শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
দেশভাগ থেকে বহমান সাম্প্রদায়িকতার ধর্মান্ধ ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের মাঝে আমৃত্যু ভালবাসার এক অমর জুটি ইকবাল আহমেদ খান ও নাজমা। অপর্ণা সেনের 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার' ছবির দুই ছোট্ট কিন্তু আইকনিক চরিত্র। চরিত্রচিত্রণে লেখক, চিন্তক, নাট্যকার ভীষ্ম সাহনি এবং চিত্র-মঞ্চ-টেলিভিশন খ্যাত অভিনেত্রী সুরেখা সিক্রি। সম্প্রতি চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন সুরেখা। এমনই সময়ে স্মৃতিচারণায় এই দুটি অমর চরিত্রের স্রষ্টা অভিনেত্রী, পরিচালক
অপর্ণা সেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনায়
শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার' ছবি আপনার নিজের লেখা। চিত্রনাট্য এবং পরিচালনাও আপনার। এই ছবির বাসের যাত্রীদের চরিত্রগুলো আপনার ভাবনায় কীভাবে এসেছিল?
আমি আসলে ওই সিনেমার বাসটাকে একটা মিনি-ইন্ডিয়ার মতো দেখাতে চেয়েছিলাম। বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন ভাষার লোকজন ছিল। একটা বাসের মধ্যে গোটা ভারতবর্ষের চিত্র তুলে ধরার প্রচেষ্টা ছিল। তো এরা অনেকেই একে অন্যের কথা বুঝতে পারে না, ইশারায় কথা বোঝায় বা ভাঙা হিন্দি ও ভাঙা ইংরাজি বলে।

'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার' যখন লিখছি, তার আগে বম্বে দাঙ্গা ইত্যাদি হয়ে গেছে। তখন আমাদের সবারই মনে হচ্ছিল, আমরা যে কেউ যে কোনও জায়গায় দাঙ্গার শিকার হতে পারি। আমি সেই জন্যই এই ছবিতে দাঙ্গাটা কোনও নির্দিষ্ট জায়গার কথা বলে দেখাইনি। বাসটা খাদে নামছে দেখিয়েছি। ইচ্ছে করেই বলিনি, কারণ তখন যে কোনও জায়গায় যে কোনও সময় যেন দাঙ্গা লাগতে পারে।
ছবির চরিত্র সৃষ্টির একদম গোড়ার কথা থেকে শুরু করি। গল্পের দুই প্রোটাগনিস্ট চরিত্র মীনাক্ষী আইয়ার ও জাহাঙ্গীর রাজা চৌধুরী ছাড়াও বাসের ভিতর যাত্রীদের মধ্যে দুজন মুসলিম বৃদ্ধ দম্পতি, ইকবাল আহমেদ খান ও নাজমার চরিত্র চিত্রণ কীভাবে আপনার ভাবনায় এসেছিল?
প্রথমে যখন আমি 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার' লেখা শুরু করেছিলাম, তখন বাস জার্নির মধ্যে দিয়ে আমি একটা প্রেমের গল্প বলতে চেয়েছিলাম। শুধু আমার নয়, প্রত্যেকটা মানুষেরই তো একটা রাজনৈতিক দিক থাকে। আমার মনে হয় না এমন কোনও মানুষ আছেন, যাঁর কোনও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

আপনারা যদি লক্ষ্য করে থাকেন বাবরি মসজিদ ভাঙার পর থেকে আমি যত লেখালেখি করেছি, তার প্রায় ষাট ভাগই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মান্ধতা বিষয়ক। তো সেই ভাবনাটা বোধহয় মাথার মধ্যে ছিল। সেই কারণেই চিত্রনাট্যে আমার কলমে একজন বৃদ্ধ মুসলমান চরিত্র ও তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী এসে গেলেন। আর একটা বিষয় হল, কোনও সংঘাত না থাকলে প্রেমের গল্প সেভাবে জমানো যায় না। তাই দেশ-বিদেশের অমর প্রেম কাহিনিগুলোয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমাদের দেশে হয়তো সেইভাবে যুদ্ধ হয়নি কিন্তু হিংসাও কিছু কম হয়নি। সেই হিংসাটাকে আমার তখন তুলে ধরার কথা মনে হল।
এই অশীতিপর দম্পতিটাকে রেখেছিলাম যারা খুব নিরীহ ও নির্বিবাদী মানুষ, কিন্তু তাঁরা মুসলমান। সব কিছু বাদ দিয়ে ওঁদের ধর্মটাই চক্ষুশূল হল দাঙ্গাবাজদের।
বাসেরই আর এক যাত্রী, যে চরিত্রটি অঞ্জন দত্ত করেন, তিনি দাঙ্গাবাজদের দেখিয়ে দেন বাসের ওই বৃদ্ধ ভদ্রলোক ও তাঁর স্ত্রীকে, বলে দেন যে ওঁরা মুসলিম। এমন শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য কীভাবে তৈরি করলেন?
হ্যাঁ, তিনি একজন ইহুদি ছিলেন। তিনি ভয়ে ওঁদের ধরিয়ে দিলেন। কারণ দাঙ্গাবাজরা তখন বাসের ভিতর প্যান্ট খুলে খুলে দেখছে সুন্নত করা আছে কিনা। ওঁকেও যদি ধরে তাই দেখে, সেই ভয়ে নিরীহ মুসলিম বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে ধরিয়ে দিলেন উনি। তার জন্য পরে ইহুদি ভদ্রলোকের খুব অনুতাপ এবং অপরাধবোধও হল।
ভীষ্ম সাহনির ইকবাল চরিত্রটায় দাঁত, চশমা এগুলো খুব প্রতীকী ব্যাপার ছিল ছবিতে। তাই না?
হ্যাঁ, আমি এমন একজন অভিনেতা খুঁজছিলাম যিনি ফলস দাঁত পড়েন। যার বাঁধানো দাঁত বাস্তবেই। কোন অভিনেতাকে গিয়ে তো বলা যায় না, "কিছু মনে করবেন না, আপনার কি ফলস দাঁত?"
একসময় ভগবানই যেন আমায় মিলিয়ে দিলেন।
প্রতিভা আগারওয়ালের আমন্ত্রণে ভীষ্ম সাহনি এসেছিলেন কলকাতায় নেহরু মিউজিয়ামে। সেই অনুষ্ঠানে আমিও আমন্ত্রিত ছিলাম। তখন ভীষ্ম সাহনিকে দেখে মনে হল এই চরিত্রটার জন্য একেবারে পারফেক্ট। তখন আমি ওঁকে বললাম আমি। উনি বললেন নিশ্চয়ই অপর্ণাজি। তারপর আমি ওঁকে যেই বললাম আপনার দাঁতটা খোলা-পরার ব্যাপার থাকবে ছবিতে, তখনই উনি না না করে বলে উঠলেন, "সেটা তো কুৎসিৎ দেখাবে আমায়!"
তারপর চিত্রনাট্য শুনেও বললেন "আমি তো শুধু একটা ভিক্টিম, আর কিচ্ছু না। এ বৃদ্ধের চরিত্রে আমার করার তো কিছু নেই। করব না।"

তার কয়েকদিন পর যখন আমি হাল ছেড়ে দিয়েছি, কী করব ভাবছি, হঠাৎ আমার কাছে ভীষ্ম সাহনির মেয়ের একটা ফোন এল। উনি বললেন "বাবার চরিত্রটা ছোট হলেও ছবির স্ক্রিপ্টটা খুব ভাল লেগেছে বাবার। তাই বাবা ছবিটা করতে চান।"
আমি তখন বললাম "আপনার বাবাকে বলতে পারেন এই চরিত্রটা ছোট হতে পারে, ভিক্টিম হতে পারে, কিন্তু এই চরিত্রটা কেউ ভুলতে পারবে না।"
তারপর তো উনি এলেন, কাজ করলেন। ওঁর জন্য শ্যুটিংয়ে ডাক্তারেরও ব্যবস্থা করি, সাতাশি বছর বয়স হয়েছিল। সব প্রিকশান রেখেছিলাম শ্যুটিংয়ে।
ছবিটা করার সময়ে শাবানা (আজমি) আমায় বলেছিল "তুমি হঠাৎ দাঁত নিয়ে পড়েছো কেন? দাঁত দাঁত করে পাগল হয়ে যাচ্ছো কেন!" তখন আমি শাবানাকে বলি, "দাঁতটা মানুষের শরীরের একটা এক্সটেনশন। যখন আমরা কঙ্কাল দেখি তখনও তাঁর দাঁতটা দেখা যায়।"
আমার কোনও ছবিতেই আমি ভায়লেন্স খুব প্রকট ভাবে দেখাইনি। রক্ত না দেখিয়েও যে ভায়লেন্স ছবিতে দেখানো যায়, সেটাই দেখাই। তাই ইকবাল আহমেদ খান নাম শুনে বৃদ্ধটিকে যখন বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দাঙ্গাবাজরা, তখন ওঁর স্ত্রী ওঁর হাতে ফলস দাঁত, চশমাগুলো দিচ্ছেন। তারপর কোনও রক্তপাত দেখাইনি। পরেরদিন ভোরবেলার দৃশ্যে দেখালাম ফলস দাঁত, ভাঙা চশমা পড়ে আছে। সেটার এফেক্টটাও আমি দেখেছিলাম সিনেমাহলে, যখন দাঁত-চশমাটা পড়ে থাকতে দেখা যায়, দর্শকরা শিউরে ওঠে। অথচ আমি এক ফোঁটা রক্ত কোথাও দেখাইনি ছবিতে।

বৃদ্ধের স্ত্রী নাজমার ভূমিকায় সুরেখা সিক্রি সদ্য প্রয়াত। তাঁকে নিয়ে কিছু বলুন?
সুরেখা সিক্রিকে আমার ভীষণ ভাল লাগত। আমার খুব রোগা একজন মহিলা দরকার ছিল। বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জুটিটাকেই চেয়েছিলাম খুব শীর্ণ দেখতে হবে। শারীরিক ভাবে দুর্বল দুজন বয়স্ক মানুষও ধর্মের কারণে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ভিক্টিম হচ্ছেন। সেই জন্যই ওঁদের দুজনকে নিয়েছিলাম।
সুরেখাজি কিন্তু আমাদের সমবয়সিই ছিলেন। কিন্তু আমার এত খারাপ লাগছে, উনি এভাবে চলে গেলেন। অনেকদিন ধরে ভুগছিলেন শুনলাম। যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। বম্বেতে তো আমি থাকিও না, বম্বেতে ছবিও করি না। দু একজনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। আমার মনে আছে আমার ছবির পর সুরেখাজি ঋতুর (ঋতুপর্ণ ঘোষ) ছবিতে কাজ করলেন, 'রেনকোট'। টাকার জন্যই উনি বাধ্য হয়ে টিভি সিরিয়ালগুলো করতেন। শেষেও শুনলাম খুব অভাবে ছিলেন। কেন যে এটা হয় শিল্পীদের সঙ্গে! খারাপ লাগে।
[caption id="attachment_2329792" align="aligncenter" width="719"]

'রেনকোট' ছবিতে ঐশ্বর্য, সুরেখা, অজয়।[/caption]
রক্তাক্ত অধ্যায়ের মাঝে আমৃত্যু ভালবাসার এক গ্রন্থি যেন এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা জুটি। কঙ্কনা আর রাহুলের পাশাপাশি তাঁরাও মানুষের মনে রয়ে গেছে আজও!
আমি ছবি শুরুর সময়েই সুরেখাজি আর ভীষ্মজিকে বলেছিলাম, ওঁদের কেউ ভুলতে পারবেন না। ওঁদের প্রেম বোঝাতে একটা সংলাপ রেখেছিলাম, ভীষ্মজি বলছেন, "আজকালকার মেয়েরা কত খোলামেলা পোশাক পরে। আর তোমায় যখন প্রথম দেখি তখন বোরখার বাইরে শুধু তোমার হাত দুটো দেখেই প্রেমে পড়ি।" তখন সুরেখাজি লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের এখনকার হাতটা দেখছেন, যে হাতে শিরা, বলিরেখা প্রকট।
যাই হোক, ভীষ্মজি চলে যাবেন সেটা তো খানিকটা প্রত্যাশিত ছিল। 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ইয়ার' করার কিছুদিন পরে উনি চলে গেলেন। সুরেখাজিও যে এইভাবে চলে যাবেন আমি ভাবতে পারিনি। এত বড় মাপের অভিনেত্রী অথচ সেই মাপের স্বীকৃতি উনি পেলেন না।
মৃণাল সেন তাঁর 'কাভি দূর কাভি পাস' ফিল্ম সিরিজে ছোট ছোট টেলিছবি বানিয়েছিলেন দূরদর্শনের জন্য। তাতে আপনিও কাজ করেছেন। আবার ওই সিরিজেই একটা গল্পে সুরেখাজি ছিলেন। সেই সিরিজ দূরদর্শন সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট করে ফেলেছে। মৃণাল সেনের ছেলে কুণাল সেনের কাছে আপনার টেলিফিল্মটা ছিল, তাই ইউটিউবে দিয়েছেন ওঁর চ্যানেলে। কিন্তু পুরো সিরিজটা দূরদর্শনে নেই। এভাবে কত ভাল সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। কী বলবেন এই নিয়ে?
হ্যাঁ, মনে পড়েছে। আমি ওই ছবিতে গিরীশ কারনাডের সঙ্গে অভিনয় করেছিলাম। সুরেখাজির কাজটা দেখা হয়নি। কী বলি বলুন তো দূরদর্শনকে! আমার 'পিকনিক' ছবিটা তো আর পাওয়াই যায় না, হারিয়েই গেল। দূরদর্শন উল্টে আমাকে ফোন করছে, 'আপনার কাছে আছে?' আমি বললাম 'আমার কাছে কী করে থাকবে! পিকনিক ছবি বানানোর সময় আমাদের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে বলাই ছিল আমি নিজের কাছে কিছু রাখতে পারব না।' তখন বলছে 'হ্যাঁ, কিন্তু লোকে তো রেখে দেয় অনেকে।'

আমি শুনে হতভম্ব। এটা কীরকম ধরনের কথা। যেন লুকিয়ে রেখে দেয়। এখন মনে হয় সেটাই করা উচিত ছিল।
'পিকনিক' ছবির প্রিন্টটা 'প্রসাদ ফিল্ম ল্যাবরেটরিজ'-এ রাখা ছিল। তারপর আমি শুনেছি প্রসাদে জলটল ঢুকেছিল নাকি। সেজন্য অনেক ছবির নেগেটিভ নষ্ট হয়ে গেছিল শুনেছিলাম। সত্যি-মিথ্যে জানিনা।
আমি শুনেছি আমার 'পরমা' ও নাকি নেগেটিভ নেই। 'পরমা' ছবিটাও যদি হারিয়ে যায় তাহলে তো খুব দুঃখের কথা।
[caption id="attachment_2329793" align="aligncenter" width="720"]

সুরেখা সিক্রি, অপর্ণা সেন ও 'পরমা' রাখি গুলজার।[/caption]
এই অশান্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই মনে পড়ছে আপনি একবার রামায়ণ থেকে 'সীতায়ণ' ছবি করবেন ভেবেছিলেন। চিত্রনাট্য লিখছেন?
ওটা আর হবে না। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তো সম্ভবই নয় রাম নিয়ে ছবি করা। আমি যদিও রামের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, গল্পে আমি বলতে চেয়েছিলাম রাম একজন রাজা। রামের কাছে স্বামী-বাবার সত্ত্বার ঊর্ধ্বে রাজা পরিচয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে সেই কারণেই তিনি সীতাকে নির্বাসনে পাঠান, অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলেন। কারণ প্রজাদের মনোরঞ্জন করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর কাছে।
এ তো দুর্দান্ত বৈপ্লবিক বিষয়! কাস্টিং ভেবেছিলেন?
শেষই করিনি তো লেখাটা। কাস্টিংও তাই ভাবিনি। বাজেট প্রচুর লাগত ছবিটা বানাতে। কারণ আমি আর্যদের চরিত্রগুলো বিদেশি অভিনেতাদের দিয়ে করাব ভেবেছিলাম। সাদা সৈন্যদল চিত্রনাট্যে ছিল। তাছাড়া আমাদের দেশে কি এ ছবি চলতে দেওয়া হত? যেটা চাই সবসময় তো আর হয় না।
'সীতায়ণ' বই আকারে প্রকাশ করা যায়?
আমার তখন ভাল লাগছিল লিখতে, তাই লিখছিলাম। ছবিটা করেও যে টাকা-পয়সা পাব তা ভাবিনি। আর লেখাই শেষ করিনি, তো বই হবে কী করে! এখন আর সময়ও নেই। আর যদি ছবি করতে চাই, কখন আর ওটা লেখা শেষ করব!
মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ারের সময় কঙ্কনা সেনশর্মা বেশ নবাগতা। তার আগে দুটো ছবি করেছেন সুব্রত সেনের 'এক যে আছে কন্যা' আর ঋতুপর্ণ ঘোষের 'তিতলি'। দুটোতেই আপনারা মা-মেয়ে দুজন একসঙ্গে ছিলেন। সেই কঙ্কনা আজ একজন বলিষ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি বলিষ্ঠ ডিরেক্টরও। মা হিসেবে মেয়েকে কিছু টিপস দেন?
'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার' নামটা কিন্তু কঙ্কনার দেওয়া। আমি কিছু নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন কঙ্কনাই নামটা দিয়েছিল। টিপস খুব একটা দিই না। কারণ কঙ্কনাকে খুব একটা বেশি বলতে হয় না। তবে হ্যাঁ, কোনও কোনও জায়গায় বলেছি আর কী! এখানটা এরকম করো, ইত্যাদি। ছবি করার আগে আলোচনা হয় আর কিছু ছবির ওয়ার্কশপ তো আমি করি।

অপর্ণা সেনের নতুন ছবি আসছে, 'দ্য রেপিস্ট'। এটা কি হল-সিরিজ হবে না ওটিটি রিলিজ?
ওটিটি। আমিই বারণ করেছি এই পরিস্থিতিতে হল-রিলিজ করতে। ওঁরাও বলল হ্যাঁ ওটিটি রিলিজ হবে। তার আগে কয়েকটা ফিল্ম ফেস্টিভালে যাবে, তারপর দর্শকদের জন্য আনতে পারব আশা করি।
[caption id="attachment_2329790" align="aligncenter" width="720"]

'দ্য রেপিস্ট' ছবির শ্যুটিং মুহূর্ত, অপর্ণা সেন, কঙ্কনা সেন, অর্জুন রামপাল।[/caption]