ে আনা হয়েছে নতুন ছবিতেও। তবে এখানে নেই পুরনো কলাকুশলীরা (Bhool Bhulaiyaa 2)। অক্ষয় কুমার, বিদ্যা বালানরা মিলে যে ছবি জমিয়ে দিয়েছিলেন এখানে সেই জায়গায় এসেছেন কার্তিক আরিয়ান, কিয়ারা আদবানি আর তাব্বু।

মঞ্জুলিকার প্রেতাত্মাকে এবারও ভুল করে ঘর থেকে বের করে আনেন ছবির মূল চরিত্ররা। অজানা রহস্যের খনি যেন হঠাৎ উন্মোচিত হয়ে যায় হাভেলিতে। তবে নাচে-গানে-অভিনয়ে আগের ‘ভুলভুলাইয়া’কে ছাপিয়ে যেতে পারেননি কার্তিক আরিয়ানের ছবি। পুরনো নতুনের মিশেলে এটা যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা জগাখিচুড়ি। কোথা থেকে কীভাবে কী যে হয়ে যাচ্ছে, সেসব যুক্তির খুব একটা ধার ধারে না আনীস বাজমির ‘ভুলভুলাইয়া ২’ (Bhool Bhulaiyaa 2)।
‘ভুলভুলাইয়া’ ছবিতে যে মায়াময় মুগ্ধতার আবেশ তৈরি হয়েছিল, দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল যে হরর কমেডির হিউমার, দ্বিতীয় সিক্যুয়েন্সে (Bhool Bhulaiyaa 2) তার লেশমাত্র নেই। বরং কার্তিক-কিয়ারার প্রেম অনেকটাই জোর করে ঢোকানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে। গানগুলোও খুব একটা শ্রুতিমধুর হয়নি।

এতসব নেগেটিভের মাঝে ‘ভুলভুলাইয়া ২’র একমাত্র পজিটিভ সম্ভবত তাব্বু। বরাবরের মতোই স্ক্রিনজুড়ে ঝকঝকে তাঁর অভিনয়। অক্ষয় কুমার বিদ্যা বালানদের অভাব কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছেন তিনি একাই। একার কাঁধেই বয়েছেন সিনেমার স্টোরিলাইন। তাব্বুকে ছাড়া এই ছবি একেবারেই ‘ট্র্যাশ’ আখ্যা পেত, বলাই বাহুল্য।
অক্ষয় কুমারের ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলিয়ে খুব একটা হতাশ করেননি কার্তিক আরিয়ান। তবে তাঁর চরিত্রটা আরও খানিক ঘাঁটার সুযোগ পেলে ভাল হত। রুহান এখানে উঠতি বয়সের ছেলে যার হাতে প্রচুর সময় আর সেই সময়টা সে মেয়েদের পিছনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কাজে লাগায়- এর চেয়ে বেশি রুহান সম্পর্কে আর কিছুই জানা যায়নি। মাঝেমধ্যে তাঁর দুর্বল জোকস ছবির কোয়ালিটি খারাপ করেছে।

কিয়ারা আদবানিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভাল। সিনেমায় হিরো আছে তাই হিরোইন দরকার, শুধুমাত্র সেই কারণেই ‘ভুলভুলাইয়া ২’তে আছেন কিয়ারা। তাঁর হাত ধরে ওই একফোঁটা রোম্যান্স এই হরর কমেডিতে অপরিহার্য ছিল না।
আরও পড়ুন: হঠাৎ করে ওজন বাড়ছে? ফুলছে হাত-পা-গোড়ালি, কারণটা সাঙ্ঘাতিক
ছোটা পণ্ডিতের পুরনো চরিত্রে রাজপাল যাদব এবারও চমকে দিয়েছেন। তাঁর জম্পেশ অভিনয়, কমেডির মাত্রা বাড়িয়েছে, দর্শকদের দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত কমিক রিলিফ। একইসঙ্গে পার্শ্বচরিত্রে সঞ্জয় মিশ্রের নামও না করলেই নয়। অক্ষয় কুমারের মতো কার্তিকও ভূত ভাগাতে পারলেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে।