
শেষ আপডেট: 1 March 2024 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই বিয়ে। দীর্ঘদিনের বান্ধবী রাধিকা মার্চেন্টের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন ধনকুবের মুকেশ আম্বানির কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানি (Anant Ambani Wedding)। অনন্ত-রাধিকা প্রি-ওয়েডিংয়েই রাজকীয় আয়োজন চলছে। দেশ-বিদেশে খ্যাতনামা ব্যক্তিরা আসছেন বিয়েতে। এলাহি সে বিয়ে নিয়ে একেবারে হইহই ব্যাপার। বিয়ের নানা কাজে এমনকী মেনু সিলেকশন, অতিথি আপ্যায়ণ সবেতেই অনন্ত আম্বানি বেশ অ্যাকটিভ। শুধু বাধ সেধেছে তাঁর ওজন। বাগদানের সময় ছিপছিপে অনন্তকে (Anant Ambani Wedding) দেখে অবাকই হয়েছিলেন সকলে। কীভাবে এত তাড়াতাড়ি রোগা হয়েছিলেন অনন্ত আম্বানি সেই নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়। সামনে আসে অনন্তর ডায়েট, রোজের কাজকর্ম, ব্যায়াম, খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু সেই রোগা, ছিপছিপে চেহারাটা আর ধরে রাখতে পারলেন না আম্বানি-পুত্র। কেন?
ধনকুবেরের ছেলে মানেই কোনও জটিল সার্জারির মধ্যে দিয়ে গেছেন বা ওষুধপত্র খেয়ে ওজন কমিয়েছিলেন, তেমনটা একেবারেই নয়। বরং অনন্তর ১০৮ কেজি ওজন কমার কারণ ছিল তাঁর নিয়ম মেনে সুষম ডায়েট ও শরীরচর্চা। অনন্ত নিজেই জানিয়েছিলেন, অনেক পরিশ্রম করে ১৮ মাসে ১০৮ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন তিনি। কোনওরকম সার্জারি বা লাইপোসাকশানের ধার ধারেননি। লাইফস্টাইল মডিফিকেশনই ছিল তাঁর দ্রুত মেদ ঝরানোর উপায়। তাহলে আবার আগের জায়গায় ফিরে গেলেন কীভাবে? আবারও এতটা ওজন ঝট করে বেড়ে গেল কীভাবে?
কেন ওজন বাড়ল অনন্ত আম্বানির?
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অনন্তর (Anant Ambani Wedding) মা নীতা আম্বানি। নীতা বলছেন, তাঁর ছেলের সিভিয়ার হাঁপানি আছে। হাই ডোজে স্টেরয়েড নিতে হয়। এত বেশি স্টেরয়েড নেওয়ার কারণেই ওবেসিটি হয়ে গেছে অনন্ত আম্বানির।
শরীরের প্রয়োজন অনুসারে স্টেরয়েড তৈরি না হলে বা তৈরি হওয়া বন্ধ হলে, প্রেশারে সমস্যা হবে, খিদে কমে যাবে, এমনকি চেহারাও ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে দেখা দেয় নানা রোগের প্রকোপ। অটো ইমিউন রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা, সিওপিডি, হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে বছরের পর বছরও স্টেরয়েড দিতে হতে পারে। অনন্ত আম্বানির সিভিয়ার অ্যাজমা আছে। অ্যাজমা অ্যাটাকও হয় তাঁর। তাই কড়া ডোজে স্টেরয়েড খেতে হয় অনন্তকে। নীতা বলছেন, ওরাল স্টেরয়েডের ডোজ মাঝে মাঝেই বাড়িয়ে দেন ডাক্তাররা। অ্যাজমা অ্যাটাক হলে হাসপাতালে যান না অনন্ত। বাড়িতেই ডাক্তাররা এসে চিকিৎসা করেন তাঁর। সেই সময় কড়া ডোজে স্টেরয়েড খাওয়ানো হয়। আর স্টেরয়েড খেলে খিদেও বেড়ে যায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
স্টেরয়েডের যেমন ভাল দিক আছে, তেমনই কিছু খারাপ দিকও আছে। এবং সে দিকটি সম্পর্কে বিশেষ সচেতনতা জরুরি। স্টেরয়েড বহু দিন ধরে খেলে ওজন বেড়ে যায়, খিদেও বাড়ে। অনেক সময়ে দেখা গিয়েছে কেউ হয়তো ওজন বাড়াতে চান, তাঁকে স্টেরয়েড দিয়ে ওজন বাড়ানো হল। ডাক্তারবাবুরা বলেন, অ্যাজমা বা হাঁপানির রোগীরা সাধারণ শ্বাসকষ্টের ওষুধে যতটা না উপকার পান, স্টেরয়েড দিলে রিলিফ পাবেন তাড়াতাড়ি। আসলে স্টেরয়েড ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিন্তু এর সাইড এফেক্টস মারাত্মক। দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড নিতে থাকলে তার নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার মধ্যে একটা হল দ্রুত ওজন বৃদ্ধি। অনন্ত আম্বানি এই কারণেই ওজন কমানোর পরেও তা ধরে রাখতে পারেননি।