
শেষ আপডেট: 7 September 2021 18:26
কিন্তু এবার বহু যুগ পর ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ফিরছেন বাংলা ছবিতে। যা সত্যি বড় খবর, জবর খবর বৈ কী! এমনকি ছবির বেশিরভাগ শ্যুটিংও সারা হয়ে গেল সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের কসৌলীতে।
যে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অন্তরালে রাখতেই পছন্দ করতেন তাঁর কী এমন পছন্দ হওয়ায় আবার ফিরলেন বাংলা ছবিতে!
এই অভাবনীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন পরিচালক তথাগত ভট্টাচার্য। ছবির নাম 'আকরিক'।
দুই দশক আগে তথাগতর ডেবিউ ছবি 'অন্তর্ঘাত'-এ প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দেবশ্রী রায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী। ছবিটি আজও টেলিভিশনের পর্দায় ভীষণ জনপ্রিয়। মাঝে তথাগত আরও দুটি ফিচার ফিল্ম বানিয়েছেন 'সেভেন ডেজ' ও 'অস্ত্র'। গৌতম ঘোষের 'রাহগীর' ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসারও তিনি। প্রচুর শর্ট ফিল্ম ও ডকুমেন্টরি ছবিও বানিয়েছেন তথাগত। 'অন্তর্ঘাত' এর কুড়ি বছর পর আবার ভিক্টর কাজ করলেন তথাগতর 'আকরিক' ছবিতে এবং বহু যুগ পর বাংলা ছবিতে ভিক্টর।
'আকরিক' ছবিতে ভিক্টর ছাড়াও একটি মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এছাড়াও অনুরাধা রায় এবং কিশোরশিল্পী অঙ্কন মল্লিক। অঙ্গনা বসু, অনিন্দ্য সরকার, সুদেষ্ণা চক্রবর্তী, জয়শ্রী অধিকারী, অভিষেক গাঙ্গুলি প্রমুখ রয়েছেন সাথে।
ভিক্টরকে বাংলা ছবি করতে রাজি করালেন কীভাবে পরিচালক? তথাগত ভট্টাচার্য 'দ্য ওয়াল'কে জানালেন "ভিক্টর ব্যানার্জির সঙ্গে 'অন্তর্ঘাত' ছবির সময় থেকেই আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০১ সালে যে ধরনের ছবি হত তার থেকে 'অন্তর্ঘাত' সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা ছবি ছিল। সেই সুবাদেই কুড়ি বছর পর আবার ওঁর সঙ্গে কাজ করছি। প্রথম যখন ওঁকে 'আকরিক' ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব দিলাম এক কথাতেই উনি হ্যাঁ বলেছেন। আমার উপর সেই আস্থাটা ভিক্টরদার নিশ্চয়ই আছে, তাই করতে রাজি হলেন। 'আকরিক' একদম আর্টিস্টিক ছবি, কর্মাশিয়াল ছবি নয়। ভিক্টরদা এবং একটি বাচ্চাকে ঘিরে গল্প। বাঙালিদের যৌথ পরিবার ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে। তার জায়গায় দখল নিচ্ছে অনু-পরিবার। সেটাও ছোটো হয়ে যাচ্ছে সিঙ্গল মা বাবার পরিবারে। ছবিতে ঋতুপর্ণা করছেন সৃজিতার চরিত্র যিনি একজন বিখ্যাত লেখিকা ও সিঙ্গল মাদার।
সৃজিতার কিশোর ছেলে একা একাই তাই ক্রিকেট খেলে। যা একাকীত্বের প্রতীক। তখনই ছেলেটির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এক বৃদ্ধ অরুণাভবাবুর। এই ভূমিকায় অভিনয় করছেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে রয়েছেন অনুরাধা রায়।
যাদের ছোটবেলা যৌবনবেলা কেটেছিল যৌথ পরিবারেই। কিন্তু তাঁরাও আজ একা। সেই বৃদ্ধ দম্পতির একাকীত্বে নাতির মতো হয়ে এল এই কিশোরটি। সেও ঠাকুরদা ঠাকুমার ভালোবাসা খুঁজে পায়। পাহাড়ি এলাকায় দুটো পরিবারের একটি পরিবার হয়ে ওঠার গল্প অথচ যাদের মধ্যে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। গোটা বিশ্বে যৌথ পরিবার ভেঙে যেসব বাঙালিরা ছড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের কাছেও এক বিশেষ বার্তা দেবে এই ছবি।"
তবে কিছুদিন আগে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত ‘থিঙ্কিং অফ হিম’ নামক একটি ছবি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। এই ছবিতে ভিক্টরকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল এবং অপূর্ব মানিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ রূপে।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানাচ্ছেন “সবকিছুকে ছাপিয়ে এই সিনেমা আমার কাছে একটি পুনর্মিলনের মত। ভিক্টরদার সঙ্গে এর আগে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছি তার মধ্যে অন্যতম প্রভাত রায়ের ‘লাঠি' এবং 'তুমি এলে তাই'।
[caption id="attachment_2358160" align="aligncenter" width="351"]
'লাঠি'তে ভিক্টর[/caption]
পরে আরও অনেক ছবি করেছি ওঁর সঙ্গে। ভিক্টর ব্যানার্জি একজন দারুণ অভিনেতার পাশাপাশি একজন খুব ভালো মনের মানুষ। একজন জ্ঞানী মানুষ। তার সঙ্গে আরও একবার সিনেমার পর্দায় কাজ করতে পেরে আমি খুবই খুশি। অনুরাধাদির সঙ্গেও অনেকদিন পর কাজ করলাম খুব ভালো লাগল।"
[caption id="attachment_2358152" align="aligncenter" width="600"]
পরিচালকের সঙ্গে ভিক্টর-ঋতু[/caption]
ঋতুপর্ণার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পরিচালক তথাগত জানালেন "ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি এটি। কিন্তু আমাদের পরিবারের সঙ্গে ওঁর পরিচিতি অনেকদিনের। উনি একটা ছবি করেছিলেন 'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান' বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর। সেই ছবির প্রযোজক ছিলেন আমার দাদা আর্য ভট্টাচার্য। উনি স্বর্ণকমল পুরস্কারও পেয়েছিলেন। আর্যদা আমার প্রথম ছবি 'অন্তর্ঘাত'-এর প্রযোজকও। যেমন চেয়েছিলাম ঠিক সেরকমভাবেই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলেছেন ঋতুপর্ণা। স্মার্ট আধুনিকার রোল অসম্ভব ভালো করেছেন। আরও বলব অঙ্কন ছেলেটি ম্যাজিকের মতো অভিনয় করেছে, ওকে ঘিরেই গল্পটা।"
এত বছর পর ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা ফিট? তথাগত বললেন "ভিক্টরদার সঙ্গে কুড়ি বছর পর কাজ করছি, কিন্তু মনে হচ্ছে গতকালই কাজ করে এলাম। এখন উনি অনেকটাই বয়স্ক মানুষ কিন্তু চেহারায় বা এনার্জিতে বয়সের ভারের প্রতিফলন নেই। টানা যেভাবে উনি দশদিন কাজ করে গেলেন তা অভাবনীয়। কসৌলীর পাহাড়গুলোর উপরে শ্যুট ছিল আর নীচে ছিল মেকআপ ভ্যান বা খাবার ব্যবস্থা। ভিক্টরদা এই যে পাহাড়ে উঠছেন, নামছেন এত বয়সে তাতে ওঁকে কখনও না করতে দেখলাম না বা কোন অসুস্থতাও বোধ করেননি। প্রতিদিন কলটাইমের পনের মিনিট আগে আসছেন। অসাধারণ ডিসিপ্লিনড মানুষ। কলকাতাতেও কদিন শ্যুট করবেন ভিক্টরদা।"
বাংলা ছবির গণ্ডি ছাড়িয়ে হিন্দি ইংরাজি বিদেশি ছবিতেও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু তাঁকে সে অর্থে ব্যবহার করেনি ইন্ডাস্ট্রি। তাই হয়তো কিছুটা অভিমানেই অন্তরালে ছিলেন। কিন্তু আবার পছন্দের চিত্রনাট্যে তিনি বাংলা ছবিতেই ফিরলেন। আরও নতুন ভূমিকায় ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখার অপেক্ষা।