মুক্তির আগেই এক অদ্ভুত আলোড়ন। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই ‘বর্ডার ২’ যেন পেরিয়ে ফেলেছে কাঁটাতারের সীমারেখা।

শেষ আপডেট: 6 January 2026 19:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির আগেই এক অদ্ভুত আলোড়ন। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই ‘বর্ডার ২’ যেন পেরিয়ে ফেলেছে কাঁটাতারের সীমারেখা। যুদ্ধের ছবি মানেই আবেগ, ইতিহাস আর বিতর্ক—এই তিনের মিশেল। আর ঠিক সেই আবেগের ঢেউয়েই এক সন্ধ্যায়, এক অনলাইন কথোপকথনে, সীমান্তের দু’পাশের দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেন বরুণ ধাওয়ান।
সম্প্রতি এক ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে বরুণের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দেন পাকিস্তানের এক ভক্ত, আলি হায়দার মিরানি। অভিনন্দনের সঙ্গে তাঁর কৌতূহল—‘বর্ডার ২’ কি কখনও পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে? প্রশ্নের ভাঁজে ছিল আর এক আবেগ—‘গদর’-এর তারা সিংহের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার বার্তা সানি দেওলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধও জানাতে ভোলেননি তিনি।
বরুণ সরাসরি কোনও ঘোষণা করেননি। ছবিটি পাকিস্তানে মুক্তি পাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নীরবই থাকলেন। তবে তাঁর উত্তরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক বাস্তবতা আর এক স্বীকৃতি। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, ‘বর্ডার ২’ ১৯৭১-এর যুদ্ধ এবং তার আশপাশের কিছু সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। সেই সূত্রেই তিনি ইঙ্গিত দিলেন—সানি দেওলের জনপ্রিয়তা সীমান্ত মানে না। পাকিস্তানেও তাঁর অনুরাগী রয়েছেন, এ বিশ্বাস বরুণের কণ্ঠে স্পষ্ট।
এই মুহূর্তে ছবিটির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে। ‘ধুরন্ধর’-এর মতো নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটবে কি না ‘বর্ডার ২’, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও দেননি নির্মাতারা। কিন্তু আলোচনার আগুন ইতিমধ্যেই জ্বলে উঠেছে।
বরুণের কাছে এই ছবিটি শুধু আরেকটি প্রজেক্ট নয়, এক গভীর উপলব্ধি। তাঁর কথায়, কোনও যুদ্ধ কখনও এক জনের লড়াই নয়—তার পেছনে থাকে সম্মিলিত শক্তি, সম্মিলিত ত্যাগ। ‘বর্ডার ২’-এ সেই ভাবনাই তুলে ধরা হয়েছে—একসঙ্গে ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা। আর তার মধ্যেও, খানিক হাসি মেশানো গর্ব নিয়ে বরুণ স্মরণ করালেন—এক জন ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ তো আছেই, সানি দেওল।
সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বরুণকে শিখিয়েছে আরও এক কঠিন পাঠ। চারপাশের কোলাহল, সমালোচনা, বিতর্ক—সব উপেক্ষা করে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখাই আসল। সেই বিশ্বাসেই নাকি স্থির থাকেন সানি, আর সেটাই বরুণ নিজের ঝুলিতে তুলে নিয়েছেন।
অনুরাগ সিংহের পরিচালনায় এবং নিধি দত্তের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে সানি দেওল ও বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে রয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও আহান শেট্টি। প্রজাতন্ত্র দিবসের সপ্তাহান্তে, ২৩ জানুয়ারি, প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা ‘বর্ডার ২’-এর।
যুদ্ধের গল্প মানেই কেবল কামান-গোলার শব্দ নয়, সেখানে থাকে স্মৃতি, আবেগ, আর মানুষের অদৃশ্য সেতু। সেই সেতু কখনও এক্স-এর স্ক্রিনে তৈরি হয়, কখনও সিনেমার পর্দায়। ‘বর্ডার ২’ আদৌ সীমান্ত পেরোবে কি না, তা ভবিষ্যতের হাতে। কিন্তু এই মুহূর্তে, সানি দেওলের নামেই, বরুণ ধাওয়ানের একটিমাত্র বাক্যে, প্রমাণ হয়ে গেল—ভালোবাসা আর সিনেমা, দু’টিই সীমান্ত মানে না।