
শেষ আপডেট: 27 January 2024 23:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতটা ছেড়ে গেল। আদুরে ডাকে স্নেহের পরশ দিতে আর আসবে না ‘দিদি’। এত মমতা, এত স্নেহ, এত শক্তি—কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শ্রীলা মজুমদারের প্রয়াণ একবুক কষ্ট দিয়েছে তাঁকে। ঋতুপর্ণা বলছেন, “আমার দিদি চলে গেল। মনে হয় না কখনও বলতে পারব যে দিদি চলে গেছে। কারণ দিদি এতটাই শক্তি আর এতটাই শক্তি দিয়ে গেছেন যে সারাজীবন তা চলার পথ দেখাবে।”
শেষ জীবনে শ্রীলা মজুমদারের হাত শক্ত করে ধরেছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা। অভিনয়ের সূত্রে কাছাকাছি আসা, তারপর যেন স্নেহের বাঁধনে বাঁধা পড়েছিলেন ঋতুপর্ণা। কিংবদন্তী শিল্পী তখন বাংলার স্বর্ণযুগের প্রথিতযশা অভিনেত্রী নন, তিনি যেন মমতাময়ী এক ‘দিদি’। হাতটা শক্ত করে ধরে যিনি সাহস দিতে পারেন সবসময়। ঋতুপর্ণা বলছেন, “দিদি সবসময় বলতেন, ঋতু তুমি কখনও থামবে না, কখনও ভাঙবে না। তুমি সবসময় এগিয়ে যাবে। যত প্রতিকূলতাই আসুক।” সারাজীবন এই কথাগুলো কানে বাজবে।
ঋতুপর্ণা বলছেন, শ্রীলা মজুমদারের অভিনয়ের ছটা দিকে দিকে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক মানের কাজ করেছেন মৃণাল সেনের মানসকন্যা। কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেনের ৬টা ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীলা। একেক ছবিতে একেক রকম চরিত্র। প্রতিবার নিজেকে ভেঙেগড়ে তৈরি করেছেন। মৃণাল সেনের ‘পরশুরাম’ ছবির হাত ধরে তাঁর অভিনয় জগতে পা রাখা। কেবল মৃণাল সেন নন, শ্যাম বেনেগালের মতো পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করেছেন শ্রীলা। কাজ করেছেন শাবানা আজ়মি, নাসিরউদ্দিন শাহের সঙ্গে। শ্রীলা বলেছিলেন, তাঁকে অভিনেত্রী করে তুলেছিলেন সেন দম্পতি। কখনও যেন তাঁরাই অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন শ্রীলার। মৃণাল সেন পরিচালিত ‘পরশুরাম’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘খারিজ’, ‘খণ্ডহর’ ছবিতে শ্রীলা মজুমদারের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। শ্যাম বেনেগালের ‘আরোহণ’, ‘মাণ্ডী’ বা উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর ‘চোখ’ ছবিতে কাজ তাঁর অভিনয় জীবনের মাইলফলক৷
“আরও তো অনেক পথ চলা বাকি ছিল...” ঋতুপর্ণা বলছেন, শ্রীলা মজুমদারের মতো অভিনেত্রী অভিনয় জগতে বিরল। শ্রীলা মজুমদার একজনই ছিলেন, থাকবেন। “ঋতু জানিস আমি ভাল হয়ে যাব। আর তো ক’টা দিন, ডাক্তার রেস্ট নিতে বলেছেন। একসঙ্গে অনেক ছবি করব, অনেক অনুষ্ঠান করব”, শ্রীলা মজুমদারের শেষ ক’টা কথা ভুলতেই পারছেন না ঋতুপর্ণা। অভিনয় জগতে কয়েকজনের উপর অভিমান ছিল ঠিকই, কিন্তু হাসিমুখে লড়াই করতে জানতেন শ্রীলা মজুমদার। ক্যানসারের মতো মারণ রোগের সঙ্গেও যুদ্ধ করে গেছেন গত তিন বছর ধরে। ‘ভুবন ভোলানো সেই কণ্ঠস্বর আর কারও হবে না’..ঋতু বলছেন, নশ্বর দেহে না হোক, দিদি হয়ে আজীবন সঙ্গে, স্মৃতিতে থেকে যাবেন শ্রীলা মজুমদার।