
শেষ আপডেট: 18 August 2022 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিচালক এস এস রাজামৌলির ছবি মানেই মানুষের বাড়তি প্রত্যাশা। সম্প্রতি তাঁর পরিচালিত 'আরআরআর' ভারত-সহ বিদেশের মাটিতেও যেভাবে রমরমিয়ে চলছে তা দেখে বিস্মিত সকলে। এবার রাজামৌলির দীর্ঘদিনের সহকারী পরিচালক অশ্বিন গঙ্গা রাজুও (Ashwin Gangaraju) তাঁর পথ অনুসরণ করতে চলেছেন। শুরু করতে চলেছেন তাঁর প্রথম পিরিয়ড ড্রামা ‘১৭৭০’ (Anandamath)।

এর আগে অশ্বিন রাজামৌলির সঙ্গে ‘বাহুবলী দ্য বিগিনিং’, ‘বাহুবলী দ্য কনক্লুশন’, ‘ইগা’র মতো ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে অশ্বিন নিজের প্রথম পিরিয়ড ড্রামার জন্য কোনও দক্ষিণী গল্প বা লেখকের দ্বারস্থ হননি। তাঁর নতুন সিনেমা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'আনন্দমঠ' অবলম্বনে তৈরি হতে চলেছে। এত বছর আগে লেখা বাংলা গল্পের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হতে চলেছে এই প্যান ইন্ডিয়ান ছবিটি, যা নিঃসন্দেহে বাঙালির কাছের গৌরবের।
অশ্বিনর প্রথম ছবি 'আকাশবাণী' ২০২১ সালে মুক্তি পায়। সেই ছবিও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ছবির বাজেট যে আকাশছোঁয়া হতে চলেছে, তেমনটাই মনে করছেন সিনেমা বিশেষজ্ঞরা। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে এই ছবির বাজেট হতে চলেছে ১৫০ কোটি টাকা। ছবির চিত্রনাট্য লিখছেন এস এস রাজামৌলির বাবা ভি বিজয়েন্দ্র প্রসাদ। যিনি এর আগে ‘বাহুবলী’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর মতো ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন। ফলে এই ছবি কে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা যে এখন তুঙ্গে তা বলাই বাহুল্য।
‘বলিউডের গায়ে ইচ্ছাকৃত কাদা ছেটানো হচ্ছে’! সিনেমা বয়কট নিয়ে ক্ষুব্ধ অর্জুন কাপুর
উল্লেখ্য, এবছর ‘বন্দেমাতরম’ গানটি ১৫০ বছর পূর্ণ করতে চলছে। তাই ছবিটি নিয়ে যে ইতিমধ্যেই বাঁধভাঙা উচ্ছাস শুরু হয়েছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যাবে। জানা গেছে, তামিল, তেলেগু, মালয়ালাম, কন্নড়, হিন্দির পাশাপাশি বাংলাতেও মুক্তি পাবে ‘১৭৭০’ ছবিটি।
পরিচালক অশ্বিনের কথায়, ‘আজকের দিনে বড় মাপের ছবি শুধু ভারতবর্ষে কেন সমগ্র বিশ্বে রমরমিয়ে প্রেক্ষাগৃহে চলে। তাই সেই ধরনের ছবির প্রতি এখন পরিচালকেরা বেশি ঝুঁকছেন।’ যদিও ছবির কাস্টিং এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। শোনা যাচ্ছে, দীপাবলীর আগেই অভিনেতাদের নাম ঘোষণা করা হবে।

নতুন ছবির বিষয়ে বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার ভি বিজয়েন্দ্র প্রসাদ জানান, ‘এই সিনেমাটি নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ উপন্যাসটা তো স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। আর আনন্দমঠ উপন্যাসকে অবলম্বন করে ছবির চিত্রনাট্য আমাকে লিখতে হচ্ছে। এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু এতটাই কঠিন যে এই প্রজন্ম তার সঙ্গে কতটা একাত্ম হতে পারবে সেই বিষয়ে আমি প্রথমে সন্ধিহান ছিলাম। তবে পরে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, ওঁরা সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ছবিটি বানাতে চলেছেন। কাজটা করতে ভালই লাগছে।’