
এ আর রহমান
শেষ আপডেট: 19 April 2025 20:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক সেকেন্ডেই লেখা তৈরি থেকে শুরু করে ছবি কার্টুনে রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আজ নানাভাবে বদলে দিচ্ছে সৃজনশীলতার চেহারা। যদিও প্রযুক্তির এই অগ্রগতি অনেকের কাছে স্বস্তির, তবে শিল্প ও সাহিত্য জগতের মানুষজনের কাছে এটি এক বড়সড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাহিত্য, চিত্রকলা, সংগীত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সঙ্গীত জগতের অন্যতম পুরোধা, অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে AI নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রহমান বলেন, “আমার মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে অক্সিজেনে বিষ মিশে যাচ্ছে। কেউ আটকাতে পারছে না। জানি না কী ঘটছে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে যদি নিয়ন্ত্রণ না আসে, তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। বহু মানুষ কাজ হারাবেন।” তাঁর মতে, প্রতিটি প্রযুক্তিরই যেমন ইতিবাচক দিক থাকে, তেমনই থাকে নেতিবাচক দিকও। সুরকারের কথায়, “AI-এর ভাল দিকগুলো ব্যবহার করুন, কিন্তু খারাপভাবে এর অপব্যবহার করবেন না। অতিরিক্ত নির্ভরতা কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ‘লাল সেলাম’ ছবির একটি গানে প্রয়াত দুই গায়কের কণ্ঠপুনঃনির্মাণে AI-এর সাহায্য নিয়েছিলেন রহমান। যদিও এ নিয়ে তাঁকে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। গায়ক অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দুই গায়কের পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের উপযুক্ত পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রহমানের বিরুদ্ধে পরোক্ষে সুর চড়িয়েছিলেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্যও। তাঁর অভিযোগ ছিল, রহমানের সঙ্গীতে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা কাজ হারাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রহমান বলেন, “সম্প্রতি দুবাইয়ে আমি ৬০ জন মহিলার একটি অর্কেস্ট্রা দল গঠন করেছি, যাঁদের প্রত্যেক মাসে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। প্রযুক্তির ব্যবহার মানেই সবাই কাজ হারাচ্ছেন—এমনটা বলা সঠিক নয়।”