‘হান্টারওয়ালি’ ছবির সেই ‘জুলম-ও-সিতম পর ইতরানে ওয়ালে’ গানটি দিয়ে শুরু হয়েছিল আশা এবং তাঁর পুত্রসম অনুর দীর্ঘ পথচলা। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া মানে ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক সোনালী যুগের অবসান।

আশা ভোঁসলের সঙ্গে অনু মালিক
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশা ভোঁসলের মৃত্যুর (Asha Bhosle Death) খবর যখন সঙ্গীত পরিচালক অনু মালিকের কাছে পৌঁছয়, তিনি তখন মুম্বইয়ের বাইরে। খবরটি শুনে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি (Anu Malik on Asha Bhosle)। হবে নাই বা কেন, ১৯৭৭ সালে অনুর যখন কেরিয়ার শুরু হয়, সেই প্রথম গানটি গেয়েছিলেন স্বয়ং আশা ভোঁসলে (asha bhosle died)।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনু মালিক বলেন, “খবরটা শুনে মনটা বড় বিচলিত হয়ে উঠল। আমি ওঁকে ‘মা’ বলে ডাকতাম। ওঁর ছেলে নন্দুর (আনন্দ ভোঁসলে) সঙ্গে দিন চারেক আগেও কথা হয়েছে। সব সময় ওঁর সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করতাম।”
‘হান্টারওয়ালি’ ছবির সেই ‘জুলম-ও-সিতম পর ইতরানে ওয়ালে’ গানটি দিয়ে শুরু হয়েছিল আশা এবং তাঁর পুত্রসম অনুর দীর্ঘ পথচলা। অনু বলেন, “আশাজি, দিদি (লতা মঙ্গেশকর), আর ডি বর্মন, রফি সাহেবদের ছোট থেকে দেখে বড় হয়েছি। আজ চোখের সামনে একে একে সব নক্ষত্র হারিয়ে যাচ্ছে। একটা গোটা যুগের সমাপ্তি ঘটল।”
আশা ভোঁসলের জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে কথা বলতে যে প্রসঙ্গটি অবধারিতভাবে আসবেই, তা হল তাঁর মেয়ে বর্ষা ভোঁসলের অকাল মৃত্যু। অবসাদের জেরে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বর্ষা। অনু বলেন, “বর্ষা আমার ছোট বোনের মতো ছিল। আজ মা-কেও হারালাম। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।”
কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া মানে ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক সোনালী যুগের অবসান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শনিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গত ১১ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন আশা জি। দ্রুত তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তাঁর নাতনি জনাই ভোঁসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, অত্যাধিক ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের (Chest Infection) কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শনিবার সুরের মায়া কাটিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত তাঁর মরদেহ শায়িত থাকবে নিজ বাসভবনে। বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের সবথেকে বেশি গান রেকর্ড করা গায়িকা হলেন আশা ভোঁসলে। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি ছবি ‘মাজহা বাল’-এর হাত ধরে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। গত সাত দশকে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে যো দিল কো’, ‘ঝুমকা গিরা রে’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’র মতো হাজার হাজার কালজয়ী গান। তাঁর এই কণ্ঠ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালির এবং সারা বিশ্বের সঙ্গীতপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে।
থামল সে পথচলা। দূরে কোথাও বেজে চলে, 'পিয়া তু আব তো...'। কিন্তু কে না জানে, এ জীবনের মতো 'পিয়া' আর ফিরবে না।