নিজের দাদা আর জাড়তুতো দাদাকে কখনও আলাদা করে দেখিনি। সবসময় বলেছি আমার দুই দাদা। ছোটবেলাতেও মা রাখি এনে দিত। দুই দাদাকে রাখি পরাতাম।

গ্রাফিক্স শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 14 August 2025 12:20
অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya) চিরকাল সবাইকে নিয়েই বাঁচতে ভালবাসেন। হাওড়ার একান্নবর্তী সংসারের বাপের বাড়ি থেকে অপরাজিতার শ্বশুরবাড়িও হয় বেহালার একান্নবর্তী পরিবারে। শুধু নিজের টুকু নয়, 'তুতো' সম্পর্কের সবাইকেই আপন ভাবেন অপরাজিতা। তাই রাখি থেকে ভাইফোঁটা সবেতেই বাপের বাড়িতে নিজের দাদা থেকে জাড়তুতো, খুড়তুতো দাদাদের সঙ্গে মেতে ওঠেন সবার আদরের অপা।
তবে আজ রাখিপূর্ণিমার (Rakhi Purnima) দিন বাপের বাড়ি দাদাদের রাখী পরাবেন ঠিক করে সেজেগুজে বেরিয়েও পৌঁছতে পারলেন না অভিনেত্রী। নবান্ন (Nabanna) অভিযানের যানজোটে দেড় ঘন্টা রাস্তাতেই আটকে থাকলেন তিনি। তবে এই নিয়ে কারুর প্রতি অভিযোগ নেই অভিনেত্রীর। বরং অপরাজিতা বলছেন তিনি জানতেন না, সেটা তাঁরই ভুল। তবে মন খারাপ তো একটা থাকেই হাওড়ায় বাপের বাড়ি না যেতে পারার।

রাখি পূর্ণিমার দিন অভিনেত্রীকে দ্য ওয়াল-এর তরফ থেকে ফোন করতেই অপরাজিতা আঢ্য জানালেন 'রাখি পরাতে দাদাদের আর যেতে পারলাম কই? দুপুর ১.৩৪ পর্যন্ত সময় ছিল রাখির। আমি তাই হুড়মুড় করে বেরিয়ে পরেছিলাম। কিন্তু যেতে পারলাম না। মোমিনপুর থেকেই তো যানজটে আটকে রইলাম। ঘুরে আবার বেহালা চলে এলাম। আমার দাদারা সব হাওড়াতে থাকে। কিন্তু নবান্ন অভিযানের জন্য সব রাস্তা বন্ধ তাই আর যেতে পারলাম না। তবে এই নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। আমি নেতিবাচক ভাবে এ কথা বলছি না। কারণ দোষটা আমার। খবর দেখা হয় না সবসময়। কালও দেখা হয়নি। শুনলাম কাল তো পুলিশ কমিশনার সাহেব বলেছিলেন আজ সব রাস্তা বন্ধ থাকবে। সেসব আমি খেয়াল না করেই রাস্তায় দুপুরবেলা বেরিয়ে পড়েছি। ভেবেছিলাম পৌঁছে যাব, পারলাম না। পুলিশের লোকজন কিন্তু মিটিং করে বলেছেন কোন কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে। খবর শোনার দরকার এই কারণে। তবে রাত্রিবেলা আর এক বার চেষ্টা করব। যদিও তখন সময় পেরিয়ে যাবে, রাখির তিথিটা। তবু আজ রাতে চেষ্টা করব যাবার।'

তবে রাখিপূর্ণিমার দিন একেবারেই মাটি হয়নি অপরাজিতার। কারণ ননদ আর বান্ধবীদের রাখি বাঁধেন অপরাজিতা। তিনি বললেন ' আমার ননদ, বান্ধবীরা পরস্পরকে রাখি প্রত্যেক বছর পরাই। ঝুলনরাখি, যেগুলো হয় আমরা পরাই। আমাদের আনন্দ করার একটা দিন হলেই হল। তবে বাপের বাড়ি না যেতে পারার দুঃখটা অনেকটা ঘুঁচল সকালে বান্ধবীরা আসায়। আমাদের হৈহৈ করার জন্য বাড়ির মধ্যে একটা হুজুগ দরকার হয়।'

এবার বাপের বাড়ির গল্প শোনাতে বসলেন অপরাজিতা 'আমার বাপের বাড়ি কদমতলায়। কিন্তু মন্দিরতলা পেরিয়েই যেতে হয়। যৌথ পরিবার। সবার সঙ্গেই একসঙ্গে থেকেই বড় হয়েছি। নিজের দাদা আর জাড়তুতো দাদাকে কখনও আলাদা করে দেখিনি। সবসময় বলেছি আমার দুই দাদা। ছোটবেলাতেও মা রাখি এনে দিত। দুই দাদাকে রাখি পরাতাম। আমার নিজের দাদার নাম অরিজিৎ আঢ্য আর জাড়তুতো দাদা অভিজিৎ আঢ্য। এছাড়াও বান্ধবীর দাদা, জামাইবাবু আছে। তাঁদেরকেও রাখি পরাই হাওড়া গিয়ে। তবে রাখির থেকেও আমাদের বাড়িতে ভাইফোঁটার উৎসবটা বড় করে হয়। আমার বাপের বাড়ির পদবী আঢ্য। সেটাই অভিনয় জগতে ব্যবহার করেছি চিরকাল। আমার শ্বশুরবাড়ির পদবী হাজরা।'
সামাজিক মাধ্যমে নীলাম্বরী সেজে বান্ধবীদের সঙ্গে ঝুলনরাখি পরার আনন্দঘন ছবিও দিয়েছেন অপরাজিতা। উচ্ছল হাসিতে ধরা দিলেন অভিনেত্রী। যা তাঁর ভক্তদের মন ভাল করে দিল।