
সলমন খান
শেষ আপডেট: 26 July 2024 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৪ এপ্রিল অভিনেতা সলমন খানের বাড়ির বাইরে গুলি চালায় দুই যুবক। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যে বিশেষ আদালতে ১৭৩৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে পুলিশ। সেই চার্জশিটে আগেই উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সলমন খানকে ভয় দেখানোই মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্যাংস্টারদের। এবার আরও একটি তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ দাবি করেছে, হামলাকারী দুজনকে 'মোটিভেট' করার জন্য ৯ মিনিটের স্পিচ দিয়েছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল।
মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, দুই বন্দুকবাজ ভিকি গুপ্তা এবং সাগর পালকে ৯ মিনিট ধরে অনেক কিছু বুঝিয়েছিল আনমোল বিষ্ণোই। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বলা হয়েছিল, এমন কাজ করলে তারা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে। শ্যুটার এবং আনমোল বিষ্ণোইয়ের মধ্যে কথোপকথনের অডিও ক্লিপগুলিই সামনে এসেছে। তাতে ওই দুজনকে বলা হয়েছে, এই কাজ তাদের সারা জীবনের সেরা কাজ হতে চলেছে।
শুধু তাই নয়, তাদের 'মোটিভেট' করার জন্য ধর্মের নামেও বার্তা দিয়েছিল আনমোল। চার্জশিট অনুযায়ী, দুই শ্যুটারকে বলা হয়েছিল তারা এই কাজ করলে সমাজে পরিবর্তন আসবে। তাই কোনও ভয় পাওয়ার দরকার নেই। একটি অডিও ক্লিপে এও শোনা যায়, আনমোল বিষ্ণোই দুজনের উদ্দেশে বলছে, ''আমাদের একটা স্টাইল আছে। যেখানেই যাই বন্দুকের ম্যাগাজিন খালি করে আসি। তোমরাও সলমনের বাড়ির সামনে গিয়ে তাই করবে।'' চার্জশিট অনুযায়ী, শ্যুটারদের নির্ভীক দেখানোর জন্য হেলমেট না পরতে এবং ধূমপান করতে বলেছিল বিষ্ণোই।
পাশাপাশি চার্জশিটে এও দাবি করা হয়েছে, আনমোল বিষ্ণোই অভিনেতার বাড়িকে লক্ষ্য করে শ্যুটারদের একাধিক গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। শ্যুটারদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলা হয়, "এমনভাবে গুলি চালাতে হবে যেন ভাই (সলমন) ভয় পেয়ে যায়। শরীরী ভাষায় যেন না থাকে ভয়।'' ২৪ বছর বয়সি ভিকি গুপ্ত ও ২১ বছরের সাগর পাল গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদেরকে তুলে দেওয়া হয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। জেরার মুখে তারা স্বীকার করে যে, গুলি চালানোর পর তারা নদীতে ফেলে দিয়েছিল বন্দুক। সেই মতো পরে নদী থেকে উদ্ধারও করা হয় দু'টি বন্দুক ও তিনটি ম্যাগাজিন।
১৭৩৫ পাতার চার্জশিটে সলমনের জবানবন্দিও রাখা হয়েছে। সলমন জানিয়েছেন, ''লরেন্স বিষ্ণোই আমাকে এবং আমার পরিবারকে শেষ করে দিতে চায় বলে আমার বিশ্বাস। সেই উদ্দেশেই আমার বাড়িতে গুলি চালানো হয়েছিল। আমি যদি সেদিন ঘরের ভিতরে না থেকে বারান্দায় থাকতাম, তাহলে আমিও খুন হয়ে যেতাম।''