
শেষ আপডেট: 12 September 2021 18:41
ডেস্টিনেশন সেলিব্রেশনের মাধ্যমে যে ব্যান্ডের জন্মদিন পালন করা যায় সেক্ষেত্রে ক্যাকটাস কি পথ প্রদর্শক?
সিধু-(খুব হেসে) জানি না। এভাবে অন্য কোনও ব্যান্ড আগে সেলিব্রেশন করেছেন কিনা আমার জানা নেই। খুব সম্ভবত নয়। অনেকে নানাভাবে সেলিব্রেশন করে থাকেন। সেদিন শংকরপুরের নেস্ট হোটেলে ক্যাকটাস ব্যান্ডের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় ৮০-৯০ জন বন্ধু-বান্ধব ও তাঁদের পরিবার নিজেরাই বাস বুক করে গেছিলেন। খরচের দিকে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। প্রচুর আনন্দ, মজা হয়েছে যা সত্যি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে এভাবে সেলিব্রেশন করার পেছনেও একাধিক কারণ ছিল।
সেটা কী?
সিধু- প্রথমত সতেরো বছর পর সিধু-পটার রিইউনিয়ন। দ্বিতীয়তঃ ২০২১ জানুয়ারি মাসে সিধু, পটা নতুনভাবে নতুন মিউজিশিয়ানদের নিয়ে ক্যাকটাস পুনর্গঠন করল। তৃতীয়তঃ সেইসঙ্গে 'ছিঃ ছিঃ ছিঃ' অ্যালবাম লঞ্চিং অনুষ্ঠান। সবমিলিয়ে সতেরো বছর পর যে ঘটনা ঘটল তার তো একটা আবেগ থাকেই।
সতেরো বছর পর সিধু-পটার লাইভ কনসার্ট দেখে দর্শক শ্রোতাদের থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া পেলেন?
সিধু- (খুব হেসে) বারবার বলব নস্টালজিয়া। নস্টালজিয়া। নস্টালজিয়া। পনেরো-কুড়ি বছর আগে সিধু-পটা জুটির যাঁরা পারফরম্যান্স দেখেছেন তাঁরা তখন ছিল কলেজ স্টুডেন্ট। আজ ১৫ বছর পর তাঁরা যখন আমাদের লাইভ কনসার্ট দেখলেন সঙ্গে রয়েছে তাঁদের পরিপূর্ণ পরিবার। সেদিনের স্মৃতির সরণি বেয়ে তাঁরা পৌঁছে গেছিলেন অতীতে। সেইসব কথা তাঁরা বারবার এসে বলছিলেন। ফলে নস্টালজিয়া ফ্যাক্টর আমাকে ভীষণভাবে ডমিনেট করেছে।
ব্যান্ডের সাত সদস্যের টিশার্টে লেখা ছিল 'এখনো সব মেনে নিচ্ছি?' এই প্রশ্নসূচক চিহ্ন কাদের উদ্দেশ্যে?
সিধু- এটা নিজেদের উদ্দেশ্যে। 'নিচ্ছি' কথার মধ্যে একটা আত্মদর্শন বা আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে। চারপাশে এমন অনেক কিছু ঘটনা ঘটছে যা মেনে নেওয়া যায় না। তবুও আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এগুলোকে মেনে নিচ্ছি। আর আত্মদর্শন এবং আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেই 'ছিঃ ছিঃ ছিঃ' গানের প্রস্তাবনা।
'ছিঃ ছিঃ ছিঃ' গান শুনেই বোঝা যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীর্যক ভঙ্গিতে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। এটা কি সচেতনভাবে?
সিধু- সচেতনতা যে কোনও নাগরিকের একটা সম্পদ। চারপাশে সামাজিক অবস্থান বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সাধারণ নাগরিকের মধ্যে সচেতনতা থাকা উচিত। কিন্তু এই যে গানের কথার মধ্যে যে বহিঃপ্রকাশ তা যতটা সচেতন, তার থেকে অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত। কারণ সারা পৃথিবীতে যা যা ঘটছে সেগুলো দেখে সাধারণ নাগরিকের মনের মধ্যে একটা নৈরাশ্য আসে। কখনও ট্রাম্প বনাম বাইডেন, কখনও ইজরায়েল বনাম প্যালেস্টাইন, কখনও আফগানিস্তান বনাম তালিবান, কখনও জনগণ বনাম সরকার। এই যে টানাপোড়েনগুলো যা আমরা দেখছি, শুনছি তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। তবুও আমরা মেনে নিচ্ছি। সেই জায়গা থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে 'ছিঃছিঃ ছিঃ' গানটা এনেছি।
পটার ক্যাকটাস ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনে আসল কারণ কী ছিল?
সিধু- পটার দু'বার চলে যাওয়া, এবার নিয়ে তৃতীয়বার ফিরে আসা। প্রথমবার চলে যাওয়ার পেছনে মিউজিক্যাল ডিফারেন্স ছিল। ফোক মিউজিকের প্রতি পটার দুর্বলতা বা ঝোঁক ছিল। আমরা ফোকের দিকে ঘেঁষতে চাইনি। দ্বিতীয়বার পটার চলে যাওয়ার পেছনে কারণ ছিল দলের কয়েকজনের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত। বাংলা বিগ বসের জন্য পটা ডাক পায়। ও তিন-চার মাসের ছুটি চেয়েছিল। ক্যাকটাসের বাকি তিন-চারজন সদস্য ছুটি দিতে রাজি ছিলেন না। এবারে পটা তৃতীয়বার ফিরে এল।
সিধু-পটা 'এসো বন্ধু' নামে স্টেজ শো করেছেন তবে ক্যাকটাস পুনর্গঠনের চেষ্টা আগে করলেন না কেন?
সিধু- আমার আর পটার ভক্তদের অনুরোধে 'এসো বন্ধু 'নামে বেশ কিছু শো আমরা দুজনে করেছি। তখন ক্যাকটাসের ট্যোটাল টিম একদিকে, আবার অন্যদিকে পটার 'মরুদ্যান' ব্যান্ড রয়েছে। সেটাও তখন ভালো চলছে। ২০২০ তে যখন দেখলাম ক্যাকটাস আর কাজ করছে না, কোনও সদস্যই উদ্যোগী নয়, তখন পটার সঙ্গে বিশদে আলোচনা করি। এরপর ২০২১ জানুয়ারি মাসে ক্যাকটাস পুনর্গঠিত হল। ক্যাকটাসের নতুন সদস্যরা সবাই 'এসো বন্ধু' টিমের। 'ক্যাকটাস' এবং 'এসো বন্ধু' মিলিতভাবে এখন ক্যাকটাসের মোট সদস্য সংখ্যা সাত জন।
ক্যাকটাসের ২৯ বছরের জার্নি কেমন ছিল?
সিধু- ম্যাজিকাল। জাদুর ছোঁয়া বলব, নাকি ঘোর অথবা পাগলামি, কী বলব জানা নেই। শুধু যে আনন্দ ছিল তা নয়। অনেক দুঃখকষ্ট, মনোমালিন্য, বাকবিতণ্ডা, ছাড়াছাড়ি, রিইউনিয়ন, অনেক চড়াই উতরাই পেরতে হয়েছে। এত বছরের একটা ব্যান্ড তার মধ্যে যে পরিবর্তন হবেনা, সেটা তো অসম্ভব ঘটনা। অনেক কিছু পাল্টেছে। পাল্টেছে বলাটা যত সহজ, অভিজ্ঞতা তার থেকে অনেক বেশি কঠিন। সবসময় যে আনন্দ সাগরে ভেসে গেছি তা নয়। তবুও বলব ক্যাকটাস না হলে জীবন চূড়ান্ত ব্যর্থ হত।
রক মানেই তো যন্ত্রের জগঝম্প, উদ্ভট সাজগোজ- এই যে চিরাচরিত কিছু ধারনা তাকে উপেক্ষা করে বাংলায় পেশাদার রক ব্যান্ড হিসেবে সকলের কাছে পৌঁছানো কতটা কঠিন ছিল?
সিধু- (একটু ভেবে) সহজ পথ ছিলনা তো ঠিকই। আর সেই পথ অতিক্রম করার কোনও ফর্মুলা জানা ছিল না। তবে কীকরে ভাল করব সেই প্রচেষ্টা তো ছিলই। বিচিত্র পোশাক, মাথা ঝাঁকানো, যন্ত্রের জগঝম্প এসব কিন্তু বাহ্যিক। রকের ভেতরে যে প্রকাশের তীব্রতা থাকে, সেটা সাধারণ মানুষের থেকে আমরা অনেক বেশি বুঝতে পারতাম। সেজন্য রকের ভেতরের সারমর্মকে আরেকটু বেশি করে তুলে ধরার প্রয়াস আমাদের মধ্যে ছিল। সে ব্যাপারে আমরা সকলেই খুব যত্নশীল ছিলাম। আর আমাদের এই কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল 'হলুদ পাখি'। মানুষ 'হলুদ পাখি'র প্রেমে পড়ে গেছিলেন। আর সে কারণে তাঁরা 'ক্যাকটাস'কে ভালোবেসে ফেলেছিলেন।
'হলুদ পাখি' গানের কথা ও কম্পোজিশন আপনার। কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই গানের কথা লিখতে আপনি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন?
সিধু- আমার বারান্দার সামনে একতলা বাড়ি ছিল। সেই বাড়ির বাগানে জামরুল গাছ ছিল। আর সত্যিই সেখানে অন্য সময় খেয়াল না করলেও স্কুলের গরমের ছুটির সময় দেখতাম দুপুরবেলায় হলুদ পাখির আনাগোনা, ডালে ডালে খেলে বেড়ানো। এসব দেখে আমি বড় হয়েছি। আমার বয়ঃসন্ধির শেষের দিকে সেই বাড়ি প্রোমোটারের হাতে চলে যায়। জামরুল গাছ নিঃশেষ হয়ে যায়। সেইসঙ্গে হলুদ পাখির আনাগোনাও বন্ধ হয়। আমি নিষ্পাপ, সরল, মিষ্টি দুনিয়া থেকে এক অন্য পৃথিবীতে গিয়ে পড়লাম। যেখানে সামাজিক ঘর্ষণ বেশি। কোথায় যেন হারিয়ে গেল আমার সেই শৈশব-সারল্য। ক্যাকটাস ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশের অনেক আগেই এরকম একটা সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই গানের কথা লেখা ও কম্পোজিশন করা।
লেখালেখির অভ্যাস কী ছেলেবেলা থেকেই?
সিধু- আমি সেন্ট লরেন্স স্কুলে পড়তাম। বাংলায় আমাদের ক্রিয়েটিভ রাইটিং করানো হত। সেখান থেকেই লেখার ঝোঁক। প্রচুর স্কুল ম্যাগাজিনে কবিতা লিখেছি। সেই থেকে শুরু।
ক্যাকটাস ব্যান্ডের গানের রচনা ও কম্পোজিশন বেশিরভাগই তো আপনারই?
সিধু- 'ক্যাকটাস', 'রাজার রাজা', 'তবুও ঠিক আছে' এই অ্যালবাম ছাড়া বাকি সব অ্যালবামের গানের রচনা এবং কম্পোজিশন আমার।
গানের শুরু কীভাবে?
সিধু- নারা বেঁধে আমি গানের ট্রেনিং নিইনি। গানবাজনার পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবা পেশায় ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও উনি খুব ভালো ভায়োলিন বাজাতেন। মা গান গাইতেন। তিন দিদি গান করেন। সেখান থেকে গানের শুরু। তবে বাড়িতে রক মিউজিকের চল ছিল না। বন্ধু-বান্ধবদের থেকে রক মিউজিক শুনে রকের প্রতি আকৃষ্ট হই।
ডাক্তারি পেশা ছেড়ে আপনি গানের জগতে এলেন কেন?
সিধু- আমারও চিন্তাভাবনা ছিল যে ডাক্তারি হবে আমার পেশা আর মিউজিক হবে ভালোবাসা। সেভাবে শুরু করেছিলাম। ১৯৯২ তে ক্যাকটাস আত্মপ্রকাশের সময় তখন আমি ডাক্তারি থার্ড ইয়ারের ছাত্র। এরপর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে আমি ডাক্তারি পাশ করলাম। সেখানে ইন্টার্নশিপ, হাউসস্টাফশিপ ট্রেনিং নিলাম। অর্থের জন্য তিন বছর উডল্যান্ডস নার্সিংহোমে ডঃ সুব্রত মৈত্রর সরাসরি অধীনে চাকরি করলাম। ডাক্তারি পোস্ট গ্রাজুয়েশনে এন্ট্রান্সে সুযোগ পেলাম। মেডিসিন নিয়ে মাস্টার ডিগ্রি করার জন্য বি আর সিং (শিয়ালদহ) হাসপাতালে সংযুক্ত হলাম। ১৯৯২ -২০০৩ এই এগারো বছরে একদিকে যেমন ডাক্তারি পেশা অন্যদিকে ব্যান্ড এই দুটোকে নিয়েই চলছিলাম। কিন্তু ক্যাকটাসের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে তখন কলকাতার বাইরে মাসে ছ' থেকে আটটা শো হত।
হাসপাতালের ডিউটি করে তা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ডাক্তারি পেশা থেকে ছ'মাসের মুলতবি নিয়েছিলাম। কিন্তু কখনই আর ওই পেশায় ফিরব না, সেই চিন্তা তখন ছিল না। ক্রমশ দেখলাম গানটাই জীবিকা হয়ে যাচ্ছে। আর একটা মানুষের তো দুটো জীবিকা হতে পারে না। কিন্তু পরবর্তীকালে ডাক্তারির মাস্টার ডিগ্রি আর কমপ্লিট করা হল না। তখন জীবিকা হিসেবে গানকেই বেছে নিলাম। আমার সিদ্ধান্তের কথা বাড়িতেও জানিয়েছিলাম।
ডাক্তারি পেশা কি আজ মিস করেন?
সিধু-সত্যি বলতে ডাক্তারি পেশাকে জীবনে খুব মিস করেছি তা একেবারেই নয়। ২০০৩ সালে ডাক্তারি পেশাকে আমি 'গুডবাই' জানিয়েছি । আঠারো বছর হয়ে গেছে। তা আঠারো বছরের মধ্যে প্রথম ষোলো বছর ওই পেশাকে ছাড়ার কোন দুঃখ ছিল না ।কিন্তু গত দু'বছরে কোভিডের কারণে যখন দেখেছি আমার বাড়ির লোকজন, আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব তাঁদের কোভিড পজিটিভ হয়েছে তখন আমি তাঁদেরকে চিকিৎসা করার চেষ্টা করেছি। তাঁদের প্রতিদিন শারীরিক পর্যবেক্ষণ করা এবং কীভাবে তা প্রতিকার করা যায় সেটা অবশ্যই আমি করেছি। সেইসঙ্গে তাঁদের বলেছি অন্য একজন ডাক্তার কে কনসাল্ট করতে। এটা এমনই একটা রোগ যে ডাক্তার রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা করেন। আর একজন রোগীর সামনে ডাক্তারের উপস্থিতিতে রোগীর মানসিক কনফিডেন্স অনেক বেড়ে যায়। সেটা মিসিং মনে হয়েছে । সেই সময় আমার মনে হয়েছে আমি যদি প্রাক্টিসিং ডাক্তার হতাম তবে আজ মানুষের কাজে আসতে পারতাম।
'নীল নির্জনে' ছবির পর 'ক্যাকটাস'কে আর অন্য কোনও ছবিতে পাওয়া গেল না কেন?
সিধু- (কিছুক্ষণ চুপ করে) সেটার উত্তর আমাদের কাছে নেই। আমাদের কাছে অফার এসেছে এবং আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি তা কিন্তু নয়। হয়তো প্রডিউসার বা ডিরেক্টরদের মনে হয়েছে যে তাঁদের ছবিতে ক্যাকটাস ফিট করবে না।
ক্যাকটাসের কম্পোজিশন নাকি ব্যক্তিগত সিধুর কম্পোজিশন কোনটাকে আপনি এগিয়ে রাখবেন?
সিধু- অবশ্যই ক্যাকটাস কে।
গায়ক নাকি অভিনেতা সিধু কোনটায় আপনি বেশি স্বচ্ছন্দ?
সিধু- অবশ্যই গায়ক। অভিনয়ের ডাক যখন টুকটাক পেয়েছি আনন্দ করে কাজটা করার চেষ্টা করেছি। সেটা মজা হিসেবেই, ব্যাস এই অব্দি।
আগামী কোন ছবিতে আপনি অভিনয় করছেন?
সিধু- জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের 'আগন্তুক' ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছি। ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায়।
ক্যাকটাসের আগামী দিনের পরিকল্পনা কী?
সিধু- আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে নতুন অ্যালবাম লঞ্চ করব। সেই পরিকল্পনা রয়েছে। এখন টাকাপয়সা সবকিছু বন্দোবস্ত করার ব্যাপার আছে (হেসে)।
এখনও সিঙ্গেল কেন?
সিধু- এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছি। মানসিক দিক দিয়ে আর বিয়ে করার ইচ্ছে নেই। এই বেশ ভাল আছি।