
ফেডারেশন-পরিচালক
শেষ আপডেট: 8 February 2025 13:44
ম্যারাথন বৈঠক। প্রথমে দুই মন্ত্রী, তথা ইন্দ্রনীল সেন এবং অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে। যা চলে মোটামুটি আড়াই ঘন্টা। উপস্থিত ছিলেন সুদেষ্ণা রায়, শ্রীজিত রায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, প্রমুখ। সাড়ে আটটা নাগাদ, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়েই হন্তদন্ত হয়ে হেঁটে চলে গেলেন সুদেষ্ণা রায়রা, প্রশ্ন ছোড়া হল, কী সিদ্ধান্ত হলো? বললেন, ‘সিদ্ধান্ত মিটিং করে নিতে হবে, একা নিতে পারি না।’
তারপর আরও সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে চলে ডিরেক্টর্স গিল্ডের অফিসে সেই মিটিং। যোগ দিলেন রাজ চক্রবর্তী, পরমব্রতরা। সময়ের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও চলতে থাকল আলোচনা। বাইরে তখন সাংবাদিকদের ভিড়। তারপর রাত পৌনে বারোটা নাগাদ শুরু হল, ডিরেক্টরস গিল্ডদের সাংবাদিক বৈঠক। পরিচালক শ্রীজিত রায় বললেন, দুই মন্ত্রীই তাঁদের (শ্রীজিত এবং জয়দীপের) শুটিংয়ের কাজ শুরু হবে, তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তাঁরা খুশি, এবং এও বললেন, স্টেকহোল্ডার কিংবা প্রযোজকদের পাশে পাননি, পরিচালক গিল্ড, দুই মন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। এও আশ্বস্ত করেছেন, যে সমস্যাগুলো বারবার তৈরি হচ্ছে টলিপাড়া ঘিরে, তা দুই মন্ত্রীই তথা, অরূপ বিশ্বাস এবং ইন্দ্রনীল সেন, সামনের সারিতে থেকে সমাধান করবেন।
মোটামুটি একই সুরে কথা বললেন ডিরেক্টর্স গিল্ড-এর সম্পাদক সুদেষ্ণা রায়, বললেন, আমাদের (DAEI, directors association of eastern india) যা অভিযোগ এবং ফেডারেশনের যা সমস্যা তা মন্ত্রীর কাছে পেশ করতে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির পর তাঁরা সম্মিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে, তা সমাধান করবেন। এও বললেন, ডিরেক্টর্স গিল্ডের কোনও সদস্যকে এভাবে পিনালাইজ করা যাবে না, উনি তা লিখিত বা মৌখিকভাবে দিতে পারেননি, তবে দুই মন্ত্রীই তাঁদের বলেছেন, ‘আমার উপরে বিশ্বাস রাখো, সমস্যা হলে আমরা আছি’। পরিচালক শ্রীজিত এও জানান, ‘আগামিকাল থেকে ফ্লোরে আমরা যাব’।
দ্য ওয়াল প্রশ্ন রাখে, মৌখিক আশ্বাস আগেও দেওয়া হয়েছিল, উত্তরে সুদেষ্ণা রায় বলেন, ‘আমি এটা বাড়াতে চাই না, লিখিতভাবে হতে গেলে, কি একদিনে হয়? বসতে হয়। আগেরবার আমাদের হাত পুড়েছিল, সেটা ভুলে যান। এইখানে যখন উনি বলেছেন, একেবারে টাইম ফ্রেম বেঁধে দিয়েছেন, এই মাসে। আমাদেরও তো আমাদের জিনিসগুলো (অভিযোগ) দিতে হবে, বলতে হবে। উনি আমাদের পাশে আছেন, সবার পাশে আছেন,’
দু’জন পরিচালক কাজে ফিরতে পারলেও, জাতীয়পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে কি কোনও পথ খুলল, এ প্রশ্নের উত্তরে সুদেষ্ণা বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম কিন্তু উনি নিজেই (কৌশিক) এটা মোকাবিলা করেছেন, উনি নিজেই বলেছিলেন, সব মিটে গিয়েছে। তারপর প্রোডিউসার যদি কিছু না করে, তাহলে আমরা কিছু করতে পারব না!’প্রসঙ্গত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী হাত তুলে নিয়েছেন ‘জংলা’ থেকে, সূত্রের খবর বাধ্য করা হয়েছে!
আপাতত খানিক স্বস্তির নিশ্বাস টলিপাড়ায়। পরিচালকরা ফ্লোরে ফিরলেন। গত তিনদিনের এই দ্বন্দ্ব খানিক মিটল। কিন্তু এই ‘খানিক’ স্বস্তি কি ক্ষণিকের না তা দীর্ঘস্থায়ী, নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না পরিচালকদের একাংশ। আপাতত অপেক্ষা ২০ তারিখের, সামনাসামনি (directors association of eastern india, federation of cine technicians & workers of eastern)বসে কি সমস্যার সমাধান হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ডিরেক্টর্স গিল্ড এবং ফেডারেশেন। দু’পক্ষই।