
রহমান-অভিজিৎ
শেষ আপডেট: 16 April 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এআর রহমান। সম্প্রতি গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের সমালোচনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। অভিজিৎ অভিযোগ করেছিলেন, রহমান আজকাল সঙ্গীত তৈরির জন্য পুরনো ঘরানার মিউজিশিয়ানদের বাদ দিয়ে বেশি করে কম্পিউটার নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
এই প্রসঙ্গে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে রহমান খুবই শান্ত ও সংযতভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘সব দোষ আমার ঘাড়ে চাপানোটা বেশ সুবিধাজনক, তাই না? আমি এখনো অভিজিৎকে ভালোবাসি, ওর জন্য কেক পাঠাতে পারি। ওর নিজের একটা মত আছে, এবং মত থাকা দোষের কিছু নয়।’
রহমান জানান, তিনি বরাবরই প্রকৃত মিউজিশিয়ানদের সঙ্গেই কাজ করতে ভালোবাসেন, এবং তার সঙ্গীত প্রজেক্টগুলোতে বিপুল সংখ্যক শিল্পী যুক্তও থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি জানান, ‘সম্প্রতি আমি দুবাইতে ৬০ জন মহিলা মিউজিশিয়ান নিয়ে একটি অর্কেস্ট্রা গড়েছি। তাঁদের নিয়মিত বেতন, স্বাস্থ্য বীমা, এবং অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। আমি যেই সিনেমায় কাজ করি, যেমন ‘ছাভা’ বা ‘পন্নিয়িন সেলভান’, প্রতিটি প্রজেক্টেই প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ সঙ্গীতশিল্পী কাজ করেন। এমনও হয়, একটি গানেই শতাধিক মানুষ যুক্ত থাকেন। কিন্তু আমি সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখাই না, তাই কারও চোখে পড়ে না।’
রহমান আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার সঙ্গীত তৈরির এক অংশ মাত্র। ‘কম্পিউটার আমাদের শুধু পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গান তো মানুষই সৃষ্টি করে। আমি যখন কোনও সুর তৈরি করি, সেটা সফটওয়্যারে করি যাতে মিউজিশিয়ানদের সময় নষ্ট না হয়। কিন্তু যেটা চূড়ান্ত হয়, তা অবশ্যই লাইভ রেকর্ড হয়।’
রহমানের মতে, প্রযুক্তি কখনও প্রতিভার বিকল্প হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় খরচ বাঁচিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু যাঁরা বলেন আমি মিউজিশিয়ানদের বাদ দিচ্ছি, তাঁরা চাইলে আমার সঙ্গে কাজ করা যে কোনও প্রযোজকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন—আমি কতজন মিউজিশিয়ানকে আমার কাজের সঙ্গে যুক্ত করি।’
সব মিলিয়ে, এআর রহমান বুঝিয়ে দিলেন—প্রযুক্তি হোক বা প্রতিভা, তার সঙ্গীত সবসময়ই হৃদয় দিয়ে তৈরি হয়। তাঁর কথায়, ‘জীবন্ত সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়নি, বরং আরও বেড়েছে।’