
শেষ আপডেট: 9 October 2023 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমকামিতা নিয়ে ভারতের মতোই বাংলাদেশেও মানুষের একাংশের মধ্যে এখনও জড়তা রয়েছে। বিশেষ করে মৌলবাদীরা তা মোটেও বরদাস্ত করে না। কিন্তু বাঁধন আর তাঁদের পরোয়া করেন না। বলিউড অভিনেত্রী তাব্বুর সঙ্গে তাঁর যে অনস্ক্রিন সমকামী প্রেম, তা নিয়ে আজমেরি হক বাঁধন একেবারেই সোজাসাপ্টা।
তাঁর কথায়, “আমার বয়স এখন চল্লিশ। ৩৫ বছর বয়সে জীবন নতুন করে শুরু করেছি। তার আগে একটা বাঁধন ছিল, তারপরেও একজন বাঁধন রয়েছে। আগে পরিবার, বন্ধু, সমাজের জন্য বাঁধন বেঁচেছে। আজ বাঁধন বাঁচে নিজের জন্য। কোনও শিকল নেই তাঁর।”
বাংলাদেশে সরকারি আমলার মেয়ে বাঁধন একজন ডেন্টাল সার্জন। ২০০৫ সালে তাঁর বিয়ে হয়। সেই বৈবাহিক জীবন ছিল তাঁর কাছে এক কালো অধ্যায়। মারধর, অত্যাচারের জন্য এক সময়ে ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন। আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিজেকে একটু একটু করে মুক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে তাঁর একমাত্র মেয়ের আইনি কাস্টডিও পেয়েছেন।
নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পেয়েছে বিশাল ভরদ্বাজের ছবি ‘খুফিয়া’। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এক অফিসারকে নিয়ে এই কাহিনী। কীভাবে ভারতীয় এক গুপ্তচর মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করছিল, মূল গল্প আবর্তিত তা নিয়েই। তাব্বুও এই ছবিতে একজন র-অফিসারের ভূমিকায় করেছেন। বাংলাদেশে অপারেশনে গিয়ে তাঁর আলাপ হয়েছে হিনা রহমানের সঙ্গে। এই হিনা রহমানই হলেন বাঁধন। ‘র’ এজেন্ট হিসাবে তাঁর নাম অক্টোপাস।
তাব্বু ও বাঁধনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি এই ছবিতে জমজমাট। বিশাল ভরদ্বাজ কাজের কাজটি করিয়ে নিয়েছেন দুই অভিনেত্রীকে দিয়ে। কিন্তু তাঁদের সমকামিতা নিয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া মহলে একাংশ আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। তার কারণ, এক সমকামী চরিত্রে অভিনয়। দুই, এই ছবিতে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে খুন করা হচ্ছে। হিনা রহমান তথা বাঁধন তাঁকে হত্যা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাচ্ছে। তারপর তাঁর গলায় ফোর্ক তথা কাঁটা চামচ ঢুকিয়ে হত্যা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মির্জা। পরে আমেরিকায় র অফিসারের হাতে খুন হন মির্জা।
বাঁধন অবশ্য এই সব সমালোচনাকে তোয়াক্কা করছেন না। বলিউডে এটাই তাঁর প্রথম ছবি। স্বল্প সময়ের জন্য তাঁর স্ক্রিন উপস্থিতি থাকলেও বাঁধনের অভিনয় সমাদৃত হচ্ছে। বাংলাদেশি এই অভিনেত্রী দ্য প্রিন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশাল ভরদ্বাজ আমাকে আগেই বলেছিলেন, এই ছবিতে একটা সমকামিতার বিষয় রয়েছে। কোনও সমস্যা হবে কিনা উনি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কাছে বলিউডে অভিনয়, বিশাল ও তাব্বুর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ বড় মনে হয়েছে।”
তাঁর কথায়, “আমি জানি বাংলাদেশে কেউ কেউ বলাবলি করবে। সমাজের কিছু লোক সংকীর্ণ মনের। কিন্তু এও ঠিক বাংলাদেশ সবাইকে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার দিয়ে রেখেছে”।
বাঁধনের চরিত্রটি প্রথমে মেহজাবিন চৌধুরীকে অফার করা হয় বলে খবর। তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে মেহজাবিন জানিয়েছেন, বিস্তারিত জানার পর কাজটি ‘না’ করে দেন তিনি। কারণ তাঁর মনে হয় এতে বিতর্ক তৈরি হবে। জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রে ‘ভুল’ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্ত হতে চাননি মেহজাবিন।