
সব্যসাচীকে নিয়ে অকপট ঐন্দ্রিলার মা
শেষ আপডেট: 27 December 2024 14:46
এ শহরে শীত এখনও জাঁকিয়ে পড়েনি। হলুদ-তেল গায়ে মেখে উষ্ণ রোদের আরামও যেন এবার খানিক ফিকে। তবু পৌষ এসেছে নিয়মেই। ধু ধু ময়দানের বুকে জমে থাকা কুয়াশার আস্তরণ জানান দিচ্ছে হালকা শীতের অস্তিত্ব। এরকমই এক আধো শীতেই বছর দুয়েক আগে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল স্টুডিও পাড়া। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ক্যানসার কেড়ে নিয়েছিল অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মাকে।
কবি নাজিম হিকমত বলেছেন, বিংশ শতকে শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর... সত্যিই কি তাই? কেমন আছে ঐন্দ্রিলার পরিবার? আমজনতার দরবারে 'আদর্শ প্রেমিক' আখ্যা পাওয়া সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে কি যোগাযোগ রয়েছে তাঁদের? সেই সব্যসাচী, যার প্রেমিকার শেষযাত্রায় পা জড়িয়ে তীব্র আশ্লেষে প্রগাঢ় চুম্বন দেখে দ্রব হয়েছিল মন, চোখ ভিজেছিলেন অজান্তেই। ‘দ্য ওয়াল’-এর সামনে অকপট অভিনেত্রীর মা শিখা শর্মা।
সব্যসাচী মুখচোরা। সামাজিক মাধ্যমকে বিদায় জানিয়েছেন দুই বছর আগেই। এখন তাঁর কিঞ্চিৎ দেখা মেলে বন্ধু সৌরভ দাসের সামাজিক মাধ্যমে অথবা টেলিভিশনের পর্দায়।
তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কথা উঠতেই শিখাদেবী থামলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, 'জানেন, ঐন্দ্রিলা একটা স্বপ্ন দেখেছিল। খুব ইচ্ছে ছিল একটা প্রযোজনা সংস্থা খুলবে। অনেক মানুষের ভাত-ডালের কারণ হবে সেই সংস্থা। মিষ্টি (ঐন্দ্রিলার ডাকনাম) চলে যাওয়ার পর, ওর সেই স্বপ্নকে কিন্তু আমরা মরতে দিইনি। আমার বড় মেয়ে ঐশ্বর্য একটি প্রযোজনা সংস্থা খুলেছে। আমরাও আছি এর মধ্যে। অর্থনৈতিক সাহায্য তো বটেই, বাকি যা যা দরকার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি ওদের এই প্রচেষ্টাকে দাঁড় করানোর।"
আর সব্যসাচী? মুখের কথা কার্যত কেড়ে নিয়েই শিখাদেবী যোগ করলেন, "ও আছে তো। ফোন করে। আমার বড় মেয়ের কোনও আইডিয়া দরকার হলে দেয়। তবে ক্যামেরার সামনে ওকে দেখা যায় না।"
ঠিক ছিল, ২০২৩-এই সব্যসাচীর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন। তা হয়নি। তবে কিনা সময় সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়। তাই আজ না হোক কাল, বা বছর কয়েক পর সব্যসাচীর যদি জীবন নিয়ে নতুন কিছু ভাবেন, নতুন কোনও স্বপ্ন দেখেন, জীবনে যদি উঁকি দেয় অন্য বসন্ত— এ সমাজ তাঁর 'আদর্শ প্রেমিক' ট্যাগ ছিনিয়ে নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করবে না। সে সময় 'মা' শিখাদেবী আগলে রাখবেন তো আদরের সব্যকে?
প্রশ্ন শুনেই খানিক থমকে গেলেন শিখাদেবী। কাঁপা গলায় নিজেকে সহজ রাখার আপ্রাণ তাগিদে এরপর ধীরে ধীরে বললেন, "আগামী দিনে কী হবে তা তো কেউ জানি না। আসলে সব্যকে তো চিনিই মিষ্টির সুবাদে। দু'জনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। তাই এখনই এই সব... সব্য এখনও কিন্তু মিষ্টিকেই..." কথা শেষ করলেন না শিখাদেবী। গলা ধরে এল তাঁর।
মিষ্টি নেই। তাঁর স্বপ্ন রয়েছে। তাঁর সাধের প্রযোজনা সংস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দিদি। শিখাদেবী নিজেও ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রতিদিন ওরাল কেমো নিয়েও মেয়ের স্বপ্নপূরণে শামিল হচ্ছেন তিনি। কখনও বহরমপুর, কখনও কলকাতা শর্মা পরিবারের হাত ধরে ঐন্দ্রিলার স্বপ্ন ছুটছে দুর্বার গতিতে... কবি তো বলেই গিয়েছেন, “আর সব মরে, স্বপ্ন মরে না, অমরত্বের অন্য নাম হয়।"