
শেষ আপডেট: 29 November 2023 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা/ও আমার দুই চোখে দুই জলের ধারা- মেঘনা-যমুনা।"
ভূপেন হাজারিকা সেই কবেই দুই বাংলা তথা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন তাঁর গানে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই একতা, সেই ঐক্যেই যেন ভাঙন ধরেছে! দুই দেশেই বাড়ছে দুই দেশের প্রতি বিদ্বেষ। মূলত ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের 'শত্রুতা' মাত্রাছাড়া হয়ে গিয়েছে। আর বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত হারার পর একাংশ বাংলাদেশির উচ্ছ্বাস নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সেই নিয়ে মুখ খুলে পাল্টা বিতর্কে জড়িয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও। তাই ঐক্যের বার্তা দিতে চঞ্চল এবার সেই ভূপেন হাজারিকার শরণাপন্ন হলেন। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেই গান শুনলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। দেশ শাসনের ভার এবারও ধরে রাখতে মরিয়া শেখ হাসিনা ও শাসকদল আওয়ামি লিগ। গত রবিবার তাঁরা মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। সেখানে দেখা গিয়েছে, সিনেমা এবং ক্রীড়া জগতের বেশ কয়েকজন তারকাকে। অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদ থেকে ক্রিকেটার সাকিব-আল-হাসান, বেশ ওজনদার নাম রয়েছে আওয়ামি লিগের প্রার্থী তালিকায়। এরমধ্যেই সম্প্রতি দেশের সিনেমাজগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। কী কারণে দু'পক্ষের সাক্ষাৎ, তা অবশ্য জানা যায়নি। অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বুধবার বেলার দিকে ফেসবুকে সেখানকার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ঘরভর্তি লোক। ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী, নুসরত ফারিয়া-সহ আরও অনেকে। সেই ভিড়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাঁদের সবাইকে চঞ্চল শোনালেন ভূপেন হাজারিকার গাওয়া 'চোখ ছলছল করে ওগো মা'। চঞ্চল যখন গাইছেন, "চোখ ছল ছল করে ওগো মা... কী ব্যথা অন্তরে ওগো মা.../ভাঙনের যে খেলা চারিধার, নেই আজ গান একতার", তখন অভিনেতার কণ্ঠে যেন ফুটে উঠছিল গত কয়েকদিন ধরে চেপে রাখা চাপা সমস্ত দুঃখ-অভিমান। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেই গান শুনলেন সবাই। গান শেষ করে চঞ্চল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর শেখ রেহানার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন।
এই ঐক্যের গান দিয়ে চঞ্চল যে এতদিন ধরে চলা সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে চাইলেন, সেটাই মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ। কারণ, বিশ্বকাপের পর তৈরি হওয়া নতুন বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছেন অভিনেতা নিজেও। বাংলাদেশে তাঁর ছবি বয়কটের হুমকিও দিয়েছেন একাংশ। কিন্তু চঞ্চল ঠিক কী বলেছেন, সেটা অনেকেরই অজানা। দিনকয়েক আগে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চঞ্চল বাংলাদেশের জনগণের এমন ভারত-বিরোধী হাবভাব নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন। তার মধ্যে অভিনেতার একটি মন্তব্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়। সেটি হল, "বাংলাদেশের যে নাগরিকরা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে মনে রাখে না, তারা বংশ পরম্পরায় ভারত বিরোধী। তারা সব সময় পাকিস্তানের পক্ষে।"