
শেষ আপডেট: 15 December 2023 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুপ ঘোষালের নাম বললে অনেকের মনে প্রথম গানটি আসে সেটি বোধহয় গুপি গাইন বাঘা বাইনের সেই অবিস্মরণীয় গানটি—‘দেখো রে নয়ন মেলে জগতের বাহার..।’
বাংলা ছায়াছবিতে তার আরও আরও গান জনপ্রিয় হয়েছে। সে কথা সংক্ষেপে বলে শেষ করার নয়। কিন্তু সর্বভারতীয় শ্রোতাদের কাছে অনুপ ঘোষালের যে গানটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, সেই গানটি তাঁরই যে গাওয়া হয়তো অনেকেই জানেন না।
১৯৮৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল শেখর কাপুরের পরিচালনায় হিন্দি ছবি ‘মাসুম’। নাসিরুদ্দিন শাহ-শাবানা আজমি-যুগল হংসরাজ অভিনীত সেই ছবিতে একটি গান শ্রোতা-দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছিল—তুঝসে নারাজ নেহি জিন্দেগি হ্যারান হুঁ ম্যায়..।
মাসুমের সেই গানের লিরিক্স লিখেছিলেন গুলজার। গানের প্রতিটা শব্দ যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায় আজও। গানের সুর দিয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মন। ‘তুঝসে নারাজ নেহি জিন্দেগি’ গানের জন্য সেরা লিরিসিস্ট হিসাবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন গুলজার। সেরা সুরকারের পুরস্কার পেয়েছিলেন আরডি বর্মন। কিন্তু সেই ছবিতে শুধু অনুপ ঘোষালই ছিলেন না। মনের সমস্ত দরদ ঢেলে যেন গানটি গেয়েছিলেন অনুপ ঘোষাল।
ততদিনে বাংলায় যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন অনুপ ঘোষাল। ১৯৬৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবিতে গান করেই বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর গানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাহুল দেব বর্মন মাসুমে একক কণ্ঠে অনুপ ঘোষালকে দিয়ে গানটি গাইয়েছিলেন। তবে সেই গানটি অনুপ ঘোষাল গাইতেই গোড়া থেকে যেন অনিশ্চয়তা চেপে বসেছিল।
জানা যায়, রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভি যখন জানতে পারে ছবিতে তেমন কোনও নামজাদা শিল্পী গান করেননি, তারা অ্যালবাম রিলিজ করতেই নিমরাজি ছিলেন। তারা প্রোডিউসারকে বলেন, আরও একটি গান কোনও নামকরা শিল্পীকে দিয়ে গাওয়াতে। কিন্তু ততক্ষণে ছবির বাজেট ছাপিয়ে গিয়েছে। শেষমেশ কোনওরকমে টাকা পয়সা জুটিয়ে ‘তুঝসে নারাজ নেহি জিন্দেগি’ গানটি লতা মঙ্গেশকরকে দিয়েও গাওয়ানো হয়।
লতার কণ্ঠে গাওয়া সেই গান স্বাভাবিক ভাবেই জনপ্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু একই সঙ্গে অনুপ ঘোষালের গাওয়া গানটিও মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। অনেকে মনে করেন, তাঁর গলায় কিশোর কুমার আর হেমন্তের স্বরের যেন সঙ্গম ছিল। ওই গানের পর সেই সময়ে অনুপ ঘোষালের পরিচিতি রাতারাতি বেড়ে যায়। বাপ্পি লাহিড়ী তাঁকে দিয়ে ‘শপথ’ এবং আরও একটি হিন্দি ছবিতে গান গাইয়েছিলেন। তবে সেই সব গান জনপ্রিয়তা পায়নি। ডেবিউ ম্যাচে শতরানটাই রয়ে গিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।