
শেষ আপডেট: 18 September 2022 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি যে জাত অভিনেতা, সেই নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। সিনেমা, সিরিয়াল হোক কিংবা নাটকের মঞ্চ- সর্বত্র তাঁর অবাধ বিচরণ এবং সিংহসম রোয়াব। তবে কথায় আছে, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। তিনিও বিশেষ পাননি। তবে প্রতিভার মূল্য সবাই একদিন পায়। আর এতদিনে নিজের সেই লালিত এবং পালিত প্রতিভার দাম পেলেন অভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen)। বাংলা ছাড়িয়ে একেবারে বিদেশের মাটিতে জিতলেন পুরস্কার। সুদূর রাশিয়ায় (Russia) সম্মান অর্জন করে বাংলার নাম আরও উজ্জ্বল করলেন তিনি।
অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশিত ‘দ্য ক্লাউড অ্যান্ড দ্য ম্যান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ‘প্যাসিফিক মেরিডিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব' (Pacific Meridian film festival)-এ সেরা পুরুষ অভিনেতার (best actor award) শিরোপা জিতলেন এই বিশিষ্ট অভিনেতা। তাঁর এই সাফল্যের খবর দু'দিন আগেই ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়ার কোনায় কোনায়। এরপরই শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে গেছেন অভিনেতা। তাঁর অন্যতম সহকর্মী-বন্ধু জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চন্দনকে। লিখেছেন, ‘দ্য ক্লাউড অ্যান্ড দ্য ম্যান ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাশিয়ার প্যাসিফিক মেরিডিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ পুরুষ অভিনেতার পুরস্কার পেলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা চন্দন সেন। অভিন্দন।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবিটি। এক পুরুষ ও এক মেঘের মধ্যের সম্পর্কই এই ছবির প্রধান উপজীব্য। চন্দন সেন ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন অরুণ গুহ ঠাকুরতা, দেবেশ রায়চৌধুরী, ব্রাত্য বসুর মতো জাত শিল্পীরা। এঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং নাটকের মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছেন।
শরৎচন্দ্রের জন্মদিনে মুক্তি পেল ‘দত্তা’র ফার্স্টলুক, আভিজাত্যের দৃঢ়তায় ‘বিজয়া’ ঋতুপর্ণা
১৯৭৭ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে থিয়েটারে মাধ্যমে শিল্পীজীবনের সূচনা হয়েছিল চন্দন সেনের। নয়ের দশকের একদম শেষদিকে এসে পা রাখেন চলচ্চিত্র জগতে। 'লাঠি', 'রিফিউজি', 'ম্যাডলি বাঙালি'র মতো উল্লেখযোগ্য ছবি রয়েছে তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারে। অঞ্জন দত্তের বানানো ব্যোমকেশেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রয়াত চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের 'বাড়িওয়ালি' ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন চন্দন সেন। সেই ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রসঙ্গে সহকর্মী সুদীপ্তা চক্রবর্তী বলেছিলেন, 'চন্দনদা বিপরীতে না থাকলে আমার কাজ আমি করতেই পারতাম না।' এমনকি জনপ্রিয় বেশ কিছু বাংলা সিরিয়ালেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। ‘ইষ্টি কুটুম’, ‘খড়কুটো’, 'ইচ্ছেনদী'র মতো সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় মন জিতে নিয়েছিল দর্শকদের।
মাঝে ২০১০ সাল নাগাদ তাঁর শরীরে মারণরোগ ধরা পড়ে। সেই থেকে এখনও অবধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। এমনও দিন গিয়েছে ফ্লোরে শট দেওয়ার পর কেমো নিতে গিয়েছেন তিনি, এমনই অদম্য জেদ তাঁর। তাই তো মারণ রোগও থামাতে পারেনি তাঁকে। কঠিন মনোবলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশের মাটিতে পুরস্কার জেতার পর অবশেষে নিজের এই লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন অভিনেতা, এমনটাই মনে করছেন তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে গুণমুগ্ধরা।