
শেষ আপডেট: 14 April 2022 13:22
জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) সুগায়কও। এ বছরই নববর্ষে রিলিজ করছে ভাস্বরের নতুন বাংলা কাশ্মিরী গান। মন ভাল করা এ খবরের সঙ্গে ভাস্বর ভেসে গেলেন তাঁর ছেলেবেলার পয়লা বৈশাখের গল্পে। শুনলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভবানীপুরে ছিল আমাদের যৌথ পরিবার। বাবা, মা ছাড়াও কাকা, পিসি সবার সঙ্গে একসঙ্গে থাকা। একসঙ্গে নববর্ষ কাটানো। তখন আমি ক্লাস থ্রি। পয়লা বৈশাখের আগে থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনা শুরু হয়ে যেত। প্রথম নতুন জামা কেনা দিয়ে শুরু হত। শুধু নিজের জন্য কেনা তা নয়, সবাইকে দেওয়া। এমনকি বাড়িতে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদেরও দেওয়া হত। সেই ট্র্যাডিশনটা আমি আজও বজায় রেখে চলেছি। আমার বাড়িতে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের নববর্ষে উপহার দিই। সে নতুন জামা বা কেউ যদি বলেন দাদা টাকা দিয়ে দাও, তাঁকে টাকা দিয়ে দিই। এরপর দুপুরে ছিল সবাই মিলে খাওয়া। বাঙালি ঘটি বাড়ি, তাই পাঁঠার মাংস, চিংড়ি, পোলাও এসব তো থাকবেই। আর রাত্রে হত লুচি, তরকারি, মিষ্টি।

তারপর একান্নবর্তী পরিবার থেকে হল বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা। পয়লা বৈশাখের বিকেলবেলা নিয়ম ছিলই যে কোথাও একটা বেড়াতে যাওয়া হবে। তখন তো এখনকার মতো শপিং মলে ঘুরে বেড়ানোর কিছু ছিল না। হয়তো কারও বাড়ি যাওয়া হত বা ময়দানে হাওয়াতে একটু বসা হল বা ঘোড়ার গাড়ি চড়া হল। আরেকটা যেটা ছিল, নববর্ষে থিয়েটার দেখতে যাওয়া। যেটা আজকাল একেবারেই উঠে গেছে। সেসব থিয়েটার হলই নেই।

আমার খুব আবছা মনে আছে, আমি তখন খুবই ছোট। এরকমই এক নববর্ষে আমরা একসঙ্গে 'জয় মা কালী বোর্ডিং' নাটক দেখতে গেছিলাম, যাতে স্বয়ং ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইভ স্টেজ অভিনয় দেখেছিলাম। সবাই তো আমরা মধ্যবিত্ত, তাই দুম করে ট্যাক্সি করে যাওয়ার পরিসর ছিল না। আমরা দক্ষিণে থাকতাম, তাই বাসে করে যেতাম ধর্মতলা, সেখান থেকে আরেকটা বাসে করে যেতাম উত্তরে বা ট্রামে চড়ে যেতাম। সেটাতে কিন্তু একটা মজা ছিল। অনেকসময় দক্ষিণেই মুক্তাঙ্গনে গিয়ে বাংলা থিয়েটার দেখে এলাম বা বাংলা ছবি দেখতে গেলাম। থিয়েটারে আমি নিজেও অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই মাধ্যমটা একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

নতুন জামা কাপড় কেনার মধ্যেও ছিল বাঙালি দোকানের ট্র্যাডিশন। নববর্ষে কিন্ত আমরা নিউ মার্কেট যেতাম না। ভবানীপুর অঞ্চলে কালীঘাট মন্দিরের কাছে লক্ষ্মী কাটরা, গণেশ কাটরাদের দোকান ছিল। সেসব আজ বিলুপ্ত। কাটরাদের দোকানে গিয়ে জামা, শাড়ি, ধুতি কেনা হত। এমনও হত, কাটরাদের দোকানে গিয়ে আমাদের দিদা সব নাতি-নাতনিদের জন্য একই ছিটের বাড়িতে পরার জামা বানাতেন। সবার একই রকমের জামা হত। সেগুলো এখন তো কেউ জানে না। এসব দোকানে আমার মা-দিদারা নিয়মিত যেতেন বলে তাঁরাও খুব খাতির করতেন। সে যুগে ব্র্যান্ডের ওপর মানুষ এত বিশ্বাসী ছিল না। আমরা সবাই সাধারণ ছিলাম। এখন হয়ে গেছে 'হ্যাপি পয়লা বৈশাখ'।
আরেকটা বিষয় মনে পড়ছে, তখন পাড়ায়-পাড়ায় রাধাবল্লভি বিক্রি করত, মাথায় কাঠের বাক্স করে। নববর্ষের দিন ওই লোকটিকে বাড়িতে ডেকে রাধাবল্লভি খাওয়া হত।

তবে এবারের পয়লা বৈশাখটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। তার কারণ পয়লা বৈশাখে আমার কাশ্মিরী বাংলা গানটা মুক্তি পাচ্ছে। আমি আর প্রিয়স্মিতা ঘোষ কাশ্মিরী গান 'দ্য গাউন' গেয়েছি। চারুলতা মাধবী মুখোপাধ্যায় আমাদের গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে আমাদের ধন্য করেছেন। গানটার কিছুটা কাশ্মীরে শুট, কিছুটা কলকাতায় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুট হয়েছে। এই নববর্ষে আমাদের এই বিশেষ নিবেদন আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।
