
শেষ আপডেট: 3 March 2023 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ডাকঘর' (Dakghor) নিয়ে দিনকয়েক ধরেই জোর চর্চা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। হইচই (Hoichoi) প্ল্যাটফর্মের এই ওয়েবসিরিজটি একের পর এক বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে। মূল সমস্যা বেঁধেছিল ছবির পরিচালক এবং সিনেম্যাটোগ্রাফার নিয়ে। অবশেষে এই বিতর্কে মুখ খুললেন ছবির প্রথম পরিচালক অভিষেক সাহা (Avishek saha), যিনি আবার অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর স্বামী।
অভিষেক বললেন, "আমাকে যাঁরা চেনেন, তাঁরা জানেন, আমি কথা কমই বলি। বিশ্বাস করি, আমার কাজই কথা বলবে। লেখালিখির ব্যাপারেও অনীহা আছে। তবে জীবন দেখেছি অনেক। তাই আমার কাজ দিয়ে সহজ সরল জীবনের কথাই বলি বারবার। আমার যে কোনও কাজে দর্শক তার পরিচয় পেয়েছেন বা আজও পাচ্ছেন। ঝগড়াঝাঁটি, কাদা ছোড়াছুড়ি অপছন্দ করি। অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপমানজনক এই ঘটনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। তাই চুপ করে ছিলাম। আজকের পর আবার চুপই থাকতে চাই।
অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে কোনওরকমে শ্যুটিং শেষ করে এডিটের অপেক্ষা না করেই লন্ডন চলে গিয়েছিলেন। এমনকী শ্যুটিংয়ের অবস্থা এতটাই নিম্নমানের ছিল যে, আবার নতুন করে শ্যুট করতে হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের জবাব, “লন্ডন আমি বেড়াতে যাইনি, পেশাদারি দায়বদ্ধতা ছিল। লন্ডন যাওয়া রাতারাতি হয় না। টিকিট, ভিসা ইত্যাদি পুরো প্রসেসটা হতে মাস দুই-তিন সময় লাগে। আমার ক্ষেত্রেও লেগেছিল এবং আমাদের টিমের প্রত্যেকে ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষও আগে থেকেই জানতেন আমি কবে যাচ্ছি।”
এরপর অভিষেক আরও বলেন, “আমি পালিয়ে গেছি আমার কাজ ছেড়ে, চুপচাপ কেটে পড়েছি- এমন অভিযোগও উঠেছিল। শ্যুটিংটা হইচই কর্তৃপক্ষের মন মতো না হওয়ায় টিমের সঙ্গেই প্ল্যানিং করছিলাম কীভাবে সেটাকে সঠিক জায়গায় আনা যায়, তার জন্য কী কী করতে হবে, কোন কোন শট নিতে হবে। সেই প্ল্যান শেয়ারও করেছিলাম চ্যানেলের সঙ্গে। আমার প্রধান অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক, সুহোত্র, দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে কথাও হয়। সেকথা তাঁরা আজ স্বীকার করবেন কিনা জানি না। পালিয়ে যেতে চাইলে এসব প্ল্যান বাস্তব করার জন্য সবার সঙ্গে নিজে যোগাযোগ করতাম কী?”
এমনকী এত কিছুর পরেও অভিষেক প্রযোজকের থেকে জানতে চেয়েছিলেন, কী হচ্ছে, কবে হচ্ছে। পরিচালকের দাবি, "আমার কথা শুনে প্রযোজক প্রতিবারই বলেন যে, চ্যানেল এখনও তাঁকে কিছু জানায়নি। কিছুদিন পর খবর পাই, 'ডাকঘর'-এর প্যাচ শ্যুট শুরু হচ্ছে আমাকে না জানিয়েই। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। পরে আমার ডিওপি মৃন্ময় নন্দীকে জিজ্ঞাসা করি, দেখি সেও কিছু জানে না। খবর নিয়ে জানতে পারি, সত্যিই শুটিং হচ্ছে। ভীষণই অপমানিত বোধ করি। এরপর ফোন করা বন্ধ করি।
অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর পরিচালনায় মৃন্ময় নন্দীর শ্যুট করা অংশ এতটাই খারাপ ছিল যে প্রযোজককে সব ফেলে দিয়ে রিশ্যুট করতে হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, কিছু অংশ প্যাচ শ্যুট করেছেন নতুন পরিচালক এবং ডিওপি। এই প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন, "ডাকঘর আমার দেখা হয়নি। তবে সিরিজটির ট্রেলার, গানের অংশ, বিভিন্ন দৃশ্য, যেটুকু যা আজ অবধি চোখে পড়েছে, তার ৭৫-৮০ শতাংশ শটই আমার পরিচালনায় মৃন্ময় নন্দীর শ্যুট করা। তার মানে প্রযোজক যা বলেছিল রিশ্যুটের কথা, সেটা হয়নি। আমাদের নেওয়া জঘন্য সব শটই রেখে কিছু আলাদা প্যাচ শ্যুট করা হয়েছিল।"
সব শেষে অভিষেক বলেন, "নিজের সন্তানকে কেউ ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেলে যেমন মনে হয়, আমার ঠিক তেমনই লেগেছে। এসবের পর একদম চুপ করে যাই আমি। আত্মসম্মান বজায় রাখতে চুপ করে যাওয়াকে কি পালিয়ে যাওয়া বলে? চুপচাপ কেটে পড়া বলে? তাহলে তাই। জানি না, আমার প্রযোজকও হয়ত বাধ্য হয়েছিলেন এই কাজে সায় দিতে। অনেক টাকা ইনভেস্ট করে ফেলেছিলেন। তাঁর এক্ষেত্রে হাত পা বাঁধা ছিল বলেই আমার ধারণা। অন্তত নিজের মনে সেটাই বিশ্বাস করতে চাই। তবে আশা করব মৃন্ময় নন্দীর প্রাপ্য বাকি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। ও নিজের শ্রমের দাম পাক।"
ভিক্টর-অনসূয়া, মৃণাল সেনের 'মহাপৃথিবী'র তিন দশক পর এবার শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ছবিতে