
গৌতম ঘোষ, নাসির ও শাবনা
শেষ আপডেট: 15 April 2025 14:03
প্রায় ৪১ বছর আগে এক ছবি। গৌতম ঘোষের (Goutam Ghose) মতো পরিচালকই এমন এক ছবির প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারেন, যা আজও ভারতীয় সমাজকে নাড়া দেয়। নাসিরুদ্দিন শাহ এবং শাবানা আজমির মুখ জুড়ে ছিল নিম্নবর্ণের মানুষের অসহায়তা এবং অপমানের ছোঁয়াচ। তাঁদের চরিত্রগুলো নিরন্তর সংগ্রাম ‘পার’কে করে তুলেছে আইকনিক। লেখক সমরেশ বসুর গল্প 'পার' (Paar) অবলম্বনে নির্মিত ছবি। ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয়েছিল 'পার', বিহারের সামন্তবাদ এবং ‘অস্পৃশ্য’দের উপর দিনের পর দিন শোষণের প্রতিচ্ছবি। শাবানা, নাসির এবং ওম পুরি, উৎপল দত্তর অসাধারণ অভিনয়, যা ভোলবার নয় আজও। আবেগ এবং সামাজিক বিষয়বস্তুর অন্বেষণে, চরিত্রগুলো জীবনের কঠোর বাস্তবতাকে খুঁজতে থাকে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক!
এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ছবি নিয়ে প্রায় ‘ছেলেখেলা’ চলছে। কেন এ কথা বলতে হচ্ছে! বিশদে আসা যাক, ১৮০০ সালের শেষের দিক থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিভি শো থেকে শুরু করে ফিচার ফিল্ম সবই রিলে রেকর্ড করা হতো। প্রেক্ষাগৃহে একজন প্রজেকশনিস্ট থাকতেন, প্রতিটি রিল শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে রিল পরিবর্তনের দায়িত্ব ছিল তাঁরই। ‘পার’ ছবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।
সম্প্রতি গৌতম ঘোষ (Goutam Ghose) পরিচালিত ৬টি ছবির রেস্টোরেশনের উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়া (NFAI)। কিন্তু তা করতে গিয়ে যা জানা যাচ্ছে তা শুনলে চমকে যেতে হয়! মাত্র ৪১ বছর আগের ছবির নেগেটিভ রিল নিরুদ্দেশ! খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হারিয়ে গিয়েছে!
পরিচালক গৌতম ঘোষকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছেও বিষয়টি একেবারে অবাক করার মতো। অরিজিনাল নেগেটিভ রিল চেন্নাইয়ের জেমিনি স্টুডিয়োজে রাখা ছিল। কিন্তু সেই স্টুডিয়ো বন্ধ হয়ে যায়, ২০১৩ সালে।’ থামলেন না পরিচালক, ‘ওরা একাধিক ছবির রিল ক্যান একসঙ্গে একটা গোডাউনে ফেলে রাখে। সেখানেই তন্নতন্ন করে খোঁজা চলছে, কিন্তু মিলছে না রিল। হয়তো রিলে লেখা লেবেলটাই উঠে গিয়েছে। যদি তা পাওয়াও যায় কী অবস্থায়, রয়েছে তা জানি না! আরেকটি বিষয়, আমি নেগেটিভ প্রিন্ট দেখে বলে দিতে পারব, কোন ছবি, কী বৃত্তান্ত, কিন্তু এখনকার ছেলেরা বুঝতেই পারবে না, কারণ তাঁরা রিল ক্যান কোনওদিন দেখেননি!’
ফিল্ম রিলে নির্মিত গৌতম ঘোষের শেষ ছবি ছিল ‘মনের মানুষ’। রেস্টোরেশনের ক্ষেত্রে নেগেটিভ প্রিন্ট ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ? প্রশ্ন ছিল গৌতম ঘোষের কাছে, ‘দেখুন পজিটিভ প্রিন্ট থেকে রেস্টোরেশন সম্ভব। কিন্তু গুণমানের বিষয়টি ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। NFAI অবশ্য জানিয়েছে, পজিটিভ প্রিন্ট থেকেও একটি বিশেষ সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে রেস্টোর করা সম্ভব।’
গৌতম ঘোষ (Goutam Ghose) নিজেই বললেন, ‘পার’ (Paar) একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি, আর তেমন এক ছবির নেগেটিভ রিল উধাও হয়ে গেলে কি রেস্টোরেশন আদৌ সম্ভব? ‘NFAI পজিটিভ ক্লিন প্রিন্ট খুঁজে চলেছে। বিভিন্ন দেশে আমার ছবি গিয়েছে, তাতে জাপান, ফরাসি, ইটালি ভাষায় সাবটাইটেল রয়েছে, সেগুলো থেকে রেস্টোর করা সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভল্টে রয়েছে, এবং ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভে রয়েছে, সেখান থেকে পুণরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
কথায় কথায় বললেন, পরিচালক বললেন, ‘এখন ফিল্মের রেস্টোরেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কত রিস্টর্ড ছবি সিনেমাহলে মুক্তি পাচ্ছে, এবং সাফল্যর মুখ দেখছে। আমার ছবি ‘আবার অরণ্যে’ রেস্টোর্ড হয়েছে, আমি চেষ্টা করছি আবার যেন ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।’