
শেষ আপডেট: 12 October 2023 16:06
সামনেই পুজো। পুজোর সাজো-সাজো রব চারিদিকে। আর এই পুজোর আমেজ সবার আগে যে জিনিস নিয়ে আসে তা হল পূজাবার্ষিকী। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পুজো সংখ্যা অনেক আগে থেকেই বেরোতে শুরু করে। বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের লেখা গল্প, কবিতা কিংবা উপন্যাস পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন বইপ্রেমীরা। আজ দ্য ওয়ালের আড্ডায় হাজির এমন এক মানুষ, যিনি একজন জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েও বর্তমানে লেখালিখিতে হাত পাকিয়েছেন। দুই সত্ত্বাতেই তিনি আজ ভাস্বর। 'দ্য ওয়াল'-এর পুজো আড্ডায় এদিনের অতিথি অভিনেতা-লেখক ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।
বাড়ির পুজোর পরম্পরা
ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি বাঁকুড়ায়। সেখানে তাঁদের পারিবারিক ভিটেতে অষ্টধাতুর মা দুর্গাকে পুজো করা হয়। ছোটবেলার পুজো মানেই ভাস্বরের মন জুড়ে বাঁকুড়ার স্মৃতি। গায়ে সেলিব্রিটি তকমা লেগেছে ঠিকই। কিন্তু বাড়ির পুজো নিয়ে ভাস্বরের নস্ট্যালজিয়া এতটুকু কমেনি। প্রতিবারই শ্যুটিং থেকে ছুটি নিয়ে চলে আসেন বাঁকুড়ার পারিবারিক পুজোতে। এবারে ভাস্বরদের বাঁকুড়ার পুজো ৮৪তম বছরে পা দিচ্ছে পা দিচ্ছে।
প্রথম পূজাবার্ষিকীতে লেখা
বাড়ির পুজো নিয়ে উন্মাদনা ভাস্বরের জীবনে এত বছর পরেও একই রকম। তবে এবার তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে আরও কয়েকটি শুভ খবর।
'দ্য ওয়াল'কে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ বছর প্রথম পূজাবার্ষিকীতে লেখালিখির সুযোগ হয়েছে তাঁর। 'একসঙ্গে পাঁচটা পূজাবার্ষিকীতে আমার লেখা গল্প বেরোল। পূজাবার্ষিকী গুলো হল অক্ষরের রূপকথা, রংমিলান্তি পাবলিশার্স, উমা পত্রিকা এবং সবথেকে উল্লেখযোগ্য পত্রভারতীর কিশোরভারতী শারদসংখ্যাতে এবছর লিখলাম। এটা একটা বড় প্রাপ্তি। এছাড়াও আটলান্টার একটি বাংলা পুজোসংখ্যাতে ছোটগল্প লিখেছি। পুজো সংখ্যায় লেখা যে কোনও লেখকের কাছেই স্বপ্ন। সেই দিক থেকে এবারের পুজো খুব স্পেশাল আমার জন্য,' জানিয়েছেন ভাস্বর।
স্বপ্নের লাল গাড়ি
'এই প্রথমবার পুজোর ঠিক মুখে আমি গাড়ি কিনছি। আমি এতবছর গাড়ি ব্যবহার করছি, কিন্তু পুজোর সময় কোনও বার গাড়ি কিনিনি। কিন্তু এবার পুজোর জুতো-জামার সঙ্গে নতুন গাড়িও আসছে। আমার কখনও লাল গাড়ি ছিল না এর আগে। এই প্রথমবার আমার লাল গাড়ি হচ্ছে, শিশুর মতো উচ্ছ্বসিত অভিনেতা।
কাশ্মীর টু কলকাতা ভাস্বরের কলমে
লেখালিখির জগতে এখন জনপ্রিয় নাম ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর লেখা পরের পর বই রীতিমতো বেস্টসেলার। সেলিব্রিটি থেকে সাধারণ পাঠক, অনেকেই কিনেছেন ভাস্বরের লেখা বই। ভাস্বর জানালেন 'কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা 'মহারানি দিদ্দা'। এই বইটা নিয়ে ইতিবাচক প্রশংসা পাচ্ছি সব জায়গা থেকেই। বইটার রেকর্ড সেলও হয়েছে সব জায়গায়। আর পুজোর ঠিক পর কালী পুজোর আগেই 'দীপ প্রকাশন' থেকে আসছে আমার লেখা নতুন বই। রহস্য উপন্যাসধর্মী সেই বইয়ের নাম 'শ্রীকান্ত মঞ্জিলের রহস্য'। কাশ্মীর বাদ দিয়ে প্রথম কলকাতার গল্প লিখলাম। আমার ছোটবেলা কেটেছিল বাঙালির ভবানীপুর দেখেই। ১৯৮২ সালে ভবানীপুর এলাকার পটভুমিতে লেখা রহস্য গল্প এটি। আশা করছি পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে বইটা। আবার বইমেলায় 'ঘরে বাইরে পাবলিকেশন' থেকে বেরোচ্ছে আমার লেখা প্রথম উপন্যাস 'অন্য উপত্যকার' দ্বিতীয় ভাগ 'আলোর উপত্যকা'। এসব নিয়েই মেতে আছি পুজোয়।'
১০ টা জামায় ফিরে পাওয়া ছেলেবেলা
ভাস্বর জানালেন, পুজোয় নিজের জন্য হয়তো একটা দুটো জামা কিনি। বাবাকে নতুন জামা কিনে দিই। বাড়ির মা দুর্গার জন্য শাড়ি কিনি। কিন্তু নিজে না কিনলেও বিভিন্ন লোকজন আমাকে গিফট দেন। এই করে এই করে এই বয়সে এসেও আমার এবার পুজোতে আট-দশখানা মতো জামা হয়ে গেছে (হাসি)। লোকে ভালবাসে তাই আর কী, পেয়েছি।'
স্বপ্নে যখন দুর্গা
'পুজোর প্ল্যান নিয়ে একটু আশঙ্কায় আছি কারণ বৃষ্টিটা যদি আবার আসে চাপ হয়ে যাবে। পুজোর সময় আমার কিছু উদ্বোধন আছে, বিচারক হওয়ার আছে। কিন্তু বৃষ্টি পড়লে সব মাটি। সাধারণ মানুষ যাঁরা এই সময়টার জন্য মুখিয়ে থাকেন তাঁদের পক্ষে খুব দুঃখজনক। মা মুখ তুলে চাইলে বৃষ্টিটা হবে না,' আশাবাদী অভিনেতা তথা লেখক।
'মাকে এবার শুধু একটা কথাই বলছি, বড্ড যুদ্ধ চারিদিকে। আমার মনটা খুব খারাপ। এত বছর ধরে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। তার মধ্যে এখন ইজরায়েলে শুরু হল নতুন করে। জানি না মানুষ কবে বুঝবে মৃত্যু দিয়ে কোনও সমাধান হয় না। কাশ্মীরের সর্বক্ষণ সমস্যা তো আছেই। এইসব ডামাডোলের গল্প আমার উপন্যাসেও আছে। বর্ডার মানেই গোলাগুলি, এসব ভাল লাগে না।
আমার সুপ্ত ইচ্ছের কথা বলি। আমার একান্ত ইচ্ছে, আগামী বছর কাশ্মীরে ছোট্ট মায়ের মূর্তি নিয়ে গিয়ে দুর্গাপুজো করব। বিরাট করে সম্ভব নয়, নিজের মতো করে করব। দেখা যাক, বাকি তো সব মায়ের হাতে।'